মাহফুজের উচিত, আমার কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া

লক্ষ্মীপুর-১, রামগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত সেলিম ভাই সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে নিয়ে একটা লিখা লিখেছেন। সেখানে তিনি রামগঞ্জের জন্য মাহফুজের কোনো কমিটমেন্ট না থাকা এবং উপদেষ্টা থাকাকালীন অতি অহংকার, বেয়াদবি ও অসদাচরণের ঘটনা উল্লেখ করেছেন।
এই প্রসঙ্গে আমার মাহফুজের সাথে কিছু স্মৃতি মনে পড়ে গেলো।
আমি এনসিপির নোয়াখালী অঞ্চলের প্রধান তত্বাবধায়ক ছিলাম। ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ৩ জেলাতেই একাধিকবার সাংগঠনিক সফর করেছি কিন্ত এই মাহফুজ আর তার ভাই মাহবুবের কারণে ঠিকমতো কাজ করতে পারি নাই৷ জুলাইতে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা তার ভাই মাহবুবকে দিয়ে সব দুর্নীতি করাইছে মাহফুজ। জুলাইতে দেশে না থাকা নিজের ভাইকে এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক বানাইছে সে। রেড ক্রিসেন্ট এর বোর্ড মেম্বার বানাইছে সে।
আমাকে মাহফুজ একদিন ডেকে বললো, মুনতাসির ভাই নোয়াখালী অঞ্চল আমার কাছে ছেড়ে দেন। সাথে ঢাকা ১২ আর ঢাকা ৮ আসন আমার জন্য বরাদ্ধ থাকবে৷ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিনটাও আমি দেখতে চাই।
আমি বললাম, আপনি উপদেষ্টা হয়ে এতকিছু দেখতে পারবেন? সে বললো, ভাইয়া আছে, ভাইয়া দেখবে।
আমি বললাম, আপনার ভাই তো অতি ব্যস্ত৷ সে সাংগঠনিক কাজে সময় পায় না, টেন্ডার নিয়ে ব্যস্ত।
মাহফুজ বললো, এসব জায়গায় আমি যেমনে বলি কমিটি সেভাবে দেন।
আমি ভাবলাম, উপদেষ্টা যদি সুনজর দেয়, তাহলে তো ভালো। খুশিমনে রাজিও হয়েছিলাম। কিন্ত তার আর খবর নাই। তার ভাই বসে আছে চায়নাতে। বিদেশে বসে আমাকে বলে, কমিটি এভাবে হবে না, তার মন মত দিতে হবে।
আমি বললাম, ঠিক আছে দেন।
এদিকে এনসিপির দলের নিবন্ধনের সময় চলে আসছে, অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে আমার উপর ভীষণ চাপ। কিন্ত মাহবুব চিনে বসে দুর্নীতির টাকা গাপাগাপ পাচার করতেছে। কমিটি নিয়ে চিন্তা নাই। মাহফুজের তো আর খবরই নাই, ফোনও ধরে না। ধরলে বলে, ভাইয়া আসলে বসবো।
আমি সহ লক্ষ্মীপুরের সংগঠকরা পরিশ্রম করে কমিটি রেডি করার পর তার ভাই মাহবুব ২ মাস কমিটি আটকে রাখে। রামগঞ্জের কমিটি সেটাও আটকে রাখে। তারপর দেয় পকেট কমিটি। আমাকে কমিটি পাঠায়েই বলে দিয়ে দেন। আমি লক্ষ্মীপুরের অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের মতামতের জন্য দিলে মাহবুব আমাকে ফোন করে গালাগাল করে। রেকর্ড সহ প্রমাণ আমি ফাঁস করেছি। রেড ক্রিসেন্ট এ আমার চাকরি খাওয়া, আওয়ামী পুনর্বাসন সহ সকল অপকর্মের সাথে এরা জড়িত। যেই অন্যায় এরা আমার সাথে করেছে, এর অভিশাপেই তো আগাতে পারবে না। আর শাহাদাত সেলিম ভাইয়ের সাথে যে আচরণ, এটা তার অতি অহংকার ও বেয়াদবি। অনেকের সাথেই সে এসব বেয়াদপি করেছে।
নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন,
এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন।
আমি মাহফুজের শত্রু না। ওর অনেক সম্ভাবনা ছিলো। সমস্যা হলো, ওর পড়াশুনা অনেক, জ্ঞান অনেক কিন্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। জ্ঞানের ভারে কে শত্রু, কে বন্ধু, কার আদর্শ কি, কারে কি লাভ দিলে কার কি লস হবে, এসব ভাবতে ভাবতেই তার সময় শেষ।
মাহফুজের উচিত, আমার কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং আমার পরামর্শ নিয়ে চলা। আমার বুদ্ধি ছাড়া ওর উন্নতি করার সম্ভাবনা নাই।
শেষে আরেকটা সত্য বলি, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের চেয়ে অনেক কম দুর্নীতি করেছে। আসিফ দুর্নীতিতে মাহফুজের চেয়ে কমপক্ষে ২০০ গুণ এগিয়ে৷ মাহফুজ ১০ কোটি টাকা দুর্নীতি করে থাকলে আসিফ করেছে ২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি।
লেখক: মুনতাসির মাহমুদ
কেন্দ্রীয় সংগঠক, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ২০২৪।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































