বান্দরবানে বিভিন্ন সড়কে যোগাযোগ বন্ধ

বান্দরবান প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ জুলাই ২০১৯, ২২:১০

ভারী বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে বান্দরবানের সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। আট দিন পর বান্দরবানের সাথে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজরের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বান্দরবানের সাথে রুমা ও রোয়াংছড়ির এখনো যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ভেঙে বন্ধ রয়েছে জেলা সদরের সাথে রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার যান চলাচল।

গত এক সপ্তাহে জেলার ৩৬টি জায়গায় প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে থানচি-আলীকদম সড়কের ২২ কিলোমিটার বড় ফাটল এবং ওয়াইজংশন থেকে রুমা সড়কের ১৬ কিলোমিটার রাস্তা পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট পয়েন্টে সড়কের শোল্ডার (রাস্তার দু’পাশের অংশ) ভেঙে গেছে। যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সেসব এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। সীমাহীন দূর্ভোগে রয়েছে এইসব এলাকার মানুষ।

এদিকে বান্দরবান-রুমা উপজেলা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ায় বান্দরবান-রুমা সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে স্থানীয়রা চলাচল মাধ্যম হিসেবে বেছে নিছে নৌ-পথ। গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়াসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম,পচতে শুরু করেছে কাঁচামাল। ফলে চরম বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আট দিন টানা বৃষ্টিতে বান্দরবান-রুমা উপজেলা সড়কের নয় মাইল, ১২ মাইল দৌলিয়নপাড়া, হিমাগ্রীপাড়া, কক্ষ্যংঝিড়িসহ বিভিন্ন স্থানের সড়ক ভেঙে বড় বড় নালার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে বান্দরবানের সাথে রোয়াংছড়ি উপজেলা সড়কে লুংলাই পাহা, শামুক ছিড়িপাড়া এলাকায় সড়কের উপর পাহাড় ধসে রোয়াংছড়ির সাথেও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

রুমা বাজারের বাসিন্দা শৈহ্লাচিং মারমা বলেন, ‘রুমা থেকে বান্দরবান সদরে যেতে জনপ্রতি ভাড়া গুণতে হচ্ছে ছোট ইঞ্জিনবাহী নৌকা ৩০০ টাকা ও বড় ইঞ্জিনবাহী নৌকা ২০০ টাকা, যা সড়ক পথে ছিল ১১০ টাকা।

রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ শামসুল আলম  জানান, বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার কয়েকটি অংশ মাটিতে ধসে পড়েছে। আবার কোথাও কোথাও সড়কে মাটি ধসে পড়ে রাস্তা ব্লক হয়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, বান্দরবান রুমা সড়কে ৪৬টি বেইলি সেতু রয়েছে। কয়েকটি বেইলি সেতুর গোড়া থেকে একেবারে মাটি সরে গেছে। ভারী যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, ওই রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ ও মোটরসাইকেল যাতায়াত করাও ঝুঁকির্পূণ।

রোয়াংছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান চহাইমং মারমা জানান, সড়কে ভারী যান চলাচল করতে পারছে না। সড়ক দ্রুত সংস্কার না হলে যাতায়াতে সমস্যা দেখা দিবে। আবার কাঁচা বাজারে  পণ্যেও দাম, তেলের দাম অধিকরত বেশি নিচ্ছে। এর ফলে জনগণের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সজীব আহম্মদ বলেন, ‘বান্দরবান-রুমা-থানচি-রোয়াংছড়ি উপজেলার প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচলের উপযোগী করে তোলার জন্য সড়ক ও জনপথ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইঞ্জিনিয়ারিং টিম প্রতিনিয়ত কাজ করছে। সড়ক যোগাযোগ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রায় ২২ থেকে ২৫ কোটি টাকা লাগবে। তবে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের যে চারটি জায়গায় পানি জমে প্রতি বছর যাতায়াত ব্যাহত হয়, সে জায়গাগুলোতে সড়ক মেরামত ও উঁচু করার কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৫ কোটি টাকা, যা এ বছর একনেকে পাস হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৮জুলাই/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :