বগুড়ার আল্লামের তাকিয়া কলেজের একমাত্র পরীক্ষার্থীও পাস করেননি

বগুড়া প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:৪২
অ- অ+

চলতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়ার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানে একাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও বগুড়ার কাহালুর আল্লামের তাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মাত্র একজন। মানবিক বিভাগের ওই শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন।

প্রতিষ্ঠান‌টিতে এমন ফলাফল বিপর্যয়ের ঘট‌ছে গত দুই বছর ধ‌রে। এর আগে ফলাফল এমন ছি‌লো না জা‌নি‌য়ে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান মণ্ডল বলেন, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট তিনি অবসরে যান। তার সময়ে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল এবং পরীক্ষার ফলাফলও ভালো হতো। শিক্ষার্থীরা বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফল করত।

তিনি বলেন, গত বছরও প্রতিষ্ঠান থেকে আনুমানিক পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাদের কেউ পাস করেননি। এবারও মানবিক বিভাগ থেকে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন বলে তিনি জানেন।

ত‌বে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ টি এম ফেরদৌস আলম পলাশ বলছেন, এবার এইচএসসি পরীক্ষার জন্য পাঁচজন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিলেন। তবে তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র একজন। বাকি চারজন পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও পাস করতে পারেননি।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে এখন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চান না। এসএসসি পাসের পর অনেকে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। আবার মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। এমন দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকেরা নিজেদের টাকায় তাঁদের ভর্তি, ফরম পূরণ ও বইপুস্তকের ব্যবস্থা করেন। মূলত প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতেই তারা এসব উদ্যোগ নেন।

টি এম ফেরদৌস আলম পলাশ আরও বলেন, বগুড়ার শিক্ষার্থীরা এখন তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়তে আগ্রহী। ফলে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর ধরে কর্মরত শিক্ষকেরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ক্লাস করার পর আর আসে না। একপর্যায়ে শিক্ষকদের উপস্থিতিও কমে যায়। পরে তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ডেকে এনে ক্লাস পরিচালনার চেষ্টা করেন।

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে সাধারণ শাখার পাশাপাশি বাণিজ্য শাখারও অনুমোদন রয়েছে। আর্টস বিভাগে চার থেকে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। কলেজ শাখাসহ প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১২ জন শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন।

(ঢাকা টাইমস/১নভেম্বর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযুক্ত জামায়াত নেতার বসতঘর ভাঙচুর
ডিএমএফের সভাপতি দেলোয়ার, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মানিক
বেকারত্ব বাড়লে অপরাধ ও সামাজিক নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে: সাইফুল হক
যুক্তরাষ্ট্রে বসে ঢাকার ওয়ারীতে কুশের ল্যাব পরিচালনা, মূলহোতা তৌসিফ গ্রেপ্তার