পশুর হাটে সবার নজর ‘নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী’র দিকে!

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক, দরদাম আর উৎসুক মানুষের ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন পশুর বাজার। এবারের হাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিশাল আকৃতির এক দেশি ষাঁড়— ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’।
প্রায় ২৮ মণ ওজনের এই ষাঁড়টিকে এক নজর দেখতে হাটে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। খামারির দাবি, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে ৮ লাখ টাকা।
জুড়ী উপজেলার বাছিরপুর গ্রামের খামারি কাজল মিয়া জানান, প্রায় আড়াই বছর ধরে তিনি গরুটিকে লালন-পালন করছেন। পরিবারের নিজস্ব গাভি থেকেই জন্ম হয়েছিল ষাঁড়টির। ছোটবেলা থেকেই এর সুঠাম গঠন ও তেজি স্বভাব দেখে শখ করে নাম রাখা হয় ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’।
তিনি বলেন, “কোনো ধরনের মোটাতাজাকরণ ওষুধ ব্যবহার করিনি। নিয়মিত খুদ, ভুসি, খৈল, ঘাস ও খড় খাইয়ে বড় করেছি। আশা করছি ভালো দাম পাব।”
বড়লেখা পৌর শহরের হাজীগঞ্জ পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’ ছাড়াও সম্রাট, রাজা, শাহীওয়াল, কালোমেঘ ও বলবান নামের বড় আকৃতির বিভিন্ন ষাঁড়ও ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়ছে। বাজারজুড়ে ১ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকা দামের পশুর সমাগম দেখা গেছে।
তবে গোখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পশু লালন-পালনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বিক্রেতারা।
খামারি কাজল মিয়া, রাহেল আহমদ ও নাজিম উদ্দীন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পশু মোটাতাজা করতে খরচ অনেক বেড়েছে। কিন্তু হাটে এসে ক্রেতারা অনেক কম দাম বলছেন। দেড় লাখ টাকার গরুর দাম ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা বলা হচ্ছে। এতে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে পশুর সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও বিক্রেতারা তুলনামূলক বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন। ফলে সামর্থ্যের মধ্যে পশু কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ক্রেতা মো. নিজাম উদ্দিন, মার্জানুল ইসলাম ও কবির মিয়া বলেন, “হাটে গরু অনেক, কিন্তু দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার খাজনা কম হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি আছে।”
এদিকে হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা। জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন নিয়ে তৎপর রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কাজ করছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মেডিকেল টিম।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হাটের কার্যক্রম চলছে।
বড়লেখা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “বড়লেখায় কোরবানির পশুর যে সরবরাহ রয়েছে, তা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলাতেও পাঠানো সম্ভব। খাদ্যের দাম বাড়ায় খামারিদের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তাই দানাদার খাবারের পাশাপাশি সবুজ ঘাস খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো অবৈধ ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































