ঠাকুরগাঁওয়ে আবারো অজ্ঞাত রোগে তিনজন হাসপাতালে

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৫ মার্চ ২০১৯, ১৯:১৫

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার একই পরিবারের তিনজনকে অজ্ঞাত রোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের শরীরেও নিপা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবিএম মনিরুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার উপজেলার বড় পলাশবাড়ি ইউনিয়নের উজরমনি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অসুস্থরা হলেন- উজরমনি গ্রামের নাসিরুল ইসলামের স্ত্রী দুলালী বেগম, তার ছেলে সিয়াম (৮) ও মেয়ে নিতু (৫)।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবিএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে গৃহবধূ দুলালী বেগমসহ তিনজন হাসপাতালে আসেন। তাদের জ্বর, মাথা ব্যথা, শরীরে দুর্বলতার লক্ষণ পাওয়া যায়। বমিও করেছেন। তাৎক্ষণিক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই উপজেলায় একমাস আগে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়। গবেষক দল তদন্ত শেষে জানিয়েছিলেন তাদের শরীরে নিপা ভাইরাস পাওয়া গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আবার একই পরিবারের তিনজন অসুস্থ হয়েছেন এবং তাদের শরীরেও নিপা ভাইরাসের লক্ষণগুলো দেখা যাচ্ছে।’

অসুস্থ দুলালী বেগমের স্বামী নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার রাতে এক প্রতিবেশী তার স্ত্রীকে কিছু বরই দেন। ওই বরই তার স্ত্রী ও দুই সন্তান খায়। পরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা বমি করতে থাকে এবং জ্বর, মাথা ব্যথা ও শরীরে দুর্বলতা অনুভব করে।’

বড় পলাশবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন আগেও পাশের ধনতলা ইউনিয়নে নিপা ভাইরাসে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এখন আমার ইউনিয়নের একই পরিবারের তিনজন অসুস্থ। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এই রোগটি নির্ণয় করার দাবি জানাচ্ছি।’

সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. খায়রুল কবির বলেন, ‘তিনজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদাভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তারা কী কারণে অসুস্থ হয়েছে, তা নির্ণয় করার চেষ্টা চলছে।’

এলাকার মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে মাস্ক পরার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ৯ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের ভান্ডারদহ মরিচপাড়া গ্রামে আবু তাহের, তার জামাতা হাবিবুর রহমান ছুটু, স্ত্রী হোসনে আরা, দুই ছেলে ইউসুফ আলী ও মেহেদী হাসান অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

পরে ঢাকা থেকে মেডিকেল টিম এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ওই পাঁচজনের মৃত্যুর জন্য নিপা ভাইরাস দায়ী বলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) নিশ্চিত করে।

(ঢাকাটাইমস/১৫মার্চ/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত