ঈদে মিলাদুন্নবী: মহানবী (সা.)-এর আগমন, ইতিহাস ও শিক্ষা

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৯
অ- অ+

ইসলামের ইতিহাসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পৃথিবীতে আগমন মানবজাতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তাঁর জন্মকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয়ে আসছে ঈদে মিলাদুন্নবী। এ দিনকে ঘিরে মহানবী (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, শিক্ষা ও মানবতার প্রতি তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করা হয়।

আরবের সমাজ যখন ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ বা অজ্ঞতা ও নানা অনাচারে নিমজ্জিত ছিল, তখন হজরত মুহাম্মদ (সা.) সত্য, ন্যায়, শান্তি ও মানবতার বার্তা নিয়ে আবির্ভূত হন। মক্কার কুরাইশ বংশে জন্ম নেওয়া মহানবী (সা.) শৈশব থেকেই সত্যবাদিতা ও আমানতদারির জন্য পরিচিত ছিলেন।

৪০ বছর বয়সে তিনি নবুয়ত লাভ করেন এবং পরবর্তী ২৩ বছর ইসলাম ও মানবতার শান্তির বার্তা প্রচার করেন। তাঁর জীবন ও সুন্নাহ মুসলমানদের জন্য ইসলামী জীবনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান দিকনির্দেশনা হয়ে ওঠে।

‘মিলাদুন্নবী’ শব্দের অর্থ ‘নবীর জন্ম’ বা ‘নবীর জন্মস্মরণ’। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মকে স্মরণ করে রবিউল আউয়াল মাসে বিভিন্ন দেশে যে আয়োজন করা হয়, তা সাধারণভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী নামে পরিচিত।

প্রচলিত ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (সা.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব এবং মা আমিনা বিনতে ওয়াহাব।

তবে তাঁর জন্মতারিখ নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে মতভেদ রয়েছে। মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশ রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখকে তাঁর জন্মদিন হিসেবে স্মরণ করে।

ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের প্রচলন কবে থেকে শুরু হয়েছে—এ নিয়ে ঐতিহাসিক ও ইসলামী গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। অনেক গবেষকের মতে, নবী (সা.)-এর জন্মস্মরণকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক আয়োজন ইসলামের প্রাথমিক যুগে প্রচলিত ছিল না।

পরবর্তী সময়ে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মহানবী (সা.)-এর জন্মস্মরণে বিশেষ আয়োজন শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে ইরাকের আরবিলের শাসক মুজাফফর উদ্দিন কুকুবুরির নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। ৬০৪ হিজরিতে তিনি ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন উদযাপন শুরু করেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।

পরবর্তীকালে এ ধরনের আয়োজন মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে।

মিলাদুন্নবী নিয়ে প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন গ্রন্থ রচিত হয়েছে। আবুল খাত্তাব ওমর ইবনে হাসান ইবনে দেহিয়া আল-কালবীর নাম এ বিষয়ে প্রাথমিক গ্রন্থকারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মহানবী (সা.)-এর জীবন, চরিত্র, মানবিকতা ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাঁর সত্যবাদিতা, ক্ষমাশীলতা, সহিষ্ণুতা, ন্যায়বিচার, দানশীলতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা স্মরণ করা হয়।

মহানবী (সা.) শুধু ধর্মীয় শিক্ষা প্রচার করেননি; তাঁর জীবনে সামাজিক ন্যায়বিচার, পারস্পরিক সহমর্মিতা, শান্তি ও মানবিক মর্যাদার বিষয়গুলোও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মদিনায় প্রতিষ্ঠিত সমাজব্যবস্থায় বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

তাই এ দিনকে ঘিরে আয়োজিত আলোচনা ও কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ সম্পর্কে মানুষকে জানানো এবং সেই আদর্শ অনুসরণের প্রতি উৎসাহিত করা।

ঈদে মিলাদুন্নবী পালন শরিয়তসম্মত কি না—এ বিষয়ে ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। একদল আলেম মনে করেন, মহানবী (সা.)-এর জন্মস্মরণ, তাঁর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং দরুদ পাঠের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করা ভালো কাজ। অন্যদিকে, আরেকদল আলেম মনে করেন, নির্দিষ্টভাবে জন্মদিনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় উৎসব আয়োজন ইসলামের প্রাথমিক যুগের প্রচলিত আমল নয়।

তবে উভয় মতের আলোচনায় মহানবী (সা.)-এর জীবন, চরিত্র ও শিক্ষা অনুসরণের গুরুত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন মানবতার জন্য সত্য, ন্যায়, শান্তি, ক্ষমা ও সহমর্মিতার শিক্ষা বহন করে। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে তাঁর জীবন ও আদর্শ স্মরণ করার পাশাপাশি ব্যক্তি ও সমাজজীবনে তাঁর শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগই হতে পারে এ দিনের অন্যতম তাৎপর্য।

(ঢাকাটাইমস/২৫ আগস্ট/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাইয়ের সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার ৫
মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় ঘোষণা পেছাল
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় সহিংসতার শঙ্কায় সতর্ক পুলিশ
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৫০১ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৫৩
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা