পাহাড়ে উত্তেজনা: এসএসসি পরীক্ষা বন্ধের হুঁশিয়ারি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারি ২০১৭, ২২:৪৯

খাগড়াছড়ির পোষ মেলায় সংঘর্ষের জের ও টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে ভর্তিকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পৌর কাউন্সিলর এসএম মাসুম রানার মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেয় উপজাতীয় দুষ্কৃতিকারীরা। সংঘর্ষে আহত হন কমপক্ষে আটজন।

মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় দিকে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের উপজেলা পরিষদ মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না হলে অনুষ্ঠেয় এসএসসি পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ কলেজ শাখার সোহেল রানা নামক এক নেতার সঙ্গে পিসিপির নেতাকর্মীদের পূর্বের সংঘর্ষের রেশ ধরে বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ থেকে বিকাল ৪টার দিকে তাকে ধাওয়া করলে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

বিষয়টি যেনে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সির এসএম মাসুম রানা সমস্যা সমাধানের লক্ষে মোটরসাইকেল রেখে উপজেলা মাঠের পাশের দোকানে প্রবেশ করেন। এসময় উপজাতীয় দুষ্কৃতিকারীরা তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

খবর পেয়ে আসা পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীর মধ্যে বেধে যায় সংঘর্ষ। এ সময় উপজাতীয় এক ব্যক্তির মোটরসাইকেলে অগ্নি সংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। সংঘর্ষে উভয়ের ৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।

পরে পুলিশ-সেনা বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস এসে মোটর সাইকেলগুলোর আগুন নেভালেও এরই মধ্যে দুটি মোটর সাইকেল পুরো জ্বলে যায়। এ ঘটনার জন্য পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদকে এবং পিসিপি বাঙালি ছাত্র পরিষদ একে অপরকে দায়ী করেছে।

এসএম মাসুম রানার উপর হামলার প্রতিবাদে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে শাপলা চত্ত্বরে সমাবেশ করে নেতাকর্মীরা। সমাবেশ থেকে জড়িতদের আটকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম বেঁধে দেওয়া হয়। আটকে প্রশাসন ব্যর্থ হলে লাগাতার অবরোধ ও জেলা সদরে সকল উপজাতীয় এসএসসি পরিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহজল ইসলাম সজল, খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুম রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল, সহ-সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সংঘর্ষের পর সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/৩১জানুয়ারি/প্রতিনিধি/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত