‘কৃষিই অর্থনীতির প্রধান হাতিয়ার’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪১

‘পুষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস হলো মাছ, মাংস, দুধ ডিম। আমাদের মাথাপিছু যে আয় তা দিয়ে সবার পক্ষে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা সম্ভব না। মাথাপিছু আয় বাড়াতে হলে আধুনিক কৃষিতে নিয়ে যেতে হবে এবং প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করতে হবে। শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে হবে। কৃষিই এ দেশের কৃষ্টি।  কৃষিই এ দেশের অর্থনীতির প্রধান হাতিয়ার। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ে জীববৈচিত্র্যে। নষ্ট হয় কৃষি ও শষ্যক্ষেত। নানা ধরনের অসুবিধায় পড়ে পশু-পাখি, হাঁস-মুরগি। এ হিসেবে  পোলট্রি শিল্পে প্রভাব পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।’

বুধবার কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক রাজধানীর খামারবাড়ী কৃষিবিদ ইনস্টিটউশন বাংলাদেশের কনভেনশন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিবছর মাথাপিছু দুধ ব্যবহারের পরিমাণ ২২ কেজি। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে ৫৫ কেজি। খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) পরামর্শ অনুযায়ী মাথাপিছু দুধ গ্রহণের হার হওয়া উচিত ৯০ কেজি। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুধের ব্যবহারে এখনো ৫১ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে পুষ্টিমানের বিষয়টি আগে আসে। ২০১০ সালে বাংলাদেশের দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র ২৩ লাখ লিটার। কিন্তু ২০১৮ সালে সেই পরিমাণ বেড়ে ৯৪ লাখ লিটারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দুধ উৎপাদন যথেষ্ট পরিমাণে বেড়েছে। আমাদের প্রতিনিয়ত দুধের প্রয়োজন আমরা চাইলেই এটা অর্জন করতে পারি। এছাড়া আমিষের চাহিদা মেটাতে মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে প্রচুর সফলতা এসেছে। এই তিন সেক্টরের মধ্যে পোলট্রি শিল্প এগিয়ে আছে।

কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে ওঠে, তাই এর উন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে। বিগত দশকে পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। দুধ উৎপাদন প্রায় তিনগুণ বেড়েছে, মাংশ ও ডিমের উৎপাদনও বেড়েছে। পারিবারিক এবং বাণিজ্যিক খামার নির্মাণে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। আমাদের জীবন-জীবিকা ও দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে। পরিবর্তিত জলবায়ুতে তথা প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট কারণে আমাদের দেশের মৎস্য সম্পদ সংকুচিত হচ্ছে, কমছে বা ধ্বংস হচ্ছে আবাসস্থল, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রজনন সুবিধা, বৃদ্ধি পাচ্ছে মরণ হার, কমছে উৎপাদন এমনকি বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে। উন্নত দেশগুলো যতোই পরিবেশ রক্ষার কথা বলুক না কেনো তারা তাদের শিল্পায়নের স্বার্থে গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমন কখনো কমাবে না। জলবায়ুর ক্রমাগত পরিবর্তনের লাগামকে টেনে ধরতে না পারলে কৃষির উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সমগ্র বিশ্বে খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারন করবে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবনাক্ততা, মরুর বুকে জমা বরফ গলে যাওয়া, ঘুর্ণিঝড়সহ অনেক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর ফলশ্রুতিতে মাঠের ফসল তার স্বাভাবিক বাসস্থান হারাচ্ছে, অপরদিকে কিছু কৃষি জমি চাষের উপযুক্ততা হারাচ্ছে বললেন কৃষিমন্ত্রী।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবার আগে পড়ে শস্য জাতীয় ফসল, মাছ ও প্রাণিজসম্পদ খাতে। এসব খাতে ব্যাপক সাফল্য আসলেও যেকোনো সময় তা ম্লান হতে পারে। সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, আশার কথা হচ্ছে দেশের দক্ষ কৃষিবিজ্ঞানীদের অদম্য চেষ্টার ফলে লবণাক্ততা সহিষ্ণু, খরা-বন্যা সহিষ্ণু, সময় নিরপেক্ষ ও স্বল্পকালীন উন্নতজাতের কিছু ফসলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলোকে কৃষকের হাতের নাগাল পৌঁছে দিতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কৃষিকে নতুন মাত্রা দিতে কোন অঞ্চলের জন্য কোন ধরনের ফসল প্রয়োজন তা চিহ্নিত করে আবাদ করতে হবে। পানির সুষ্ঠু ব্যবহার করে সেচ পানির অপচয় কমাতে হবে। প্রতিটি জেলায় উপযোগী সুনির্দিষ্ট ফসলকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদেরকে শুধু বর্তমান নিয়ে থাকলে হবে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভাবতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য করেন  মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু। সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব  রইছুল আলম মন্ডল।

(ঢাকাটাইমস/১১ডিসেম্বর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :