করোনার মধ্যে ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়বে না: গভর্নর

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ১৩:২৬ | প্রকাশিত : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ১২:৪২
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির

করোনার কারণে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দেবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশের গর্ভনর ফজলে কবির। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক সিআরআর ও রেপো রেট কমিয়েছে। যাতে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট না হয়। ব্যাংকগুলোর পর্যাপ্ত তারল্য যোগান দেয়া হয়েছে। আবার বেশি তারল্যের কারণে মূল্যস্ফীতি না হয় তার দিকে নজর রেখে মূদ্রানীতি দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

রবিবার গণভবনে করোনা পরিস্থিতিতে সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারি প্রণোদনার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। তাঁর বক্তব্যের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর এসব কথা বলেন। এর আগে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও কথা বলেন।

করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন গভর্নর।

তিনি বলেন, ‘ ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন রপ্তানি তহবিলকে বাড়িয়ে ৫ বিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। রপ্তানি খাতের ইইডএফ ফান্ডের সুদের হার ২.৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে।’

ফজলে কবির বলেন, ‘তফসিলি ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণের হার (সিআরআর) বিদ্যমান দ্বি-সাপ্তাহিক গড় ভিত্তিতে ৫.৫ শতাংশ এবং দৈনিক ভিত্তিতে ন্যূনতম ৫ শতাংশ হতে কমিয়ে করে দ্বি-সাপ্তাহিক গড় ভিত্তিতে ৫ শতাংশ এবং দৈনিক ভিত্তিতে ন্যূনতম ৪.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ তলবি ও মেয়াদি দায়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারা ও ইসলামি ব্যাংকগুলোকে দৈনিক ভিত্তিতে গড়ে সাড়ে ৪ শতাংশ এবং দ্বি-সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ৫ শতাংশ হারে সিআরআর রাখতে হবে।’

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো সুদহার বিদ্যমান বার্ষিক শতকরা ৬ ভাগ থেকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে শতকরা ৫.৭৫ ভাগে পুননির্ধারণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

গর্ভনর বলেন, ‘রপ্তানির অর্থ দেশে আনার সর্বোচ্চ সময়সীমা ১২০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৮০ দিন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে আমদানি পণ্য দেশে আনার সময়সীমাও বাড়িয়ে ১৮০ দিন করা হয়েছে। এতদিন এলসির দেনা পরিশোধের পর সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে পণ্য দেশে আনার বাধ্যবাধকতা ছিল। স্বল্প মেয়াদি বিদেশি ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ১৮০ দিন করা হয়েছে। বিদ্যমান নিয়মে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ব্যাংকগুলো এক বছরের বাকিতে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও বিদ্যুৎ খাতের পণ্য আমদানি করতে পারে। আর শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্য সর্বোচ্চ ৬ মাসের বাকিতে আনা যায়। তবে উভয় ক্ষেত্রে ৬ মাস বৃদ্ধির ফলে এক বছর এবং দেড় বছর সময় পাচ্ছেন রপ্তানিকারকরা।’

এছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল-ইডিএফের ঋণ পরিশোধের সময়সীমা তিন মাস বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ৬ মাস মেয়াদে ঋণ নেওয়া যায়। পরে সময় বাড়িয়ে ৯ মাস করা হয়।

তিনি বলেন, ‘আগামী জুন পর্যন্ত কোনো ঋণগ্রহীতা ঋণ শোধ না করলেও ঋণের শ্রেণিমানে কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না। ১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে ঋণের শ্রেণিমান যা ছিল, আগামী ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত ওই মানেই রাখতে হবে। এছাড়া ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকরা ১৫ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত অর্থ অর্থপরিশোধে ব্যর্থ হলেও কোন বিলম্ব ফি লাগবে না’।

(ঢাকা টাইমস/ ০৫ এপ্রিল/ আরএ/ এইচএফ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :