শুরুতেই চাপে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৭

কমিটি করার আগে এক দফা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছিল ছাত্রদল। এবার নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেন সংগঠনটির নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

অন্যদিকে দায়িত্ব পাওয়ার পর দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন তারা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেরা নিরাপদ থাকলেও ছাত্রলীগের হামলায় ১৫ জনের মতো নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। যাত্রার শুরুতেই ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চাপের মুখে পড়েছেন বলে মনে করছেন খোদ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ছাত্রদলের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন সংগঠনটির সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন।

সভাপতি-সম্পাদকের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো কোনো কাগজপত্র আসেনি। কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে আমরা নির্বাচিত। তাই আমাদের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কোনো এখতিয়ার আদালতের নেই।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পরিস্থিতি অনেকটা এলোমেলো মনে হচ্ছে। দায়িত্ব নিতে নিতেই কয়েকটি সমস্যা সামনে এল। বিশেষ করে আদালতের বিষয়টি কোন পর্যন্ত গড়ায় বোঝা মুশকিল।’

দুই যুগের বেশি সময় পর গত বুধবার নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করে ছাত্রদলের প্রায় ৫০০ কাউন্সিলর। নতুন সভাপতি হন ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ইকবাল হোসেন শ্যামল।

ছাত্রদলের এই কাউন্সিলের পথটা তেমন মসৃণ ছিল না বিএনপির জন্য। নানা শঙ্কা মাথায় নিয়ে প্রায় চার মাস ধরে কাজ করার পর শেষ বেলায় সাবেক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা আমানউল্লাহর আর্জিতে কাউন্সিলের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত।

কাউন্সিলের দুই দিন আগে ১২ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ঢাকার চতুর্থ সহকারী সিনিয়র জজ নুসরাত সাহারা বিথী। একই সঙ্গে ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সাত দিনের মধ্যে বিএনপির মহাসচিবসহ দলটির ১০ নেতাকে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

সব প্রস্তুতি শেষে এমন আদেশে বেকায়দায় পড়ে যান আয়োজকরা। পরে অবশ্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই নির্বাচন হয়। নির্বাচিত হয় নতুন নেতৃত্ব।

নির্বাচনের পরদিন গত বৃহস্পতিবার ফল ঘোষণা হয়। এরপর এখন পর্যন্ত কর্মসূচি বলতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ছাত্রদল, যাতে বিএনপির শীর্ষ নেতারাও ছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এ সময় তারা ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের ব্যাপারে উপাচার্যের সহাযোগিতা চান।

এই অবস্থার মধ্যেই গতকাল একই আদালত থেকে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। আগামী সাত দিনের মধ্যে সংগঠনটির দুই শীর্ষ নেতাকে কারণ দর্শানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের পেশকার কল্যাণ কুমার সাহা বলেন, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ইকবাল হোসেনকে এ মামলায় পক্ষ করার আবেদন করেন মামলার বাদী। এ সময় বর্তমান কমিটির কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তার জন্য আবেদন করা হয়। তাদের কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করেন। আদালত ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এ মামলায় পক্ষ করে তাদের কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে সাতদিনের মধ্যে এ বিষয় জবাব দেয়ার জন্য নোটিশ জারি করেন।

এদিকে এই নিষেধাজ্ঞা জারিকে বেআইনি দাবি করে বিএনপির আইনজীবী বোরহান উদ্দিন বলেন, তারা এই মামলায় পক্ষ হয়ে জবাব দাখিলের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ১৪ অক্টোবর জবাব দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ (সোমবার) তারা নতুন করে একটি আবেদন করেন। আবেদনে তারা নতুন কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারিকে পক্ষ করেন। এছাড়া বর্তমান কমিটির কার্যক্রম স্থগিত চান। আদালত তাদের আবেদন মঞ্জুর করেন। নিয়ম হচ্ছে, ধার্য তারিখে কোনো শুনানি করতে হয়। তারা ধার্য তারিখে শুনানি করেননি, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

আদালত কার্যক্রম না চালাতে নির্দেশনা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা বলে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনে যদি কোনো অনিয়ম হতো তাহলে বিষয়টি ভিন্ন ছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ স্বচ্ছ একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত সভাপতি-সম্পাদকের কার্যক্রমের ওপর আদালত কীভাবে নিষেধাজ্ঞা দেয় তা আমার বোধগম্য নয়।’

তবে সভাপতি যাই বলুক বিষয়টি হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন সদ্য সাবেক কমিটির এক  কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘ঢাবির ঘটনার পর আদালতের এই আদেশ এটা ভালো লক্ষণ নয়। নতুন নেতৃত্বের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগোতে হবে। ’

(ঢাকাটাইমস/২৪সেপ্টেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :