নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনছে টিসিবি

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৫
অ- অ+

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও কিনবে সংস্থাটি।

টিসিবির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় বাজার থেকে এবং বাকি অর্ধেক আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সংগ্রহ করা হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দাম ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ পাওয়া গেলে বিদেশ থেকে কেনার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।

সম্প্রতি এক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এসব তথ্য জানান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত ক্রয় পরিকল্পনা করেছে টিসিবি। এর আওতায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর কেনা হবে।

পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত এবং ভোক্তাদের কাছে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামের মজুত ও পাইপলাইনে থাকা সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে টিসিবি।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদ জানান, বর্তমানে টিসিবির মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক। নিত্যপণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে ক্রয় এবং মজুত ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

টিসিবির বর্তমানে ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়ায় নেওয়া। সব মিলিয়ে গুদামগুলোর ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। নিজস্ব গুদামগুলোর ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়ার গুদামগুলোর ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন।

ভবিষ্যতে নিজস্ব গুদাম সক্ষমতা বাড়িয়ে আরও প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মজুত সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির। এতে ভাড়ার গুদামের ওপর নির্ভরতা কমবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতেও কাজ করছে টিসিবি। প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য কিনে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে ভর্তুকি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, বাজারের চাহিদার সঙ্গে দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিসিবিকে গড়ে তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটির ভূমিকা আরও বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি জানান, টিসিবি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। পরিবার পর্যায়ে এ বাজার অংশীদারত্ব আরও বেশি। ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও টিসিবি পরিবারের চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ সরবরাহ করে, যা এসব পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সহায়তা করছে।

ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। ভবিষ্যতে আটা, বিভিন্ন মসলা, মরিচ ও হলুদও পণ্যের তালিকায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, এসব পণ্য নিয়মিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে সরবরাহ করা হবে। তবে এর জন্য সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, নতুন কোনো পণ্য যুক্ত করার আগে ভোক্তাদের চাহিদা যাচাই করা হবে। জরিপের মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্য চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে তা সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বর্তমানে টিসিবির প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাকি সুবিধাভোগীদের আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার আশা করছে সংস্থাটি।

টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থা একটি গতিশীল প্রক্রিয়া। মৃত্যু, স্থানান্তরসহ বিভিন্ন কারণে সুবিধাভোগীদের তালিকায় নতুন নাম যুক্ত, নাম বাদ বা পরিবর্তন হতে পারে।

টিসিবির সরবরাহব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করেন। শিগগিরই বিক্রয়কেন্দ্রে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভোক্তারা লেনদেনের রসিদও পাবেন।

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থাও তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ডিজিটালভাবে স্মার্ট কার্ডের তথ্য দেখতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা বা নগদের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

টিসিবি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রায় ২১টি সরকারি কর্মসূচি যুক্ত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও তাদের সুবিধাভোগীকেন্দ্রিক কর্মসূচি এ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে।

টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, পণ্য কেনা বাড়ানো এবং বাজারে হস্তক্ষেপের পরিধি বাড়াতে হলে লজিস্টিক সক্ষমতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মান বজায় রেখে সাশ্রয়ী দামে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সরাসরি ভোক্তার চাহিদার ভিত্তিতে পণ্যের তালিকা বাড়ানোই টিসিবির লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, নতুন কোনো পণ্য চালুর আগে ভোক্তাদের চাহিদা নিয়ে জরিপ করা হয়। মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের চেষ্টা করা হবে। নতুন যুক্ত হওয়া কোনো পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক নয়। তবে পণ্যের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

(ঢাকাটাইমস/২৫ আগস্ট/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওয়াটার ট্রিটমেন্টে ১০০ কোটি টাকা দিচ্ছে ডেনমার্ক
২৬ আগস্ট মধ্যরাত থেকে রাজধানীর যেসব এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাইয়ের সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার ৫
মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় ঘোষণা পেছাল
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা