হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, গামছা, টি-শার্ট উদ্ধার
রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র রোহান হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

রাজবাড়ীতে নিখোঁজের তিন দিন পর ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (১৯) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন– রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), গণি সরদারের ছেলে রিয়াজ সরদার (২৩) এবং সমেসপুর এলাকার শরীফ (২৭)।
শনিবার ভোর চারটার দিকে দাদশী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা ও কালো টি-শার্টসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রাজবাড়ী জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মীর মনির হোসেন।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৫ অক্টোবর বিকাল চারটার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর ফেরেননি। পরদিন ৬ অক্টোবর তার পরিবার রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরে ৮ অক্টোবর বিকাল পাঁচটার দিকে দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে রোহানের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় তার পেট কাটা ছিল। এ ঘটনায় রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে ৯ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
তিনি বলেন, নৃশংস এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যপক আলোড়ন তোলে ও দাদশী ইউনিয়নের অধিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন, নিখোঁজ সংবাদ প্রাপ্তির পর কোন বিলম্ব না করে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্তে নামে ও বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগ করে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য- প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজবাড়ী সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ চৌকস আভিযানিক দল রাজবাড়ী জেলার দাদশীইউনিয়ন ও তার আশেপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শনিবার ভোর ৪টার সময় ফিরোজ সরদার বাবু, মো. রিয়াজ সরদার, মো. শরীফ মন্ডলদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে পুলিশ সুপার বলেন, জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পনা করে রোহানকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মরদেহ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য ধারালো ছুরি দিয়ে পেট কেটে বস্তাবন্দী করা হয়। পরে বস্তার সঙ্গে বালুভর্তি বস্তা বেঁধে মরদেহটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেখানো মতে, ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও গামছা উদ্ধার করা হয়। রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় শ্বাসরোধে ব্যবহৃত কালো টি-শার্ট। এ ছাড়া দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্য থেকে রোহানের স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে ফিরোজ সরদার বাবু ও রিয়াজ সরদার হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। আর শরীফ তাদের সহযোগিতা করেন। গ্রেপ্তার তিনজনই মাদকসেবী এবং তারা ভাড়াটে হিসেবে কাজ করেছেন বলে পুলিশের দাবি।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে অর্থ জোগানদাতা ও মূল পরিকল্পনাকারী কারা, তা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানান পুলিশ সুপার। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













