পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক গেন্ডারিয়া গড়ার স্বপ্ন তানভীরের

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:১২

‘সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও সমাজের সাধারণ মানুষের সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মাণ সম্ভব। মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গী করে চলতে চাই। এর মধ্যে দিয়েই সুন্দর ৪৬ নং ওয়ার্ড গঠনের স্বপ্ন দেখি।’- কথাগুলো রাজধানী ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় বেড়ে ওঠা তরুণ মো. তানভীর রহমানের।

রাজনৈতিক দলগুলোর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মানুষ যখন সামনে চলার স্বপ্ন দেখেন তখন এই তরুণ এগিয়ে যেতে চাইছেন মানুষের ভালোবাসকে পুঁজি করে সামনে চলতে। আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪৬ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন এই স্বপ্নবাজ তরুণ। তানভীরের প্রতীক ব্যাডমিন্টন।

প্রকৌশল বিদ্যায় উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া তানভীর অন্য প্রার্থীদের মতো দিন থেকে রাত অবধি প্রচার প্রচারণা চালাতে পারছেন না। কারণ তিনি পেশায় একজন ব্যাংকার। তাই পেশাগত দায়িত্ব শেষ করে নিজের মতো করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। বাকি সময়টুকু তার বাবা এবং বন্ধু, শুভাকাঙ্খিরা তার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এই প্রচারণার মধ্যেও ওয়ার্ডের বাকি সাতজন কাউন্সিল প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচনে জমজমাট লড়াই হবে বলে আশা করছেন তিনি। কারণ সরাসরি রাজনৈতিক অঙ্গণে ওঠাবসা না করলেও অনেক দিন ধরে তিনি এলাকায় স্বেচ্ছায় রক্তদান, ভূমিকম্প প্রতিরোধে করণীয় ও পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে সচেতনতা তৈরিসহ নানা সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে এক ধরনের জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তানভীর রহমান ফায়ার সার্ভিসের একজন কমিউনিটি ভলান্টিয়ারও।

দলীয় কোনো পদ পদবী না থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান তানভীর। মুক্তিযুদ্ধে তার আপন চাচা শহীদ হয়েছেন। তানভীরের মামা গেন্ডারিয়া থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

তানভীর রহমান ডেফোডিল বিশ^বিদ্যালয় থেকে ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইটিই) ওপর অনার্স করেছেন। ঢাকা টাইমসকে তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার পেছনের গল্প, আগামী দিনে ৪৬নং ওয়ার্ড ঘিরে তার স্বপ্নের কথা বলেছেন।

তানভীর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের সচেতনতামূলক কাজ করতে করতে মানুষের সঙ্গে এক ধরণের সম্পর্ক তৈরী হয়ে যায়। ধীরে ধীরে আগ্রহ বেড়ে যায়। এলাকায় বিভিন্ন জাতীয় দিবসে রাজনৈতিক নেতাদের পোস্টারে যখন জাতীয় নেতাদের ছবি ছোট হয়ে আসছে দেখে কষ্ট লাগত। দেখতাম সবাই নিজের ছবি বড় করে দিয়ে আত্মপ্রচার করতো। তখন জাতীয় দিবসগুলোতে ছবি সম্বলিত ইতিহাস তুলে ধরে পোস্টারিং শুরু করলাম। যা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পছন্দ না হলেও সাধারণ মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করে।

‘এক সময় চিন্তা করলাম গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বরগুলো হাতের নাগালে থাকলে মানুষ বিপদে সহযোগিতা পাবে। পরে জরুরি ফোন নম্বর দিয়ে ৩৫টি বড় আকারে ফেস্টুন গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে লাগাই। একইসঙ্গে দশ হাজারের বেশি লিফলেট করে সাধারণ মানুষের কাছে বিতরণ করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই ফেস্টুনগুলো কে বা কারা নষ্ট করে ফেলে।’

তিনি বলেন, এসব কারণে মনে হলো- যারা এমন কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। না হলে এরা সমাজের আরো বেশি ক্ষতি করবে। তাই সমাজের তৃণমূলের মানুষদের নিয়ে সমাজ গড়ার স্বপ্ন থেকে নির্বাচনে নেমেছি।

আর নির্বাচনে নেমে ভালোই সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে তানভীর বলেন, অন্য প্রার্থীদের মতো প্রচার প্রচারণা না করতে পারলেও এলাকার মানুষ আমার সঙ্গে আছে। হয়তো নানা কারণে তারা মাঠে নামতে পারছে না। তবে বিশ^াস করি ৩০ তারিখ ভোট দিয়ে তারা ভালোবাসার প্রমাণ দেবেন।

আপনাকে কেন মানুষ ভোট দেবে বলে মনে করেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে এলাকার বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য কাজ করেছি, চেষ্টা করেছি। জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিজের চেষ্টায় করেছি। যা মানুষ ভালোভাবে নিয়েছে বলে মনে করি।

এলাকার মূল সমস্যা কি এবং নির্বাচিত হলে কি করবেন- এমন প্রশ্নে স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী তানভীর বলেন, ড্রেনেজ সমস্যার কারণে সড়কে ময়লা পানি উঠে আসে। পানি এবং গ্যাসের সমস্যাও আছে। সড়কের অবস্থা অনেক খারাপ এবং সড়ক বাতির অভাব রয়েছে। নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নিয়ে এসব সমস্যার সমাধানে কাজ করবো। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জনসাধারণকে আরো স্মার্ট করার চেষ্টা করবো। এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোর দেয়াল হবে ইতিহাস নির্ভর। মানুষ জানতে পারবে আমাদের গৌরবজ্জোল ইতিহাস। সবুজ গেন্ডারিয়া গড়ে তুলবো। এলাকা হবে পরিচ্ছন্ন।

তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচনে কোনো ইশহেতার দেয়নি। কারণ যে সব আইন কানুন এবং কাউন্সিলরদের কাজ করার সুযোগ আছে সেটা করতে পারলে আর ইশতেহারের প্রয়োজন কি?

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :