সাশ্রয় হবে সময় এবং অর্থ

সব প্রস্তুতি শেষ, এনবিআরের গড়িমসিতে চালু হচ্ছে না সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর!

রাজশাহী ব্যুরো, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৭ মে ২০২৬, ২২:৩৮
অ- অ+

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর ঘিরে নতুন বাণিজ্য সম্ভাবনা তৈরি হলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চূড়ান্ত অনুমোদন না মেলায় এখনো বন্ধ রয়েছে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। ব্যবসায়ীদের দাবি, নদী ড্রেজিং থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ—সব প্রস্তুতি শেষ হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় থমকে আছে বহু প্রত্যাশিত এই নৌবন্দর।

ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দরের সঙ্গে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরত্বের সুলতানগঞ্জ নৌপথটি প্রায় ৬০ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় চালু হয়। কিন্তু মাত্র ১০ দিনের মাথায় পদ্মা নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন সুলতানগঞ্জ পোর্ট অব কল পরিদর্শন করেন। সে সময় দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন ও বন্দর সচলের নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।

আমদানি-রফতানিকারকদের অভিযোগ, নদী ড্রেজিং ও বন্দরের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পানামা কর্তৃপক্ষ এবং এনবিআরের ধীরগতির কারণে বাণিজ্য শুরু করা যাচ্ছে না।

পাথর আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীরা নিজেদের অর্থায়নে বন্দরের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করেছেন। তার তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ মাসের পর মাস সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরে পড়ে আছে। এতে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা করে ভাড়া গুনতে হচ্ছে। দ্রুত বন্দর চালু না হলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।

আরেক আমদানিকারক সুলতানুল ইসলাম বলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পানামা কর্তৃপক্ষ মনে করছে, সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে তাদের ব্যবসায় প্রভাব পড়বে। তবে বাস্তবে দুটি বন্দরই সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াবে। তাই দ্রুত কাস্টমস কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে বাণিজ্য শুরু করা প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীদের মতে, বন্দরটি চালু হলে আমদানিতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমবে। একই সঙ্গে সময় সাশ্রয় হবে এবং রাজশাহী অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুর রহমান শান্তন বলেন, সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পাবে। পাশাপাশি রাজশাহী অঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক জোনে পরিণত হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক এ. কে. এম আরিফ উদ্দিন বলেন, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও এনবিআর কেন এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দিচ্ছে না, তা উদ্বেগজনক। এর পেছনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করা হবে। সরকার চাইলে দ্রুতই এই নৌপথে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর সুলতানগঞ্জ-মায়া এবং গোদাগাড়ী-লালগোলা নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একসময় এই রুট দিয়ে পাথর, মসলা ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য পরিবহন হতো।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, আসুন সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশি ভাবি: প্রধানমন্ত্রী
১৭ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনা, বেনজীরসহ ৩০ পলাতক আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
জন্মাষ্টমীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সম্মানী বিতরণে প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা