‘মৃত্যুর পরেও পরিবারকে অস্বস্তিতে রেখেছে সন্ত্রাসী বকুল’

বগুড়া প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৬
অ- অ+

বগুড়ার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত রাকিবুল হাসান বকুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন পারভীন স্ত্রী পারভীন আক্তার। একই সঙ্গে বকুলের লোকজনের অনবরত ভয়ভীতি ও বাড়ির বাইরে অস্ত্রসহ অবস্থান নিয়ে থাকার অভিযোগ করেছেন তিনি।

রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি করেন তিনি ।

এর আগে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে শ্বশুরবাড়ীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সন্ত্রাসী ‘ল্যাংড়া বকুল’। তাকে গলাকেটে কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনায় ওই দিনই পুলিশ নিহতের স্ত্রী পারভীন ও শাশুড়িকে আটক করে থানা নেয়। পরবর্তীতে মামলা হলে নিহতের শ্বশুর, শ্যালক ও জামাইকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে বকুলের স্ত্রী পারভীন শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা হলেও তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

তিনি লিখিত বক্তব্যে স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে তিনি আজকে সংবাদ সম্মেলন করছেন। তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের পর বকুলের লোকজন তাদের বাড়িতে হাশরা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। তারা ১২টি ছাগলসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে গেছে। এছাড়া তার বড় ভাইকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলা চালিয়ে লুটপাটের পরেও বকুলের লোকজন লোকজন তাদের বাড়ির আশপাশে অবস্থান করছে এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাসের পরিবেশ নেই। তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডেরর দিনের ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে পারভীন বলেন, ঘটনার দিন বকুল চার-পাঁচজন লোক নিয়ে তাদের বাড়িতে যান। ওই সময় তিনি গোসল করছিলেন। বকুল তাকে দরজা খুলতে বলেন এবং তার গোসলের ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এ সময় তার জামাই সিয়াম বকুলকে আটকানোর চেষ্টা করেন। পরে তার বাবা ও ভাই ঘটনাস্থলে আসেন। বকুলের হাতে একটি বড় চাকু ও আরেকটি ধারালো অস্ত্র ছিল। যেটি দিয়ে বকুল তার বাবাকে আঘাত করেন এবং সিয়ামকে আক্রমণের চেষ্টা করেন। পরে সিয়াম, তার ভাই ও বকুলের মধ্যে ধস্তাধস্তি হলে সিয়ামের হাতেই বকুলের মৃত্যু হয়।

পারভীন বলেন,পরিস্থিতির শিকার হয়ে তার জামাই সিয়ামের হাতে বকুলের মৃত্যু হয়েছে। বকুলকে হত্যার পর সিয়ামকে তারা লুকিয়ে রাখেননি। বরং তিনি নিজেই সিয়ামকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী সিয়াম যে শাস্তি পাবেন, তা তারা মেনে নেবেন।

বতর্মান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে পারভীন বলেন, যেহেতু মূল আসামি শাস্তি ভোগ করছে। আমাদের কোনো অপরাধ নাই, তাহলে আমাদের কেন নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে?

উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জালাল উদ্দিন জানিয়েছিলেন, ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বকুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও নারী নির্যাতনসহ ৮ থেকে ১০টি মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

(ঢাকাটাইমস/৪অক্টোবর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
কুষ্টিয়ায় লালনের আখড়াবাড়িতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর
ঝিনাইদহে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম
ধলেশ্বরী নদীতে ভাসছিল মাথাবিহীন কিশোরীর লাশ
টেকনাফে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি, আহত ২