'ওয়ান স্টুডেন্ট-ওয়ান ট্রি' কর্মসূচিতে ২ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা নেটওয়ার্ককে সম্পৃক্ত করে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ‘ওয়ান স্টুডেন্ট-ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ২ কোটি গাছ লাগানোর রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস-গ্রিন এনার্জি’ উদ্যোগের মাধ্যমে অধিভুক্ত কলেজগুলোকে পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাসে রূপান্তরের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
সভায় জানানো হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২ হাজার ৩০০টির বেশি কলেজ এবং প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে একজন শিক্ষার্থী অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করলে প্রতিবছর প্রায় ৪০ লাখ এবং পাঁচ বছরে অন্তত ২ কোটি গাছ লাগানো সম্ভব হবে।
শুধু গাছ লাগানো নয়, রোপণ করা গাছের অন্তত ৮০ শতাংশ টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা, জেলা ও বিভাগভিত্তিক তদারকি এবং জবাবদিহিতার কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অঞ্চলভেদে উপযোগী বৃক্ষের প্রজাতি নির্বাচন ও রোপণের স্থান নির্ধারণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সভায় ‘গ্রিন ক্যাম্পাস-গ্রিন এনার্জি’ কর্মসূচির আওতায় কলেজগুলোতে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন উপাচার্য। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি কলেজে পাইলট প্রকল্প চালুর পর পর্যায়ক্রমে দেশের সব অধিভুক্ত কলেজে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন, রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, ইউনেস্কো চেয়ার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নুরুন্নবী, জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এস এম রেজাউল ইসলামসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনেস্কো ও জাইকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































