এক স্বৈরাচারকে বিদায় করে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১২
অ- অ+

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা। সমাবেশে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, পতিত স্বৈরাচার ও নব্য স্বৈরাচার—দুই পক্ষকেই পরাজিত করা হবে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা খুব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি সরকারের কাছে, তারেক রহমানের কাছে দেশ পরিচালনার কোনো ধরনের পরিকল্পনাই নেই। তাদের পরিকল্পনা হচ্ছে কীভাবে দেশ থেকে দুর্নীতি করবে, লুটপাট করবে, চাঁদাবাজি করবে এবং সন্ত্রাস কায়েম করবে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘হাজারো মানুষের রক্তদানের পরে আমরা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করে এখন নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি। কিন্তু আপনাদের সামনে আমাদের ওয়াদা, আমাদের প্রতিশ্রুতি—পতিত স্বৈরাচার এবং এই নব্য স্বৈরাচার, দুই স্বৈরাচারকেই আমরা পরাজিত করব, ইনশা আল্লাহ।’

সমাবেশে দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি ও প্রতিবেশী ভারতের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার নানা ষড়যন্ত্র চলছে। সীমান্তে হত্যা, পাহাড়ে অশান্তি এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান সরকার সক্ষম নয়।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জাপানে গিয়ে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে করিডর তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতের হাতে অবৈধ করিডর তুলে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ জনগণ মেনে নেবে না। আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তি ন্যায্য ভিত্তিতে নতুন করে করা না হলে জনগণ আবারও আন্দোলনে নামবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে চলমান নৈরাজ্য, খুন ও গুমের দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। জ্বালানিমন্ত্রীকেও পদত্যাগ করতে হবে।

দাবি আদায় না হলে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে মিছিল নিয়ে তারেক রহমানকে ঘেরাও করে দাবি আদায় করা হবে।

চার দফা দাবি হলো—

ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ।

একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন।

মানবাধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতাবিরোধী আইন বাতিল এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস না করা।

জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করে অবিলম্বে রায় কার্যকর করা।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
চাঁদাবাজ বলেলেই মানুষ বুঝে ফেলেন কোন দলের কথা বলা হচ্ছে: এমপি আলী আজম
ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ভারতের সঙ্গে লিয়াঁজো করছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন
পাঁচ বছরের মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার উপযুক্ত হবে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ
মির্জাপুরে ট্রাক উল্টে পুকুরে পড়ল ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার