তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা না হলে বাদী হবে পুলিশ: নৌপুলিশ প্রধান

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানিয়েছেন নৌপুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম।
শুক্রবার বিকাল পৌনে চারটার দিকে তিনি এ কথা জানান।
মো. রেজাউল করিম বলেন, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। তবে পরিবার মামলা না করলে আইন অনুযায়ী পুলিশের পক্ষ থেকেই মামলা করা হবে।
এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি। উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব বলেন, ‘নিহত তাহসিফের বাবাকে ফোন করে থানায় এসে মামলা করার জন্য বলেছি। এখনো তিনি থানায় আসেননি। তিনি এলে মামলা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
এদিকে শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর আগে পিবিআই জানিয়েছিল, তুরাগ নদ থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এর মালিকানা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ। পরদিন বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নৌপুলিশ। পরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উত্তরখান এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের সময় তাহসিফের পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো জামা। তার হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তাহসিফের বাবা জানিয়েছিলেন, ২৭ অক্টোবর সারাদিন পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেছিলেন তার ছেলে। সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামের এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হন তিনি। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।
তাহসিফের মৃত্যুর আগে তার গতিবিধির একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ্যে এসেছে। ফুটেজে বন্ধুস্থানীয় জুনিয়র আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে তাকে হাত মেলাতে দেখা যায়। এরপর তারা আলাদা মোটরসাইকেলে করে বাসা থেকে বের হন।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির সঙ্গে এ ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











