টিপস

ভেন্ডরের সহায়তা ছাড়া হ্যাম রেডিও আমদানির উপায়

এ. বি. এম তানভীর হাসান, অতিথি লেখক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ১৩:০৮ | প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৯, ১২:৪১

অ্যামেচার রেডিও অপারেটর কল সাইন পাওয়ার পর প্রথম যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় সেটি হলো রেডিও সেট সংগ্রহ করা। কয়েকভাবেই একজন অ্যামেচার তার রেডিও সেট সংগ্রহ করতে পারেন। প্রথমটি হচ্ছে ভেন্ডরের মাধ্যমে সেট আমদানি করা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে নিজের সেট নিজেই আমদানি করা। এবং শেষ পন্থাটি হলো-অন্য একজন অ্যামেচার রেডিও অপারেটরের কাছ থেকে সেট ডোনেশন নেয়া। এছাড়াও বিটিআরসির অনুমতি নিয়ে রেডিও সেট নিজেই তৈরি করে ব্যবহার করা যায়। 

আমি সিয়েরা টোয়েন্টি ওয়ান ভিক্টর ইউনিফর্ম (S21VU) আজ আপনাদের জানাবো কি করে ভেন্ডরের সহায়তা ছাড়াই নিজের রেডিও সেট নিজেই আমদানি করবেন। 

অ্যামেচার রেডিও বা হ্যাম রেডিও পরিচালনার জন্য দেশে লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এজন্য বিটিআরসি একটি পরীক্ষায় আয়োজন করে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের চাহিদার প্রেক্ষিতে কল সাইন ইস্যু করা হয়। এর পরের ধাপে কল সাইনপ্রাপ্ত অ্যামেচার রেডিও অপারেটরগণ বিটিআরসির কাছ থেকে অ্যামেচার ব্যান্ডের রেডিও সেটের জন্য ছাড়পত্র সংগ্রহ করেন। এই ছাড়পত্র দিয়ে ভেন্ডর কিংবা নিজে নিজেই সেট আমদানি করা যায়।

একজন অ্যামেচার রেডিও অপারেটরকে বিটিআরসি তিন ধরনের রেডিও সেট ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এগুলো হলো- ৫ ওয়াটের ভিএইচএফ, ইউএইচএফ রেডিও। যেটাকে অন্যরা বলেন ওয়াকিটকি। হ্যামরা বলেন হ্যান্ডি। এছাড়াও আছে ২৫ ওয়াটের ভিএইচএফ, ইউএইচএফ রেডিও। যেটাকে হ্যামরা বলেন বেজ রেডিও। হ্যান্ডির মত এর মোবিলিটি থাকলেও এটা মূলত অ্যামেচার রেডিও স্টেশনের ব্যবহারের জন্য। তবে দূর্যোগের সময় এই বেজ রেডিও গাড়ি ও নৌ-যানে ব্যবহারের অনুমতি দেয় বিটিআরসি। সর্বশেষ রেডিও হলো ১০০ ওয়াটের এইচএফ রেডিও। এটিও একটি বেজ রেডিও। এই রেডিও দিয়ে অ্যামেচার রেডিও অপারেটরা বর্হিঃবিশ্বের অ্যামেচার রেডিও অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। 

কল সাইন পাওয়ার পর অ্যামেচার রেডিও অপারেটরকে রেডিও সেটের সন্ধান করতে হয়। এজন্য আপনি সিনিয়র হ্যাম এবং ইন্টারনেটের সাহায্য নিতে পারেন। আপনি যে রেডিও সেটটি নিতে চান সেটি হ্যাম ফ্রিকোয়েন্সির কি না সেটি প্রথমেই নিশ্চিত হোন। এজন্য বাংলাদেশের ন্যাশনাল ফ্রিকোয়েন্সি অ্যালোকেশন প্লান(এনএফএপি) দেখে নিন।  

আমার পরামর্শ হলো-আপনি যদি নতুন অ্যামেচার রেডিও অপারেটর হোন তবে রেডিওতে আপনার হাতেখড়ি হোক ৫ ওয়াট দিয়ে। এজন্য আপনি বিটিআরসিতে ৫ ওয়াটের একটি ভিএইচএফ ও ইউএইচএফ ডুয়েল ব্যান্ডের রেডিও সেটের এনওসি-এর(ছাড়পত্র) আবেদন করুন।

আপনার কাঙ্খিত সেটটি যদি অ্যামেচার ব্র্যান্ডের হয় তবে আপনাকে বিটিআরসি ছাড়পত্র দেবে। এর পরের ধাপে আপনাকে এই সেট আমদানির জন্য প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।  

ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখুন বিশ্বের কোন কোন প্রতিষ্ঠান অ্যামেচার রেডিও সেট তৈরি করে। তাদের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ ঘেঁটে অ্যামেচার ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও সেট খুঁজে বের করুন। এবার এই সেট অ্যামাজন, আলিএক্সপ্রেস, ই-বের মত ই-কমার্স ওয়েবসাইট পাওয়া যায় কি না সেটা দেখুন। এবার ওসব ই-কমার্স সাইটে গিয়ে আপনার কাঙ্খিত পণ্যটি বাংলাদেশে শিপমেন্ট দেয়া হবে কি না সেটা জানুন। এক্ষেত্রে ভেন্ডরের কাছে ই-মেইলও করতে পারেন। তখন ভেন্ডর আপনাকে ফিরতি মেইলে জানিয়ে দেবে বাংলাদেশে ওই রেডিও সেটটি তারা শিপমেন্ট করবে কি না। শিপমেন্টের খরচটা কে বহন করবে সেটা জানতে ভুল করবেন না। 

আপনার হ্যাম রেডিও সেটটি আন্তর্জাতিক ভেন্ডর বাংলাদেশে শিপমেন্ট করতে যদি রাজী হয়, তখন ওই সেটের ব্রোশিয়ারসহ বিটিআরসিতে এনওসির জন্য আবেদন করুন। সেটটি আপনি কোন মাধ্যমে আনছেন সেটা উল্লেখ করতে ভুলবেন না। ধরুন আপনি সেটটি অ্যামাজন থেকে বাংলাদেশে আনছেন। এই তথ্যটি বিটিআরসিকে আবেদন পত্রে জানিয়ে দেবেন। 

বিটিআরসি থেকে এনওসি পেলে আপনি সেট অর্ডার করবেন। অর্ডার করার সময় অবশ্যই বিক্রেতাকে পণ্যের সঙ্গে প্রেরিত ইনভেয়েসে বাংলাদেশে প্রযোজ্য এইচ. এস. ট্যারিফ কোডটি উল্লেখ করে দিতে বলবেন। 

আপনার রেডিও সেটটি পোস্ট অফিসের মাধ্যমে চলে আসবে। তখন পোস্ট অফিস থেকে আপনার কাছে এইচ. এস. ট্যারিফ কোড অনুযায়ী কাস্টম ডিউটি এবং অন্যান্য খরচসহ একটি ডিমান্ড নোট পাঠাবে। এবং একই সঙ্গে আপনার কাছে বিটিআরসি কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য আরেকটি ছাড়পত্র বা এনওসি  চাইবে। তখন আপনি পোস্ট অফিস থেকে পাওয়া সকল কাগজপত্র এবং অনলাইন ইনভয়েজ, কাস্টমস ডিমান্ড নোট এবং আপনার প্রথম এনওসিসহ বিটিআরসির কাছে আরেকটি এনওসির জন্য আবেদন করবেন। যাচাই-বাছাই শেষে বিটিআরসি আপনাকে আরেকটি এনওসি বা কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স দেবে। এবার পোস্ট অফিসে বিটিআরসির সর্বশেষ এনওসি দেখিয়ে তাদের সকল পাওনা পরিশোধ করে সেট বুঝে নিন।   

সেট হাতে পাওয়ার পর ডিভাইসের ছবি এবং ব্যাক প্লেটের সিরিয়াল নম্বরের ছবি তুলে বিটিআরসিতে আরেকটি আবেদন করতে হবে। এই আবেদনটি হবে আপনার লাইসেন্সে রেডিও সেটের তথ্য লিখে দেবার জন্য। পরিশেষে বিটিআরসি আপনার অ্যামেচার রেডিও অপারেটরের প্রভিশনাল লাইসেন্সটি ফেরত নিয়ে আপনাকে ‘অ্যামেচার রেডিও অপারেটর লাইসেন্স’ দেবে। যেটাতে আপনার রেডিও সেটের তথ্য উল্লেখ থাকবে। 

আপনি যদি আপনার রেডিও সেটটি বিদেশ থেকে নিজেই আনতে চান তবে প্রথমে এনওসি নিয়ে বিদেশ চলে যান। বিদেশে অবস্থানকালে রেডিও সেটটি কিনুন। এবার বিদেশ থাকাকালীন সময়েই বিটিআরসিতে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স বা এনওসির জন্য অনলাইনে আবেদন করুন। এই আবেদনপত্রে এইচ. এস কোড সম্বলিত ইনভয়েজ, এনওসি, লাইসেন্স নম্বর উল্লেখ করতে হবে।  
 
আপনার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিটিআরসি কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য এনওসি দেবে। যেটি আপনাকে মেইলে পাঠিয়ে দেয়া হবে। সেটি আপনি প্রিন্ট দিয়ে হাতে রাখুন। এয়ারপোর্টে এসে ওই এনওসি দেখিয়ে সেটের কাস্টমস চার্জ এবং অন্যান্য খরচ পরিশোধ করে সেটটি ছাড়িয়ে নিন।   

আপনার কোনো বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয় আপনার হয়ে রেডিও সেট বিদেশ থেকে আনতে পারবে কি না সেটা সম্পূর্ণ বিটিআরসির উপর নির্ভর করে। তাই সরাসরি বা নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে রেডিও ইকুইপমেন্ট আমদানি আগে বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নেয়া উচিত। 

(ঢাকাটাইমস/১৯মার্চ/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :