শ্রীলঙ্কায় নিহত যায়ানের নামে বনানীতে খেলার মাঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:৫০

শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি যায়ান চৌধুরীর নামে পার্ক ও খেলার মাঠ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শনিবার পার্ক ও খেলার মাঠের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং শেখ ফজলুল করিম সেলিম বনানী-১ নম্বর সড়কে ‘শহীদ যায়ান চৌধুরী খেলার মাঠ উন্নয়ন কাজের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

গত ২২ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার কলোম্বতে স্টার সানডে চলাকালীন সিরিজ বোমা হামলা হয়। কয়েক দফা বোমা হামলায় বিদেশিসহ ২৯০ জন নিহত হন। তাদের একজন শিশু যায়ান চৌধুরী। সে রাজধানীর বনানী এলাকায় বসবাস করত। যায়ান যে মাঠে খেলাধুলা করত, সে মাঠের নামকরণ করা হয়েছে তারই নামানুসারে। এটিকে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ’ বলে মন্তব্য করেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে মেয়র বলেন, ‘বনানীর এ মাঠটি শ্রীলঙ্কায় সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী বোমা হামলায় নিহত যায়ান চৌধুরীর নামে নামকরণ করা হয়েছে। যায়ান এলাকার অন্য শিশুদের সঙ্গে এ মাঠে খেলত। তার মর্মান্তিক মৃত্যুর পরে এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে এ মাঠটি তার নামে রাখা হয়েছে।’

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘যায়ান চৌধুরীর মতো আর কাউকে যেন প্রাণ দিতে না হয় এবং একটি সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ যেন গড়তে পারি আমাদের সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

নাগরিকদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘যে দেশ গড়ায় বঙ্গবন্ধু প্রাণ দিয়েছেন সে দেশে আমরা ময়লা-আবর্জনা ফেলতে পারি না। সুনাগরিক হিসেবে আমরা সকলে নিজ-নিজ দায়িত্ব পালন করলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে পারব।’

নগরবাসীর খেলাধুলা, শরীরচর্চা এবং বিনোদনের জন্য ডিএনসিসির ২৬টি পার্ক ও খেলার মাঠের সংস্কার কাজ খুব দ্রুত সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে চারটি পার্কের সংস্কার কাজ প্রায় শেষের দিকে বলে জানান ঢাকা উত্তরের মেয়র।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে যায়ানের নানা শেখ সেলিম বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতার বাড়াবড়ির কারণে যায়ানকে প্রাণ দিতে হয়েছে।’

 ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এস এম কনস্ট্রাকশন' উন্নয়ন কাজটি সম্পন্ন করবে। ৫ কোটি ১৯ লাখ ১৭ হাজার ১৭০ টাকা ব্যয়ে আগামী বছর ১ মার্চের মধ্যে ২.৪৮ একর আয়তনের মাঠটির উন্নয়ন কাজ শেষ হবে।

উন্নয়ন কাজ শেষ হলে আন্তর্জাতিক মানের উপকরণ ও প্রযুক্তি দ্বারা মাঠ ও ক্রিকেট পিচ, মনোরম ও আধুনিক উপকরণ দিয়ে নির্মিত ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল ওয়াক-ওয়ে, এলাস্টোপেভ ওয়াক-ওয়ে, শিশুদের জন্য আলাদা প্লেইং জোন, পাবলিক টয়লেট, নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা চেঞ্জিং রুম করা হবে। এছাড়া বসার বেঞ্চ, ক্রিকেট নেট প্র্যাকটিস ব্যবস্থা, মাঠের চারপাশে মনোরম ও সৌন্দর্যবর্ধক বাউন্ডারি ফেন্সিং ও গ্রিন বেল্টও থাকবে বলে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা এবং বয়সী মানুষের, বিভিন্ন ক্লাব, সোসাইটির অংশগ্রহণে তাদের চাহিদা অনুযায়ী মাঠটির ডিজাইন করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে যায়ানের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মফিজুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক ড. তারিক বিন ইউসুফ, স্থপতি ইকবাল হাবিব।

ঢাকাটাইমস/১৪সেপ্টেম্বর/কারই/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :