নাজমুস সাকিবের ফেসবুক পোস্ট
তারেক রহমান কেন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুকে এতটা ভালোবাসেন?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সম্পর্ক প্রায় কয়েক যুগের পুরোনো। তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সচিব হিসেবে নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু কাজ করেছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ের পথ-পরিক্রমায় তাদের এই সম্পর্ক এবং পারস্পরিক আস্থা বর্তমানে এক অনন্য উচ্চতায় রয়েছে। মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বর্তমানে শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের হুইপ। পাশাপাশি তিনি দৈনিক কালবেলা পত্রিকার প্রকাশক। অথচ নিজে একটি প্রভাবশালী মিডিয়ার মালিক হওয়া সত্ত্বেও; প্রচারবিমুখ এক ব্যক্তিত্ব মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। মূলত এ কারণেই বিএনপির রাজনীতির সাথে যারা অত্যন্ত ঘনিষ্টভাবে পরিচিত নয়, তারা মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর এই রাজনৈতিক প্রভাবের রহস্য কি, সেই প্রশ্ন প্রায়শই তুলেন। আজকের এই লেখায় আমি এই প্রশ্নের উত্তর আপনাদের দিবো।
তারেক রহমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং বিশ্বস্ত মানুষের তালিকা করলে একেবারে শুরুতেই হাতেগোনা যেই কয়েকজন মানুষের নাম থাকবে, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু তাদের মাঝে অন্যতম। ২০১৮ এর রাতের ভোটের নির্বাচনে অংশ নিতে শরীয়তপুর-৩ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। ওই ধরণের বৈরী পরিবেশে তারেক রহমানের এতটা কাছের একজন মানুষের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটা রীতিমত আত্মহত্যা করার মতো একটা ব্যাপার ছিল। কিন্তু নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করেই; নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস দেখিয়েছিলেন।
হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগেই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার প্ল্যান করেছিল। ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে তিনি হামলার শিকার হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। তাকে বীভৎসভাবে মাথায় কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ভেবেছিলো অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি হয়তো মারা যাবেন। কিন্তু অলৌকিকভাবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। তবুও আওয়ামী লীগের নিষ্ঠুরতা কমে নি। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষ করার আগেই ৪ জানুয়ারি ভুয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে নেয়া হয়।
কারাগার থেকে আদালতে তাকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে নেয়া হতো। জামিন না দিয়ে একের পর এক ভুয়া মামলায় তাকে আটক দেখিয়ে বছরের পর বছর কারাগারে রাখা হয়। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট না এলে; নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুকে কারাগারে রেখেই মেরে ফেলতে চেয়েছিলো হাসিনার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ। চব্বিশের ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরের দিন জামিনে কারামুক্ত হন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। এবং অবসান ঘটে তার পাঁচ বছর সাত মাসের দীর্ঘ কারাজীবনের।
অত্যন্ত স্বল্পভাষী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। তাকে নিয়ে কেউ উল্টাপাল্টা লেখালেখি করলেও তিনি কাউন্টার করেন না। সন্তোষ শর্মার মতো লোকেরা যখন কালবেলাকে ভারতের আজ্ঞাবহ একটা মিডিয়া আউটলেটে পরিণত করেছিল, তখন জাতীয়তাবাদী চেতনায় এই পত্রিকার হাল ধরেছিলেন নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। অথচ এই বিষয়টিকেও বাঁকা চোখে দেখেছিলো কতিপয় নিন্দুক।
পরিশেষে আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুকে যেই ভালোবাসা এবং সম্মান দিয়েছেন, তার সবটুকুই নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু deserve করেন। যারা রাজনীতিতে মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর মতো প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হতে চান, তাদের উচিত হবে নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর মতো ত্যাগের মানসিকতা হৃদয়ে ধারণ করা।(ঢাকাটাইমস/১৩ এপ্রিল/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































