রূপচাঁদা সরিষার তেলের লাইসেন্স স্থগিতকরণ প্রসঙ্গে এডিবল অয়েলের বক্তব্য

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ২৩ মে ২০১৯, ০৯:৪৯ | প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৯, ২১:২২

বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড বিগত ২৬ বছর ধরে ভোজ্যতেল ও চালের বাজারে সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছে। বিইওএল-এর অন্যতম ব্র্যান্ড রূপচাঁদাই দেশের প্রথম ব্র্যান্ড, যা জনস্বার্থে সয়াবিন তেলে ভিটামিন এ ফর্টিফিটিকেশন করেছিল, ভিটামিন এ ফর্টিফিটিকেশনের আইন প্রণয়নের আগে থেকেই। রূপচাঁদা অবিসংবাদিতভাবে দেশের ১ নম্বর ভোজ্য তেলের ব্র্যান্ড, যা দেশের বাইরেও একাধিক স্বীকৃতপ্রাপ্ত- যার মধ্যে রয়েছে AIB (American Institute of Bakers) সার্টিফিকেট এবং FSSC 22000 (ISO 22000:2005 & ISO TS 22000-1:2009) সনদ।

বিগত ২৮ এপ্রিল BSTI কর্তৄক প্রদত্ত চিঠিতে আমরা জানতে পেরেছি যে, আমাদের একটি পণ্য রূপচাঁদা সরিষার তেলে সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে ৩ পিপিএম (০.০০৩ গ্রাম/কেজি) আয়রন বেশি আছে। বাঙালির আবহমান সংস্কৃতির ধারক ঘানিতে ভাঙানো রূপচাঁদা সরিষার তেলের বীজ আহরণ থেকে বোতলের প্যাকেটজাত করার পুরো প্রক্রিয়ায় বাইরে থেকে কোন প্রকার উপাদান/রাসায়নিক মেশানো হয় না। সরিষার তেলে উপস্থিত আয়রণ, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবেই উপস্থিত থাকে এবং তেলের গুণগত মান অক্ষুন্ন রেখে এই আয়রণ তেল থেকে অপসারণ করাও সম্ভব নয়। আবার, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ভারী ধাতুর তালিকায় আয়রন নেই। বরং পুষ্টিবিজ্ঞান মোতাবেক প্রত্যহ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আয়রন মানবদেহের জন্য অপরিহার্য।

রূপচাঁদা সরিষার তেলের বীজ সংগ্রহ করা হয় দেশীয় কৃষকদের কাছ থেকে। এই বীজ ব্যবহার করা না গেলে আদতে দেশের কৃষি খাতের বিকাশই ব্যাহত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ সরিষা চাষীরা। এমতাবস্থায়, আমরা BSTI কে অনুরোধ করেছি প্রচলিত উপায়ে দেশীয় বীজ থেকে ঘানিতে সরিষার তেল ভাঙ্গিয়ে দেখতে, এবং সে অনুযায়ী মানসমূহ পুনঃনির্ধারণ করতে। এর প্রেক্ষিতে আমরা যদি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে তুলনা করতে পারি, যেখানে ২০১৭-১৮ সালে ২.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন সরিষার তেল উৎপাদন হয়েছে, যা বাংলাদেশের সব ধরণের ভোজ্যতেলের বার্ষিক ব্যবহারের সমপরিমাণ। ভারতের ব্যুরো অব স্ট্যান্ডার্ডের IS ৫৪৬-১৯৭৫ ধারায় উল্লেখিত সরিষার তেলের সম্ভাব্য ৪টি ক্ষতিকর ধাতুর তালিকায় আয়রন নেই, কৃষি মন্ত্রণালয়ের Agmark স্ট্যান্ডার্ডের সম্ভাব্য ৪টি ক্ষতিকর ধাতুর তালিকায় আয়রণ নেই, এমনকি বাধ্যতামূলক FSSAI স্ট্যান্ডার্ডের সম্ভাব্য ক্ষতিকর ধাতুর তালিকায়ও আয়রণ নেই। একারণে ভারতের কোন স্ট্যান্ডার্ডেই আয়রণের কোন মাত্রা উল্লেখ করা হয়নি। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত CODEX স্ট্যান্ডার্ড, যাকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৄপক্ষ খাদ্যমান নির্ধারণে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই স্ট্যান্ডার্ডে উল্লেখিত ৫টি ভারী ধাতুর তালিকাও আয়রণ নেই।

কনশাস কনজ্যুমার সোসাইটির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত রূপচাঁদা সরিষার তেলসহ কিছু পণ্যের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেয়াতে আমাদের প্রতিষ্ঠান আদালতের নির্দেশের প্রতি সম্মান দেখিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের সকল সম্মানিত ভোক্তাগণ আমাদের উৎপাদিত সকল পণ্যের ওপর নিশ্চিত আস্থা অক্ষুন্ন রাখতে পারেন। রূপচাঁদা সবসময়ই ভোক্তাদের সেরা মানের পণ্য সরবরাহ করবে, নিশ্চিত করবে স্বাস্থ্যকর প্রতিটি ফোঁটা।

(ঢাকাটাইমস/২২মে/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :