পরিচয়পত্র পেয়ে খুশি রোহিঙ্গারা মাতৃভূমিতে ফিরতে চায়

মোসলেহ উদ্দিন, উখিয়া সংবাদদাতা
  প্রকাশিত : ০৯ অক্টোবর ২০১৭, ০৮:০৬
অ- অ+

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে উখিয়া ও টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রের রোহিঙ্গাদের পাঁচটি নিবন্ধন বুথের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে কার্ড দেয়া হচ্ছে। মিয়ানমারের নাগরিক লেখা ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র হাতে পেয়ে বেশ খুশি রোহিঙ্গারা। এখন সুযোগ পেলে শিগগিরই নিজ মাতৃভূমে ফিরে যেতে চায়।

অবশ্য শুরুর দিকে পরিচয়পত্রে জাতি হিসেবে ‘রোহিঙ্গা মুসলিম’ লেখা না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা ছিল। আর তাতে রোহিঙ্গারা এই কার্ড নিতে আগ্রহ দেখাত না বলে নিবন্ধন বুথগুলোতে তাদের উপস্থিতি ছিল কম। পরে এনআইডি কার্ডে ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম’ লেখায় এ হতাশা কেটে গেছে। এখন তারা সানন্দে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কার্ড নিচ্ছে।

নিবন্ধনের দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে সব রোহিঙ্গাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এ পর্যন্ত উখিয়া ও টেকনাফে এক লাখ ৪২৩ জন বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধনের আওতায় এসেছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও স্থানীয় উগ্র মগদের হত্যা-নির্যাতনের মুখে গত ২৫ আগস্টের পর এখন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ৬০ শতাংশ শিশু। পাঁচ বছরের বেশি বয়সী সব রোহিঙ্গার নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, কত তারিখ এসেছে, মিয়ানমারে তাদের বাড়ির সংক্ষিপ্ত ঠিকানা, আঙুলের ছাপ ও ছবিযুক্ত লেমেনেটিং পরিচয়পত্র দেয়া হচ্ছে।

মিয়ানমারে না হোক, বাংলাদেশে এসে অন্তত মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র পেয়ে তারা খুব খুশি হয়েছেন বলে জানান কার্ড পাওয়া কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ। তাদের ভাষ্য, ‘মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা নাগরিক হিসেবে মেনে নিলে আমরা নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে শিগগির ফিরে যেতে চাই।’

পরিচয়পত্র গলায় ঝুঁলিয়ে বুথ থেকে বেরিয়ে আসা কিশোরী আসমা, আছিয়া ও কিশোর গফুর জানায়, তারা মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে নিবন্ধিত হতে পেরে আনন্দিত।

বিভিন্ন নথি থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ সীমান্তের মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যটি (পরিবর্তিত নাম রাখাইন স্টেট) একসময় আকিয়াব জেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন এটিকে চারটি জেলায় বিভক্ত করে মিয়ানমার সামরিক সরকার। জেলাগুলো হলো- সিটউয়ে, মংডু, চপ্রু, টাংগুয়ে।

চারটি জেলা নিয়ে রাখাইন রাজ্যকে ১৭টি থানা বা টাউনশিপ করা হয়। টাউনশিপগুলো হলো- আকিয়াব, মংডু, বুচিদং, রাচিদং, পুংনাজুয়ে, কিয়ট্রা, পাত্তরিকিল্লা, মামব্রা, পকটু, ¤্রগুং, অং, চপ্রু, রামব্রি, মেঅং, টংগু, টেংগুয়ে, গোয়া।

এখানে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মংডু ও বুচিডং। এই আরাকান রাজ্যে বসবাসকারী মুসলমানরা বিশেষ করে গত তিন বছরে সেনা ও উগ্রপন্থী মগদের সর্বক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হয়ে শিক্ষা-দীক্ষায় এমন পিছিয়ে পড়ে যে তারা নিজে কোন জেলা বা থানার বাসিন্দা তাও বলতে পারে না। ‘সবার মুখে একই অবস্থা- থানা মংডু, জেলা আকিয়াব’।

অথচ ১৯৭৪ সাল থেকে নতুন জেলা ও থানার প্রশাসনিক শাসনব্যবস্থা চলে আসছে।

(ঢাকাটাইমস/৯অক্টোবর/মোআ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
হজ টিকিটের মূল্য কমে যত হলো
ভোল পাল্টানো লোকজনই এখন অনেক বেশি জুলাই-যোদ্ধা: ফখরুল
তিন দিনের সফরে ঢাকায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর
Call for Sustainable Economy by Reducing Dependence on Foreign Funding: National Professor Mahbub Ullah
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা