আশিকাগা শহরে জাপান প্রবাসীদের পিঠা উৎসব

হাসিনা বেগম রেখা, জাপান
 | প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২৩:০১

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য এবং আগামী প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম রাখার প্রচেষ্টায় চতুর্থবারের মতো জাপানের তোচিগি প্রদেশের আশিকাগা শহরে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসবের। গত রবিবার আশিকাগা হলে এই আয়োজন হয়।

জাপান প্রবাসীদের মধ্যে জনপ্রিয় এবং সজ্জন দম্পতি হিসেবে সুপরিচিত সুয়াইমা লুবনা ও নোমান সাঈদ দম্পতি এই আয়োজন করেন। সঙ্গে ছিলেন আরও স্থানীয় কিছু সংখ্যক প্রবাসী পরিবার। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা ছিল সব প্রবাসীর।

টোকিও, চিবা, কানাগাওয়া, সাইতামা, গুনমা, ইবারাকিসহ অন্যান্য প্রদেশগুলোতে বসবাসরত প্রবাসীরা মুখরোচক পিঠা তৈরি করে নিয়ে আসেন আশিকাগার পিঠা উৎসবে। পাটিসাপটা, চিতই, বিবিখানা, চন্দ্রপুলি, ভাপা, কুলি, মুগপাকন, তুলতুলে নারকেল পুলি, এলেবে গজা, তালের পিঠাসহ হরেক রকম পিঠা স্থান পায় পিঠা উৎসবে। ভিন্ন একটি দেশে থেকেও তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্য।

মহান ভাষা শহীদদের স্মরণ করে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়। আয়োজন করা হয় শিশুকিশোরদের অমর ২১ ভিত্তিক অংকন প্রতিযোগিতা। মূল আয়োজনের প্রথমেই ছিল শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কোরআন তিলাওয়াত, আবৃত্তি, নাচ, গান দিয়ে শিশু কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপর পিঠা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া প্রত্যেকেই নিজ নিজ পিঠা নিয়ে বিচারকদের সামনে স্টেজে উঠে বিচারকমণ্ডলীর বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

বিচারকদের বিভিন্ন প্রশ্ন উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরাও বেশ উপভোগ করেন। সবাই মুগ্ধ হয়ে পর্বটি উপভোগ করেন। পিঠা নির্বাচনে পিঠার স্বাদ এবং পরিবেশনা, প্রতিযোগীদের উৎসব বান্ধব পোশাক নির্বাচন, পিঠার নামকরণ, ইতিহাস, উপকরণ ছিল বিচারিক বিবেচ্য বিষয়।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন আশিকাগা শহরের রাবিতা নওশী। পিঠা প্রতিযোগিতায় বিচারকার্য পরিচালনায় ছিলেন শাম্মী আক্তার বাবলী, কাজী ইনসানুল হক এবং খন্দকার আসলাম হিরা। অনুষ্ঠানের শেষভাগে র‌্যাফেল ড্র করা হয়। এতে ছিল আকর্ষণীয় সব পুরস্কার। এ সময় পরিবেশন করা হয় বিভিন্ন মুখরোচক খাবার।

পুরো একটি দিন উপস্থিত সবাই আশিকাগাতে ছোট্ট একটুকরো বাংলাদেশে নিজের আত্মীয় পরিজন, বন্ধু, পরিচিতজনদের সঙ্গে কাটানোর সুন্দর সুখকর আমেজ নিতে সমর্থ হয়।

আগামী বছর আবার সবাই একত্রিত হয়ে উৎসবমুখর পিঠা উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবেন, এই প্রত্যাশায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়।

(ঢাকাটাইমস/২৫ফেব্রুয়ারি/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :