পুকুর ভরাট প্রকল্পে ‘পুকুর চুরি’

ইউপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৫৪ | প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫০

জামালপুরের মাদারগঞ্জে কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় পুকুর ভরাট প্রকল্পে ‘পুকুর চুরি’র ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আয়না দোষ দিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান বেলালকে। প্রকল্পের ২০ শতাংশ টাকা না দেয়ায় উপজেলা  পরিষদের চেয়ারম্যানের যোগসাজসে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগ তোলেন তিনি।

অপরদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেছেন, স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ‘পুকুর চুরি’র ঘটনা তদন্ত করে জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা উৎকোচ নেয়ার মিথ্যা নাটক সাজিয়েছেন।

পুকুর ভরাটে ‘পুকুর চুরি’র ঘটনা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হলে সোমবার দুপুরে মোসলেমাবাদ নুরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আয়না।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিকালে মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদে ওবায়দুর রহমান বেলাল পাল্টা অভিযোগ করেন ইউপি চেয়ারম্যান আয়নার বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, একটি অভিযোগ পাবার পর আমি তদন্ত করেছি মাত্র। তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছি। প্রতিবেদনটি তার বিপক্ষে চলে যাওয়ায় তিনি উল্টাপল্টা বকছেন। আমি বিভিন্ন প্রকল্প থেকে উৎকোচ নিই, এটি প্রমাণিত হলে যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব।

প্রসঙ্গত, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের অতি দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় ২য় পর্যায়ে গৃহিত জামালপুরের মাদারগঞ্জের ওয়েজ কস্টের ১৭ ক্রমিকের মোসলেমাবাদ নুরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর ভরাটের কাজ বরাদ্দ দেয়া হয়। ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকার এ প্রকল্পে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ছিল ৫৩০ জন। ২০১৯ সালের ১৫ জুনের মধ্যে সম্পন্নের কথা থাকলেও এখনও চলমান আছে প্রকল্পের কাজটি। পুকুর ভরাট কাজে সুবিধাভোগীদের কাজে না লাগিয়ে ৩নং গুনারীতলা ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আয়না ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে এ পুকুর ভরাট করিয়েছেন। প্রকল্পের সকল শর্ত লঙ্ঘন করে এ কাজ করায় ৩ জুন তারিখে স্থানীয় মোস্তাফিজুর রহমান গং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করেন মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান বেলাল। তদন্তে ড্রেজার বসিয়ে পুকুরের মাটি কাটা ও নন ওয়েজ কস্টের ২৫ ভাগ মাটি কাটা হয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন তিনি।

(ঢাকাটাইমস/১৮নভেম্বর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :