ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে সেই হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার, স্থানীয়ভাবে পরিবারকে সমাজচ্যুত

ইসলাম ধর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে শিমুল কর্মকারকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার দিবাগত গভীর রাতে ঢাকার নারায়ণগঞ্জের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া শিমুল কর্মকার গুরুদাসপুর পৌর শহরের গুরুদাসপুর মহল্লার বাসিন্দা নবীন কর্মকারের ছোট ছেলে। পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত।
স্থানীয় মন্দির কমিটির দাবি, তার বড় ভাই পলাশ কর্মকার ইস্কনের একজন সক্রিয় সদস্য।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (৪ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে শিমুল কর্মকারের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পবিত্র মক্কা ও মদিনা শরিফের কয়েকটি ছবি বিকৃত করে প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রবিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়।
অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে দিনভর বিক্ষোভ এবং রাতে ‘তৌহীদি জনতা’র ব্যানারে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলে বিক্ষোভকারীদের একাংশ অভিযুক্তের বাড়ির দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরে থানার সামনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।
এদিকে, একই রাতে গুরুদাসপুরের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিমুল কর্মকারকে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেন। এ সময় উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে গুরুদাসপুর শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ বিগ্রহ কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার কুন্ডু। তিনি বলেন, গুরুদাসপুরে যুগের পর যুগ ধরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির পরিবেশ বিরাজ করছে। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে সেই সৌহার্দ্য নষ্ট হোক, তা কেউ চান না।
তিনি অভিযুক্তের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইস্কন নামের সংগঠনের কিছু সদস্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে এবং শিমুল কর্মকারের এই কর্মকাণ্ড সেই অপচেষ্টারই অংশ হতে পারে বলে তাদের ধারণা।
মাওলানা জামীল আহমাদ ও মুফতি আব্দুল আহাদ বলেন , অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করায় তিনি প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুঞ্জুরুল আলম বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বা সংঘাত সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক ছিল। রবিবার দিবাগত রাতে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































