গুরুদাসপুরে ইসলাম অবমাননার অভিযোগে বিক্ষোভ, অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের দাবি

পবিত্র মক্কা ও মদিনা শরিফকে অবমাননা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নাটোরের গুরুদাসপুরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে গুরুদাসপুর থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় মুসল্লি ও ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। তারা অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তার নাম শিমুল কর্মকার (২৬)। তিনি পৌর শহরের গুরুদাসপুর মহল্লার নবীন কর্মকারের ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিমুল দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছেন। ঘটনার পর থেকে তার বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাড়িটির নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ১০টার দিকে ‘শিমুল’ নামের একটি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পবিত্র কাবা শরিফ ও মক্কা শরিফের অবয়ব সংবলিত কয়েকটি বিকৃত ও আপত্তিকর ছবি পোস্ট করা হয়। মুহূর্তেই পোস্টগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
পরে রবিবার সকালে অভিযুক্তের বাড়ির সামনে দিয়ে প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি গুরুদাসপুর থানার সামনে গিয়ে সমাবেশে রূপ নেয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে—এমন ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতীতে ইসলাম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে। তাই দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইমন রহমান বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশে কোনো ধর্ম বা ধর্মীয় প্রতীককে অবমাননা করার সুযোগ নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধ প্রমান হলে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
অভিযুক্ত শিমুল কর্মকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে প্রতিবেশী হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য শুম্ভু হাওলাদার বলেন, গুরুদাসপুরে বহু বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করে আসছেন। কোনো ধর্মকে অবমাননা করা কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগকৃত ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুঞ্জুরুল আলম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অভিযুক্তের বাড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তকে খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোনো পোস্ট অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। আইন অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে ধৈর্য ধারণ, শান্ত থাকার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































