রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইতিবাচক ফলের আশা বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৩১

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলায় ইতিবাচক ফল আশা করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। আর এই রায়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আশার আলো দেখছেন প্রতিমন্ত্রী।

মঙ্গলবার ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বইমেলা'র উদ্বোধন শেষে এমন মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

গাম্বিয়ার করা মামলায় নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘মিয়ানমারের সাথে প্রতিবেশীর সম্পর্ক রক্ষা করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আর এ কারণেই বাংলাদেশ সামনে থেকে কোনো কাজ করছে না।’

শুনানির পর আইসিজে যে রায় ঘোষণা করবে তা মানতে সকল রাষ্ট্র বাধ্য বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এদিকে গণহত্যার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া শুনানির প্রথম দিনে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা গাম্বিয়াকে সমর্থন জানিয়ে কক্সবাজারে জড়ো হয়ে সমাবেশ করেছেন।

আজ সকাল ও দুপুরে কক্সবাজারের বেশ কয়েকটি ক্যাম্পে জড়ো হয়ে রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষরা আলাদাভাবে ছোট পরিসরে সমাবেশ করেন। এসময় তারা ‘গাম্বিয়া, গাম্বিয়া’ বলে স্লোগান দেন।

সূত্র জানায়, ফজরের নামাজ শেষে রোহিঙ্গারা উখিয়া বালুখালী ক্যাম্পের পাহাড়ের ধারে জড়ো হতে শুরু করে। এ সময় তাদের হাতে ইংরেজিতে ওআইসি’র কাছে বিচার দাবি, ‘আমরা রোহিঙ্গা’ এবং ‘আমরা গাম্বিয়ার সঙ্গে দাঁড়িয়েছি’ লেখা ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড ছিল।

এছাড়াও টেকনাফের লেদা, জাদিমুরো, উখিয়ার বালুখালী, জামতলী, লম্বাশিয়া, মধুরছড়া ও সীমান্তে শূন্য রেখায় রোহিঙ্গারা দোয়া মাহাফিল করে মিয়ানমারের শাস্তির দাবি জানান।

কিছু ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নারীরাও আলাদা করে দোয়া মাহাফিল করেন। এতে রোহিঙ্গা শিশুরা অংশ নেয়। এসব ক্যাম্পের দোয়া মাহাফিল ও সমাবেশগুলোও ভিডিও ধারণ করে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুকে প্রচার করা হয়।

দ্য হেগের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রোহিঙ্গা এবং মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। আদালতে ১৫ জন বিচারপতির সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দুজন এডহক বিচারপতি। আদালতে অং সান সু চি মিয়ানমারের পক্ষে হাজির হন। গাম্বিয়ার পক্ষে শুনানিতে লড়ছেন দেশটির আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু। নিয়মানুয়ায়ী শুরুতেই দুই এডহক বিচারপতি গাম্বিয়ার নাভি পিল্লাই এবং মিয়ানমারের প্রফেসর ক্লাউস ক্রেস শপথ নেন।

শুনানির শুরুতে আইসিজের প্রেসিডেন্ট আবদুলকোয়াই আহমেদ ইউসুফ শুনানির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিচারকক্ষে উপস্থিত সুধীজনদের অবহিত করেন।

গাম্বিয়ার প্রস্তাবিত পক্ষে নাভি পিল্লাই এবং মিয়ানমারের ক্লাউস ক্রেসকে এডহক বিচারপতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এডহক বিচারপতিদের শপথের মধ্য দিয়ে শুনানির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর আইসিজের রেজিষ্ট্রার ফিলিপ গোতিয়ে অন্তর্র্বতী পদক্ষেপের নির্দেশনা চেয়ে গাম্বিয়া আবেদনে যা বলেছে, তা পড়ে শোনান।

গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু কেন মিয়ানমার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। এরপর তিনি জানান আবেদনের পক্ষে কারা কী বিষয়ে কথা বলবেন।

এরপর রাখাইনে গণহত্যা নিয়ে কথা বলেন অধ্যাপক পায়াম আখাভান। এরপর বক্তৃতা রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবী অ্যান্ড্রু লোয়েনস্টেইন। তিনি আইসিজের এখতিয়ার বিষয়ে আদালতের বিধিমালার ৪১(১) উদ্ধৃত করেন।

আজ আদালতে গাম্বিয়া তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। কাল বুধবার মিয়ানমার তার অবস্থান তুলে ধরবে। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে গাম্বিয়া এবং বিকেলে মিয়ানমার প্রতিপক্ষের যুক্তি খণ্ডন ও চূড়ান্ত বক্তব্য পেশ করবে।

গত ১১ নভেম্বর গাম্বিয়া ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সমর্থন নিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে আইসিজেতে মামলাটি করে। মিয়ানমার ও গাম্বিয়া দুই দেশই গণহত্যা সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ।

(ঢাকাটাইমস/১০ডিসেম্বর/এনআই/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :