রিভেঞ্জ পর্নেও ব্যবসা করছে পর্নহাব

বিনোদন ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৫০

প্রতিশোধমূলক বা রিভেঞ্জ পর্ন থেকেও ব্যবসা করছে পর্ন স্ট্রিমিং সাইট পর্নহাবের মালিকরা। বড় সমস্যা হচ্ছে, এসব ভিডিওর বিরুদ্ধে একবার রিপোর্ট হওয়ার পর সেগুলোকে পুরোপুরি অপসারণ করা যায় না।

রিভেঞ্জ পর্ন বলতে বোঝায়, যেখানে বিনা সম্মতিতে মানুষের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয়। যার বেশিরভাগই ছড়ানো হয় অনলাইনে। এসবের উদ্দেশ্য থাকে ভুক্তভোগীদের চরম দুর্দশার মধ্যে ফেলা এবং বিব্রত করা।

এই ছবি বা ভিডিওগুলো দুইভাবে ছড়াতে পারে। প্রথমত, ব্যক্তির সাবেক যৌনসঙ্গী ইচ্ছাকৃতভাবে সেটা ছেড়ে দিতে পারে। আবার দুজনেরই অগোচরে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি তাদের ডিজিটাল আর্কাইভ অথবা আইক্লাউড থেকে কন্টেন্টগুলো চুরি করতে পারে।

ভূক্তভোগী এক নারী বলেন, তার এমন একটি ভিডিও কেউ অনলাইনে আপলোড করার পর সেটা কয়েক হাজার বার দেখা হয়। এই ঘটনায় তিনি ভীষণভাবে অপমানিত বোধ করছেন।

তবে পর্নহাব বলেছে, তারা রিভেঞ্জ পর্নের তীব্র নিন্দা জানায়। এছাড়া তারা ওই ভূক্তভোগী নারীর কাছ থেকে কোনো অভিযোগ বা ইমেইল পাননি বলেও দাবি করে। তবে ওই নারী চাইছেন, তাকে নিয়ে করা ভিডিওটি যেন নামিয়ে ফেলা হয়।

ঘটনা সম্পর্কে ওই নারীর বক্তব্য, ১৮ মাস আগে পরিবারের সঙ্গে তিনি বেড়াতে বের হয়েছিলেন। সেখানে তিনি তার মোবাইলে কিছু মিসড কল এবং ম্যাসেজ খুঁজতে ফোনটি পরীক্ষা করেছিলেন। এরপর ওই নারীর বোনের প্রেমিক তার ভিডিওগুলো বিশ্বের বৃহত্তম পর্ন ওয়েবসাইট পর্নহাবে খুঁজে পান।

ওই নারীর ভিডিওটি ছিল শীর্ষ দশের তালিকায়। যার ভিউয়ার সংখ্যা ছিল কয়েক লাখ। তিনি বলেন, ‘আমি হতবাক, বিব্রত এবং অপমান বোধ করেছিলাম।’ ওই নারী জানান, তিনি তার সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে ছয়টি ভিডিও বানিয়েছিলেন। সম্পর্ক ভাঙার পর সাবেক প্রেমিকই নাকি এসব ভিডিও আপলোড করেন।   

অথচ এসব কন্টেন্ট অনলাইনে আপলোড দেয়ার কোনো ওই নারী দেননি। পর্নহাবে ভিডিওগুলো আপলোডের বিষয়ে তিনি জানার পর সংস্থাটি এক সপ্তাহের মধ্যে সেগুলো নামিয়ে ফেলে। তবে, পর্নহাবের এই ছয়টি ভিডিও থেকে আরও প্রায় ১০০টি ভিডিও ক্লিপ তৈরি করে এবং পরে সেগুলো সাইটে পুনরায় আপলোড দেয়।

ভূক্তভোগী ওই নারী তখন অন্য একটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যারা মূলত পর্নহাবের ভিডিওগুলো নেয়ার অনুরোধগুলো পরিচালনা করে। তবে তাদের কাছ থেকেও তিনি তেমন সমাধান পাননি। এরপর তিনি পুলিশের কাছেও গিয়েছিলেন। কিন্তু আজ অবধি কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

তবে পর্নহাবের দাবি, ‘২০১৫ সালে আমাদের সমস্ত ভক্তদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে রিভেঞ্জ পর্নের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলাম। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, এগুলো এক প্রকার যৌন হয়রানি। তাই অনুমতি ছাড়া আপলোড করা এসব কন্টেন্ট সহজে সরানোর জন্য একটি ফর্মও আমরা চালু করেছি।’

ঢাকাটাইমস/০৯ সেপ্টেম্বর/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত