গুলিস্তানে মার্কেট দখলের পাঁয়তারা করছেন জামায়াত নেতারা: অভিযোগ ব্যবসায়ীদের 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৬:৪৩
অ- অ+

রাজধানীর গুলিস্তানে ফুলবাড়িয়া এলাকার নগর প্লাজা মার্কেট অবৈধভাবে দখল নিতে জামায়াতের নেতারা লাঠিসোটা নিয়ে শোডাউন করেছেন বলে অভিযোগ বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীদের। তারা বলেছেন, জামায়াতের এমন শোডাউনে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

একই সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর মো. মামুন ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে নগর প্লাজা মার্কেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতারা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নগর প্লাজা, জাকের সুপার মার্কেট, সুপার মার্কেট-২, সিটি প্লাজার ব্যবসায়ী নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নগর প্লাজার ব্যবসায়ী নেতা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন নগর প্লাজা, ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২, ব্লক-বি, দোকান মালিক সমবায় সমিতি লিঃ সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধিত একটি সংগঠন। এই সমিতির মাধ্যমে মার্কেটটি পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পতনের পর মার্কেটের তৎকালীন সভাপতি পালিয়ে যান। এই সুযোগে মো. সুমন, আউয়াল, ফারুক ও হানিফ বাচ্চু গংরা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী পরিচয়ে মার্কেট ও সমিতি দখলে নেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ২ বছর ধরে মার্কেটটিতে চাঁদাবাজি, অবৈধ দোকান নির্মাণ, জোরপূর্বক অনেক দোকান মালিককে দোকান থেকে উচ্ছেদ, স্থায়ী দোকানগুলোর সামনে ও ফুটপাতে অনেক দোকান বসানো, লিফট মেরামত ও চালুর কথা বলে টাকা আদায়, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায়, ওয়াসা ও বিভিন্ন নামে ও খাতে বিপুল পরিমাণ টাকা উত্তোলন করেছে চক্রটি। তারা দোকান মালিকদের থেকে উত্তোলিত বিদ্যুৎ বিলের ৪০ লক্ষ টাকা, ওয়াসা বিল ২৮ লক্ষ টাকা এবং লিফট মেরামত ও চালুর কথা বলে ৩০ লক্ষ টাকা বিল পরিশোধ না করে এসব টাকা আত্মসাত করে।

ইতিমধ্যে মার্কেট কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ঢাকা জেলা সমবায় কার্যালয় সমিতির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নির্বাচন পরিচালনার জন্য গত ৮ এপ্রিল ৫ জন সরকারি কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগ দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সমিতির দায়িত্বভার হস্তান্তরের পত্র নিয়ে মার্কেট সমিতির অফিসে গেলে জামায়াত কর্মী মো, সুমন ও হানিফ বাচ্চুরা সমবায় কর্মকর্তাদের সাথে অসদাচরণ করেন এবং পত্র গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেন।

নগর প্লাজার ব্যবসায়ী নেতা কামরুজ্জামান আরও বলেন, গত ২৯ জুন বংশাল থানার পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি'র নেতৃবৃন্দ ও সকল পক্ষের উপস্থিতিতে মার্কেট সমিতির দায়িত্বভার হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। এতে প্রায় ২ বছর পর মার্কেটটি অবৈধ দখলদার থেকে মুক্ত হয়। কিন্তু মার্কেটের অবৈধ দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় কথিত জামায়াত নেতা মো. সুমন, হানিফ বাচ্চুরা কাউন্সিলর মো. মামুন, স্থানীয় বিএনপি'র নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতা মোঃ সুমন ও হানিফ বাচ্চুরা কখনোই কোন কমিটির সদস্য ছিলেন না এবং বর্তমানেও নাই। এমনকি মার্কেটে তাদের কোন দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। এখন চরদখলের মতো পেশিশক্তি দিয়ে মার্কেট দখলের পায়তারা করছে তারা।

রোববার শান্তি মিছিলের নামে জামায়াত কর্মীরা হকিস্টিক, স্ট্যাম্প ও লাঠিসোটা নিয়ে শোডাউন করেন বলে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এতে গুলিস্তানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

চাঁদাবাজির অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করে সিটি প্লাজা মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সিদ্দিক হাওলাদার বলেন, নগর প্লাজাসহ আশপাশের মার্কেটের কোনো ব্যবসায়ী কিংবা দোকান থেকে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী কখনো চাঁদা দাবি করেনি। এমন কোন তথ্য প্রমাণও কেউ দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, জামায়াতের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শোডাউনের পর থেকে আতঙ্কে সাধারণ ক্রেতারা মার্কেটে আসছে না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ফুলবাড়িয়া নগর প্লাজা মার্কেটের গোলাম কিবরিয়া স্বাধীন, রবিউল ইসলাম রুবেল, গাজী মিজানুর রহমান, জাকের সুপার মার্কেটের আব্দুল হান্নান প্রধান, সিটি প্লাজা মার্কেটের মোসলেম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ, এইচএসসির তিন পরীক্ষার্থী বহিষ্কার
খেলা শেষ, খোদা হাফেজ: মাহফুজ আলম
বিশ্বমানের প্রাথমিক শিক্ষা গড়তে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে সেই হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার, স্থানীয়ভাবে পরিবারকে সমাজচ্যুত
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা