বান্দরবানে পানির তীব্র সংকট, বিপর্যস্ত জনজীবন

মংখিং মারমা, বান্দরবান প্রতিনিধি
 | প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৭, ০৯:৪৮

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্রীষ্মের শুরুতেই জেলার পাহাড়ি আদিবাসী পাড়াগুলোতেই বেশিরভাগ বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে। জেলার দুর্গম এলাকার খালে গর্ত খুঁড়ে, নদীর দূষিত ঘোলা পানি ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। এতে ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রিংওয়েল নলকূপগুলো বেশিরভাগ অকেজো। জিএফএস পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে বন্ধ। প্রত্যন্ত দুর্গম অঞ্চলের গ্রামবাসীদের পানির প্রধান উৎস ঝিরি কিংবা ঝর্ণা। এসব পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় পাওয়া যাচ্ছে না পানি। কারণ পানির উৎস ঝিরিগুলো থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের কারণে ঝিরির পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পায়ে হেটে এক থেকে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঝিরি-ঝর্ণা খাল-নদী থেকে খাবারের পানি সংগ্রহ করছেন নারীরা। এর মধ্যে রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানছি উপজেলার বাসিন্দারাই অধিকতর পানির সংকটে ভুগছেন।

বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় চার লাখ চার হাজার ৯৩ জন লোকের বসবাস। পাহাড়ি ও বাঙ্গালি অধিকাংশই দুর্গম পাহাড়ি জনপদে বসবাস করে তারা।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এসব মানুষের পানির চাহিদা মেটাতে জেলা  পরিষদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৗশলী বিভাগ ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থার মাধ্যমে নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে ঠিকাদার ও সেবাদানবারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে এলাকাবাসীর অনেক অভিযোগ আছে। রিং ওয়েল ও টিউবওয়েল খননে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানি উঠে না। অধিকাংশ রিং ওয়েল ও টিউব ওয়েল অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে বলে এলাকাবাসী জানান।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, পুরো জেলায় ৮৬৬১টি রিংওয়েল ও ডিপ টিউবওয়েল রয়েছে। যার মধ্যে ৫৬৮৯টি সচল এবং ২৯৭২টি অচল। জিএফএস লাইন ৮৮টির মধ্যে ১৭টি সচল,অকেজো ৭১টি। একটি রিং ওয়েল ১২০ ফুট এবং টিউবওয়েল ৪৫০ ফুট খনন করার কথা থাকলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান খনন করেন সর্বোচ্চ ৬০ ফুট ও ২০০ ফুট। যার কারণে শুষ্ক মৌসুম আসার আগেই সেই সব রিং ওয়েল ও টিউবওয়েলে পানি থাকে না।

এ বিষয়ে রোয়াংছড়ি উপজেলার আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তঞ্চঙ্গ্যা জানান, রোয়াংছড়ি উপজেলায় এমনিতেই পানির লেয়ার পাওয়া যায় না। একটু গরম হলেই টিউবওয়েল ও রিংওয়েল থেকে পানি পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে জিএএস পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ বরাদ্দ করা হলে  জনগণ উপকৃত হবে।

থানচি উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মারমা জানান, থানচির দুর্গম এলাকাসমূহে সুপেয় পানির চরমঅভাব। এসব এলাকার মানুষ ঝিরি ঝর্ণার ওপর নির্ভরশীল হলেও দিন দিন সেগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। এসব এলাকার মানুষের পানীর সংকট দূরীকরণে সরকারি সহযোগিতাসহ জেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে।

এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহরাব হোসেন জানান, বান্দরবান জেলায় বেশিরভাগ এলাকা পাথুড়ে হওয়ায় রিংওয়েল ও টিউবওয়েল স্থাপন করা যায় না। যেগুলো স্থাপন করা হয়েছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে মেরামত করা হচ্ছে। তবে এসব এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে জিএফএসের মাধ্যমটাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে এবং অচিরেই এই সংটক দূর হবে।

এদিকে অবাধে পাথর উত্তোলন ও নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন বন্ধসহ, বনাঞ্চল উজাড়, অকেজো রিংওয়েল ও টিউবওয়েল সংস্কার করা হলে পানির সংকট কমে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ঢাকাটাইমস/২০মে/প্রতিনিধি/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত