ঝিনাইদহে ‘কৌশলী প্রচারে’ বিএনপি

কোরবান আলী, ঝিনাইদহ
 | প্রকাশিত : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৪৬

জেলার চারটি আসনের একটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে। বাকি তিনটির একটিতে শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের কোনো প্রার্থী থাকে কি না, এ নিয়ে আছে সংশয়। কারণ, বিএনপির প্রার্থিতা স্থগিত হয়ে গেছে হাইকোর্টের আদেশে।

১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০১ সাল পর্যন্ত ঝিনাইদহ-১ আসন ছাড়া ভালো করেনি আওয়ামী লীগ। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে চারটি আসনেই জয় পান দলটির প্রার্থীরা। মাঝে ২০১৪ সালে একটি নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত জোট বর্জন করায় কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না ক্ষমতাসীন দলে। তবে এবার প্রতিদ্বন্দ্বীরা ফিরে আসায় আওয়ামী লীগের আসন ধরে রাখা সহজ হবে না।

১০ বছর আগের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সবগুলো আসনে জয় পেলেও ভোটের ব্যবধান খুব বেশি ছিল না। আবার একটি আসনে বিএনপি ও জামায়াতের দুই দলের মধ্যে ভোট ভাগাভাগির সুযোগে জেতেন নৌকার প্রার্থী। সেখানে এবার কেবল জামায়াতের একজন প্রার্থী আছেন।

প্রচারের দিক থেকে আওয়ামী লীগে সাজসাজ রব। নিয়মিত মিছিল, সমাবেশ, মাইকিং, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ চলছে। সেই সঙ্গে কর্মী-সমর্থকরা যাচ্ছেন বাড়ি বাড়ি।

কিন্তু বিএনপির পক্ষে প্রচার চলছে কৌশলী। প্রকাশ্য প্রচার নেই তাদের। তবে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা বুঝাচ্ছেন কেন তাদের ভোট দেওয়া লাভজনক হবে।

ঝিনাইদহ-১

শৈলকূপা উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে লড়ছেন তিনজন প্রার্থী। নৌকা নিয়ে আসছেন আওয়ামী লীগের আব্দুল হাই, ধানের শীষ নিয়ে বিএনপির আসাদুজ্জামান এবং হাতপাখা নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের রায়হান উদ্দিন।
আব্দুল হাই জোর প্রচার চালাচ্ছেন। ১০ ডিসেম্বর থেকেই দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। ২০০১ সালে সারা দেশে দলের বিপর্যয়ের মধ্যেও তিনি ওই আসনে জেতেন।

ঢাকা টাইমসকে গত তিনবারের সংসদ সদস্য বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ভোটাররা উন্নয়নের পক্ষে নৌকায় ভোট দেবে। আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।’

বিএনপির প্রার্থী আসাদুজ্জামানের অভিযোগ, তার কর্মী-সমর্থকদের মাঠে দাঁড়াতেই দেওয়া হচ্ছে না। হামলা মামলায় তটস্ত থাকতে হচ্ছে। বেশ কয়েকটি প্রচার মাইক ভাঙচুর করা হয়েছে। লিফলেট পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে।’
সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ভোটবিপ্লবের মাধ্যমের আশা করছেন ধানের শীষের প্রার্থী।

ঝিনাইদহ-২

হরিণাকু-ু ও সদরের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত আসনে প্রচারে দাপট দেখাচ্ছেন আওয়ামী লীগের তাহজীব আলম সিদ্দিকী। তিনি ২০১৪ সালে নৌকার সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেতেন। এবার পেয়েছেন নৌকা প্রতীক। তার কর্মী-সমর্থকরা রাতদিন প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে।

তাহজীব ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। মানুষ এখন উন্নয়নের পক্ষে। এ নির্বাচনে মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবে।’

তাহজীবের সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মজিদ এখন পর্যন্ত প্রার্থিতা-সংক্রান্ত জটিলতাই কাটিয়ে উঠতে পারেননি। হাইকোর্টের আদেশে তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়ে গেছে। এখনো তিনি আদালতে ঘুরছেন। আর এর প্রভাব পড়েছে প্রচারে। দলের ভেতরেও আছে বিভেদের সুর। দলের একটি অংশ প্রকাশ্যেই তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

ঝিনাইদহ-৩

কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে আওয়ামী লীগের শফিকুল আজম খাঁন চঞ্চলের সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মতিয়ার রহমান। তার কর্মী-সমর্থকরা ব্যাপকভাবে সক্রিয়। মিছিল-সমাবেশ না করলেও বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন।
২০০৮ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগের শফিকুল আজম খান এক লাখ ১৪ হাজার ৭৫৯ ভোট পেয়ে জেতেন। বিএনপির শহিদুল ইসলাম ৫৬ হাজার ৫৬৩ ভোট পেয়ে হন তৃতীয়। আর জামায়াতের মতিয়ার রহমান ৮০ হাজার ২১৬ ভোট পেয়ে হতো তৃতীয়। বিএনপি-জামায়াতের সম্মিলিত ভোট সে সময় মহাজোটের প্রার্থীর ভোটের চেয়ে বেশি ছিল।

এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতর বিভেদ ছিল। বর্তমান সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজসহ ১০ জন পেয়েছিলেন নেকৈা মার্কা। শফিকুল আজম খাঁন চঞ্চল প্রতীক পাওয়ার পর তার পক্ষে সবাই একাট্টা হবে কি না, এ নিয়ে ছিল সংশয়। তবে সেটি হয়নি। একজোট হয়েই প্রচারে নামছেন সবাই নৌকার।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর এই আসনে ব্যাপক সহিংসতা চালায়। শফিকুল আজম খাঁন সেই স্মৃতি তুলে আনার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তুলে ধরছেন উন্নয়নের চিত্র।

ঝিনাইদহ-৪

সদরের আংশিক ও কালীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল আজিম আনার বেশ ফুরফুরে মেজাজে। সমর্থকদের দাবি, গত পাঁচ বছরে এলাকায় যথেষ্ট উন্নয়ন করেছেন। এর প্রভাব পড়বে ভোটে।

আজিম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে দেশের উন্নয়নের সঙ্গে কালীগঞ্জে যে উন্নয়ন হয়েছে অতীতে কোনো এমপি এত উন্নয়ন করতে পারেননি। সে কারণে ভোটাররা তার নৌকার সাথেই আছে। এই আসনে বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আমার দলে এসেছে।’

আজিমের সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ আশায় আছেন, ‘ভোটবিপ্লবের’। তিনি বা তার দলের কর্মী-সমর্থকরাও প্রকাশ্য প্রচারে নেই। এলাকায় পোস্টার কম, মাইকিং, মিছিল, সমাবেশ নেই বললেই চলে।

ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তারা বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। প্রচার মাইক ভাঙচুর, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু বলেন, ‘জনসমর্থন হারিয়ে বিএনপি এখন যে কোনো ছুঁতো খুঁজে একের পর অভিযোগ করে যাচ্ছে। যার কোনো ভিত্তি নেই।... সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসেও বোমা হামলা করা হয়েছে। পুলিশ সেখান থেকে তাজা বোমা উদ্ধার করেছে। তারপরও জনগণের সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ মাঠে আছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :