কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হোক

পরিস্থিতি বিবেচনায় সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটা হচ্ছে করোনাকালের খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত। সব দেশেই এক্সপার্টরা প্রথমেই সরকারপ্রধানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের আহবান জানিয়েছিলেন। কারণ হচ্ছে যেকোনো দেশের জন্য ভবিষ্যৎ হচ্ছে তারাই যারা এখন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত আছেন। তাই সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদেরকে আগে প্রায়োরিটি দিতে হয়। খেয়াল করলে দেখা যায় যে, যারা লকডাউন তুলে দিচ্ছে তারা কিন্তু কেউই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে মতামত প্রদান করে নাই।
অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ মানে সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করা বোঝায় না। যারা ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে তারা কিন্তু সবাই মোটামোটি অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। চীনের উহানে লকডাউনের সময় থেকেই কিন্তু তাদের সব শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে স্থানান্তর করেছে। বর্তমানে অন্যান্য দেশেও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম জনপ্রিয় হচ্ছে। আমি এখন জাপানে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আছি সেখানেও পুরো স্প্রিং সেমিস্টার অনলাইনে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।
আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন পর্যন্ত তেমন কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। যদিও কিছু শিক্ষক ব্যক্তি উদ্যোগে অনলাইনে ক্লাস নিয়েছেন। এক্ষেত্রে আমি শিক্ষকদের দুই ধরনের মতামত দেখেছি। কেউ কেউ বলছেন তারা কোনো অসুবিধা দেখছেন না। আবার কেউ কেউ বলেছেন, অনলাইন ক্লাস নেওয়ার জন্য যে অবকাঠামোর দরকার যেমন নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ, সকলের ইন্টারনেট ডাটা কেনার সক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ উপস্থিতি ইত্যাদি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তারা অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ পাচ্ছেন না।
আমার মনে হয় এর একটা সমাধান বের করা দরকার। আমরা জানিনা কবে নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমন শেষ হয়ে যাবে। তাই দীর্ঘদিন ধরে এভাবে কোনো ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম না থাকলে শিক্ষার্থীরা তীব্র শেষনজটে পড়বেন। অনেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই সময়মত সেমিস্টার শেষ না হলে তারা সময়মত উচ্চশিক্ষা শুরু করতে পারবেন না। কেউ কেউ হয়ত চাকরির জন্য উন্মুখ হয়ে ছিলেন। কিন্তু সার্টিফিকেট ঠিকসময়ে হাতে না পেলে চাকরি জীবন শুরু করতে পারবেন না। তাই এখনই কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা কিভাবে চালু রাখা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লেখক: প্রবাসী শিক্ষক
ঢাকাটাইমস/৩০এপ্রিল/এসকেএস
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































