সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষক ও সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে হবে

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ২৩:৩০

শুদ্ধি অভিযান চলতে থাকলে সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকরা চিহ্নিত হওয়া সম্ভব। এই পৃষ্ঠপোষক আর সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা না গেলে সম্রাটদের সৃষ্টি থামানো সম্ভব নয়। বেসরকারি টিভি চ্যানেল ডিবিসির ‘সংবাদ সম্প্রসারণ’ আলোচনায় বিশিষ্ট সাংবাদিক  রিয়াজুদ্দিন আহমেদ ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আরেফিন সিদ্দিক আলাপচারিতায় এই মত উঠে এসেছে। আলোচনার সূত্রধর ছিলেন শাহনাজ রুমা।

ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে আটকের মাধ্যামে কী বাংলাদেশে ক্যাসিনোর উত্থান এবং বিস্তার সেটি কী শেষ হয়ে গেল?

আরেফিন সিদ্দিক: এটা বলা মুশকিল। অপরাধ শেষ হতে গেলে একটি অপরাধীকে ধরলে আরো দশটি অপরাধীর সৃষ্টি হয়। কারণ মানুষ যখন দেখে কত সহজেই মুনাফা এবং প্রভাব বিস্তার করা যায়। তাই সেই অপরাধের দিকে যাওয়ার একটি প্রবণতা থাকে। এটা বন্ধ হবে তখনই যখন নিয়মিত বন্ধের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি মনিটরিংটা দরকার। এছাড়া যাদের ধরা হবে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।

এই আটকের মাধ্যমে কি কারা সম্রাটকে তৈরি করেছে সেটি বেরিয়ে আসবে?

রিয়াজুদ্দিন আহমেদ: মূল কথা এটাই যে কারা সম্রাটকে তৈরি করেছে। যেহেতু তিনি রাজনৈতিক নেতা তার মানে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়েই তিনি তৈরি হয়েছেন।
সম্রাটকে যারা তৈরি করেছেন তাদের কী সামনে আনা প্রয়োজন? আর   তার সহযোগীরা তার পক্ষে স্লোগান দিচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়েও বলবেন।

আরেফিন সিদ্দিক: অপরাধের মাত্রা যদি কমাতে হয় তাহলে অপরাধ সৃষ্টির জায়াগা চিহ্নিত করতে হবে। আর এটা স্বাভাবিক যে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করতে যারা তাকে সহযোগিতা করেছে তারাও সেই সুবিধা পেয়েছে। তাই সুবিধাভোগীরা তার পক্ষে অবস্থান করবে এটাই স্বাভাবিক।
ব্যক্তির অপকর্মের দায় যুবলীগের নয়। কিন্তু  দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এ অন্যায়ের দায় কি দল শুধু বহিষ্কারের মাধ্যমে এড়াতে পারে?

রিয়াজুদ্দিন আহমেদ: যুবলীগ আওয়ামী লীগের একটি অঙ্গসংগঠন। আওয়ামী লীগও তাই দায় এড়াতে পারে না। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি যে রাজনীতিটা অরাজনৈতিক মানুষের হাতে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাচ্ছে। রাজনীতি একটি পণ্যে পরিণত হয়েছে। একটা নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকার পরিবর্তে ৫ কোটি টাকা ইনভেস্ট করে এমপি হয়ে গেলে সেই টাকাটা তো তার উদ্ধার করতে হবে। সেখানে দুর্নীতি করা ছাড়া উপায় কী? তাই রাজনীতিকে ক্লিন করতে হবে। কারণ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রার্থীরা নমিনেশন নিতে গেলে তাকে জিজ্ঞেস করা হয় কত খরচ করতে পারবেন। ফলে সৎ মানুষের পরিবর্তে টাকা খরচ করতে পারবে এমন দুর্বৃত্তায়নের চক্রে আটকে গেছে। তাই রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে হবে। রাজনীতির মধ্যে অসৎদের রাখা যাবে না।

বর্তমান যে রাজনৈতিক সং¯কৃতি, সেখানে এমন সম্রাটদের তৈরি না করে কি রাজনীতিতে টিকে থাকা সম্ভব?

আরেফিন সিদ্দিক: কেন সম্ভব নয়। এদেশেই তো রাজনীতে এমন একটা জায়গায় ছিল যেখানে মানুষ জীবন দিয়ে  গেছে। সেখান থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছি। সেখানে আবারো ফিরতে হবে। কারণ রাজনীতি জনকল্যাণের জন্য টাকা বানানোর জন্য নয়। রাজনীতে যারা আসবেন তাদের সেই আদর্শ থাকা উচিত। তাই প্রত্যেককে যার যার জায়গা থেকে সচেতন থেকে দুনীর্তি মোকাবেলা করলেই বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কুতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।

প্রত্যেকের অবস্থান থেকে দুর্নীতির মোকাবেলা করা এদেশে এখন কতটা সম্ভব?

রিয়াজুদ্দিন আহমেদ: ব্যক্তি উদ্যোগের চেয়ে সাংগঠনিক এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ অনেক বেশি দরকার। কারণ  সম্রাটের এই কুকীর্তির কথা যদি জানতাম, আমরা কী সাহস করে বলতে পারতাম বা বলার পরেও কী কাজ হতো? হয়তো কিছু কাজ হতো।  কারণ এখনকার রাজনীতি জনকল্যাণের পরিবর্তে টাকার বন্দনা করা হচ্ছে। এই সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে। তাহলেই মোকাবেলা সম্ভব।

সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকদের সম্পর্কে কী আমরা জানতে পারব? 

আরেফিন সিদ্দিক:  শুদ্ধি অভিযান চলতে থাকলে সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকদের সম্পর্কে জানা সম্ভব। 

টাকার ভাগাভাগির বিরোধ থেকে সম্রাট আটক- বিরোধী দলের এ মন্তব্য সম্পর্কে বলুন।

আরেফিন সিদ্দিক: আমাদের দেশে সরকার পক্ষে ভালো কিছু হলেই বিরোধী দলের কিছু একটা বলাও একটা সংস্কৃতি হয়ে গেছে। এটাও অপরাজনীতির একটা অংশ। এটি জন সাধারণকে বিভ্রান্ত করছে। তাই এই সংস্কৃতিটাও দূর করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈধ অস্ত্রের তালিকা চেয়েছে। এই বৈধ অস্ত্রেও তালিকা এলেও বৈধ অস্ত্রের যে অবৈধ ব্যবহার সেটিকে ঠেকানো সম্ভব?

রিয়াজুদ্দিন আহমেদ: এই শুদ্ধি অভিযানকে যদি সুন্দর পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া  হয় তাহলে অনেক কিছুই সম্ভব। কারণ যারা বৈধ অস্ত্র ভাড়া দেয় তারা অস্ত্রগুলো পায় কি করে? তাই সুষ্ঠু জবাবদিহিতা দরকার। তাহলে সবই সম্ভব। 

(ঢাকাটাইমস/৭অক্টোবর/টিএ/মোআ)
 

সংবাদটি শেয়ার করুন

গণমাধ্যম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :