ঝিনাইদহে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার মামলা আদালতে খারিজ, বাদী কারাগারে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৯
অ- অ+

ঝিনাইদহে এক সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলার বাদী বিউটি খাতুন (৪৫) নামের এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত বিউটি খাতুন শৈলকুপা উপজেলার বারইহুদা গ্রামের বাবর আলীর মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, বিগত পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঝিনাইদহের পাগলাকানাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ বিশ্বাসের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন এই বিউটি খাতুন। বিউটির বিরুদ্ধে জমি দখল, মাদক ব্যবসা, মামলা বাণিজ্য, বিয়ের প্রলোভনে ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া সহ দেহব্যবসার মতে জঘন্য সব অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, বিউটির পরিবারটি এই চরমুরারিদহ গ্রামের ক্যানসার। বিউটির ছেলে রাতুল মাদক ব্যবসা করে, বিউটি নিজে দেহ ব্যবসা করে, বিভিন্ন লোককে বিয়ের প্রলোভনে ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার রেকর্ড আছে তার। এই বিউটির খপ্পরে যে পড়েছে, সেই শেষ হয়ে গেছে। কেউ জমি হারিয়েছেন, কেউ টাকা। পুরো চরমুরারিদহ গ্রামটি একাই শেষ করে ফেললো এই মহিলা। তার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিৎ।

এছাড়া বর্তমানে বিউটি যেখানে বাড়ি করে আছেন, সেই জায়গাটিও আওয়ামী লীগের সময়ে তার দখল করা, চেয়ারম্যান সাঈদের সন্ত্রাসী বাহিনীর সহযোগিতায় জমিটি দখল করে বাড়ি করেছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা। সূত্র বলছে, ঝিনাইদহের চরমুরারিদহ গ্রামের একটি জমি নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বিউটি খাতুনের সাথে ঝিনাইদহের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের বিরোধ চলে আসছিলো দীর্ঘদিন ধরে। সেই জমিকে কেন্দ্র করে বিউটি খাতুন সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

এই ঘটনায় মিরাজ জামান রাজের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিউটি খাতুন আমার মায়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। সেই জমি উদ্ধারে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আমার মামলায় আদালত থেকে কমিশন চলাকালীন বিউটি ও সাঈদ চেয়ারম্যানের বাহিনী আমার ওপর হামলা চালায়। জমির মালিকানা যেন বুঝে নিতে না পারি এবং আমাকে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে সাঈদ চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিউটি বাদী হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রমাণিত হয় যে, শুধুমাত্র জমিজমার বিরোধের জের ধরে মামলাটিতে আমাকে ফাঁসানো হয়েছিল।

আদালত মামলাটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ঘোষণা করে খারিজ করে দেন এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করার কারণে আদালত তাকে আইনের ১৭ (১) ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এই ঘটনায় আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অপরাধে আদালত আইনের ১৭(১) ধারায় বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রেক্ষিতে ঝিনাইদহ সদর থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

(ঢাকা টাইমস/১৭সপ্টেম্বের/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মির্জাপুরে দিনব্যাপী বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, সেবা পেলেন পাঁচ শতাধিক মানুষ
তিন কর্মসূচিতে ৪৬ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বিডব্লিউসিসিআই
বিদেশে আরামের বদলে ১০ বছরের কারাবাস বেছে নেব: আসিফ মাহমুদ
রাজবাড়ীতে দুটি ওয়ান শুটার গান, কার্তুজ ও ককটেল উদ্ধার; গ্রেপ্তার ১