রাজনৈতিক হত্যা, জুলুম নির্যাতন ও জুলাই চব্বিশের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই

৭ জুন ১৯৮৭ রবিবার রাতে আমার এম এ ফাইনাল পরীক্ষার শেষ দিন হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল গেটের সামনে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা খুনী এরশাদের পেটোয়া বাহিনী চলন্ত মটর সাইকেলের উপরে গুলি করলেও আল্লাহ পাকের অশেষ দয়ায় সে যাত্রায় বেঁচে যাই। হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল শাখা জাসদ ছাত্রলীগের শেল্টারে থাকা খুনিদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিল তৎকালীন জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু।
একে রিমাইন্ডে এনে জিজ্ঞাসা করলে, সেদিনের সব রহস্যের জট উন্মোচিত হতে পারে। ইনু মেনন তখন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের খয়ের খাঁ। তখন বাজারে খুব চাউর ইনু মেনন সকালে এরশাদ সাহেবের সঙ্গে ব্রেকফাস্ট সেরে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে বিকেলে প্রেস ক্লাব কিংবা জনসভায় দাঁড়িযে জ্বলময়ী বক্তৃতা করেন; এসবই নষ্ট রাজনীতির বরপুত্র।
ঘটনার সূত্রপাত যেখান থেকে শুরু। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দফতর তখন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের কাশেম বাজার কুটির ও প্রধান দপ্তর। এখান থেকেই সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও রাষ্ট্র পরিচালনা রিমোট করা হতো। এই কাশেম বাজার কুটির থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের হত্যা ও গ্রেফতারের নীল নকশা তৈরি হয়।
যেখানে বসে তৎকালীন জাতীয় পার্টি ও নতুন বাংলা সমাজ এবং বিএনপির দলছুট এমপি মন্ত্রী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নামধারী কিছু কুলাঙ্গার ও এরশাদের খয়ের খাঁ শিক্ষ্য প্রতিমন্ত্রী ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা সবাই মিলে এই মিশনটা একমপ্লিশ করেছেন। মূলত সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এইসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।
১৯৮৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মিরপুর রোড ধানমন্ডি কলাবাগান এলাকায় ছাত্রদলের মিছিলে হামলা করে জালাল আহমেদকে কারা সেদিন ক্যান্টনমেন্টে তুলে নিয়েছিল ও তাঁকে মাত্র ৭ দিন সময় দেয়া হয়েছিল এবং শেষপর্যন্ত জালাল আহমেদ বেগম খালেদা জিয়ার সাথে ২২ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনার ও আজিমপুর কবরস্থানে দোয়া অনুষ্ঠান শেষ করে দেশনেত্রীকে গাড়িতে তুলে দিয়ে বিদায় নেয়ার পরদিন অর্থাৎ ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল।
জালাল আহমেদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় ২৩ ফেব্রুয়ারি ও তার ১৫ দিন পরে অর্থাৎ ৯ মার্চ হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে বোমা হামলার নাটক সাজিয়ে মাহবুবুল হক বাবলু ভাইকে হত্যা করে এরশাদের পেটোয়া বাহিনীর চৌকশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সবচেয়ে দু:খের বিষয় হচ্ছে দল বারবার ক্ষমতায় আসলেও বাবলু ভাইয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পোষ্ট মোর্টেম রিপোর্ট কিংবা তদন্ত আজও পর্যন্ত শুরু করা সম্ভব হয়নি।
ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও অবহেলিত ছাত্র নেতা মাহবুবুল হক বাবলু হত্যার বিচার দাবি করছি। প্রতি বছরের মতো এবারও ৯ মার্চ মাহবুবুল হক বাবলু ভাইয়ের মৃত্যু বার্ষিকী চলে গেছে। গত ৩৯ বছরে ধরে আমরা একই দৃশ্য দেখে এসেছি। দল বারবার ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে মাহবুবুল হক বাবলু ভাইয়ের হত্যার বিচারের উদ্যোগ নেয়নি আজও এই দলটি।
বন্ধু ইলিয়াস আলী ও মাইনুদ্দিনসহ সকল রাজনৈতিক হত্যা, গুম, খুন ক্রসফায়ারে মানুষ হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ ও সকল গুমের ঘটনা ও পিলখানার ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার হত্যার মতো হ্নদয় বিধারক ঘটনা, শাপলা চত্বরের নিরীহ নির্দোষ ও ঘুমন্ত আলেম ওলামা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী গত ৫৫ বছরের সকল রাজনৈতিক হত্যা, জুলুম নির্যাতন ও জুলাই চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।(ঢাকাটাইমস/৮ এপ্রিল/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































