১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশনের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশে ছানি অপারেশনের অভাবে দৃষ্টিহীন হয়ে পড়া প্রায় ১০ লাখ মানুষের অন্ধত্ব দূর করতে দেশব্যাপী বিনামূল্যে ও সুলভমূল্যে ছানি অপারেশনের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অন্ধত্ব প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ডের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে প্রায় ১০ লাখ মানুষ চোখের ছানি অপারেশনের অভাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কিংবা অন্ধত্ব বরণ করে আছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই উদ্যোগ নিয়েছেন। এই ১০ লাখ মানুষের জন্য আমরা দেশব্যাপী সুলভ মূল্যে এবং বিনামূল্যে ছানির অপারেশনের ব্যবস্থা করার বড় কর্মসূচি হাতে নিচ্ছি। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও খরচ কমাতে ইতোমধ্যে এই বাজেটে চোখের ছানি অপারেশনের পর যে লেন্সটি দেওয়া হয়, তার ওপর থেকে কর (ট্যাক্স) কমিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে চোখের ছানি অপারেশনের খরচ এক ধাক্কায় অনেক কমে যাবে, যা দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে।
নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল সামিটের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে এই প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলন হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনে বাংলাদেশ কো-হোস্ট হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবে। পাশাপাশি গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলপড়ুয়া শিশুদের চোখের সুরক্ষায় সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রাম-গঞ্জের অনেক শিশু চশমা ও চোখ পরীক্ষার অভাবে সঠিকভাবে দেখতে পায় না, যা তাদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আইএপিবি-কে শিশুদের চোখ পরীক্ষা ও চশমা বিতরণে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটিও আমাদের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক চক্ষু সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ড বলেন, ২ নভেম্বর অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিতব্য এই গ্লোবাল সামিট বিশ্বনেতাদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ, যেখানে বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ দেশের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হবেন।
বাংলাদেশকে বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করে পিটার হল্যান্ড বলেন, বিশ্বজুড়ে চোখের দৃষ্টি সুরক্ষায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। জাতিসংঘে দৃষ্টিশক্তি বিষয়ক প্রথম ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি স্পন্সর বা উত্থাপন করেছিল বাংলাদেশ। দশকের পর দশক ধরে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহী জানান, বাংলাদেশে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার আমূল পরিবর্তনে সরকারের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। বিশেষ করে দেশের ছানি অপারেশন সেবার মান উন্নত করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে চশমা পৌঁছে দেওয়ার মতো প্রোগ্রামগুলোতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চলমান রয়েছে।
আগামী নভেম্বরের গ্লোবাল সামিটে বাংলাদেশের এই জোরালো অংশীদারিত্ব এবং সহ-আয়োজকের ভূমিকা বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পিটার হল্যান্ড।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































