জাতীয় নিরাপত্তা ও আমাদের স্বাস্থ্য

একটি জাতির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর জাতীয় নিরাপত্তা নির্ভর করে। করোনাভাইরাস কর্তৃক সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগ বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা উপলব্ধি করতে পারিনি বলে আমরা সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত লকডাউন উপেক্ষা করে যা খুশি তাই করছি। আমরা সকলেই জানি স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল। অর্থনীতি বলি আর শিক্ষা বলি কোনটিতে আমাদের মন বসবেনা যদি আমাদের শরীর খারাপ থাকে।
একটি জাতির তরুণ সমাজ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়, পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেয় দেশকে রক্ষা করবার জন্য। যদি তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখা যায় তারা সেনাবাহিনীতে যোগদানের অযোগ্য তাহলে আগামী দিন কি ঘটতে পারে কল্পনা করা যায় কি? অনেকেই লক্ষ্য করিনি যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে চাকরি পাবে না।
আমাদের তরুণ সমাজ এই বিষয়টি কী উপলব্ধি করতে পেরেছে? তারা যখন যাবে আগামী দিন সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে তখন তারা বাদ পড়তে পারে। তারা জানেনা মাদক কিভাবে তাদের ক্ষতি করে এবং কিভাবে তাদের অযোগ্য করে তোলে সেনাবাহিনীতে কাজ করতে।
আমাদের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে কলকারখানা খোলা রাখা দরকার। কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না যে আগামী দিনের নাগরিকদেরকেও বাঁচাতে হবে যাতে তারা দেশপ্রেমিক সৈনিক হতে পারে। যদি সেনাবাহিনী দুর্বল হয় তাহলে তাদের অর্জিত সম্পদকে দখল করে নিতে পারে সেটাও মনে রাখতে হবে।
আজ যদি লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়ে, মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে তবে ব্যবসায়ীরা কোথায় পাবেন ভালো কর্মী? কোথায় পাবেন নির্মাণ শ্রমিক? কে যাবে জমিতে চাষ করতে? একটি বিপর্যয় কি এভাবে আমাদের নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলে দেবে না?
যুক্তরাষ্ট্রের একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায় দুর্বল স্বাস্থ্য মানুষের কাজের ক্ষমতা কমায়, ফলে তাদের আয় কমে যায়। আর আয় কমে গেলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। এভাবে একের পর এক সমস্যা সৃষ্টি হয়। আজ আমাদের দেশে এখনো দক্ষ লোকের অভাব আছে বলে ভারত, শ্রীলংকা থেকে লোক আনতে হয় আমাদের পোশাক শিল্পের জন্য। যদি আমরা এখন আমাদের তরুণ সমাজকে করোনাভাইরাসের মুখে নিপতিত করি তাহলে আমাদের দক্ষ জনবলের ঘাটতি দেখা দেবে নয় কি? আর পরিণামে একটি নিরাপত্তা ইস্যু তৈরি হবে, যেটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে কিন্তু!
আজকে অনেকে আমরা সরকারের সমালোচনা করছি। কেন আমরা টেস্টিং কিট ও টেস্টিং ব্যবস্থা কুক্ষিগত করে রেখেছি? মনে রাখবেন এটিও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য করা হয়েছে। টেস্টিং যদি নিয়ন্ত্রণ না হয় তাহলে যে কেউ এখান থেকে ভাইরাস সংগ্রহ করতে পারে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য। আমরা কি সেটা ভেবেছি? আমাদের সিস্টেম অনেক দুর্বল। আমরা কিডনি বিক্রি করি টাকার জন্য। সুতরাং অভাব থেকে আমরা অনেক ভুল করতে পারি!
আমাদের স্বাস্থ্য ও আমাদের নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করতে কোনোভাবেই করোনাভাইরাসকে গুরুত্বহীন মনে করা ঠিক হবে না। জনগণের পক্ষ থেকে দাবি তোলা উচিত পুনরায় লকডাউন দিয়ে করোনাকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করা হোক। যুদ্ধে শত্রুকে দুর্বল ভাবা উচিত নয়। ভয়ের সাগরে ভেসে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে অনেক তেল পুড়বে, রাস্তা নষ্ট হবে যা রিপেয়ার করা কঠিন হবে।
আমার দেখছি অনেক পুলিশ আক্রান্ত হচ্ছে। এতে কিন্তু পুলিশের মনবল ভেঙে যাবে। যার ক্ষতি হয়তো আমরা অনুমান করতে পারছি না। আমাদের সৈনিকরা আক্রান্ত হলে আরও ক্ষতি হতে পারে। আমাদের পুলিশ জাতিসংঘ মিশনে কাজ করে। আমাদের কোনো বহিঃশত্রু নেই ভাবা ঠিক নয়। আর বিদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল কোনো মুনাফালোভী ফাঁদ পাতছে না কি ভাবে নিশ্চিত? এখানে যে ড্রাগ টেস্টিং হচ্ছে না তা কিভাবে বুঝবেন? এখানে ড্রাগ টেস্ট করে উচ্চ দামে ওরা গরিবদের কাছে বিক্রি করবে। এগুলো কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। আজ যদি সৈনিকদের কোনোভাবে উত্তেজিত করা যায় তাহলে কাদের লাভ?
সেনাবাহিনীকে নিরাপদে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে। আমাদের সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতে অনেক চেষ্টা হয়। সেটা ভুলে গেলে চলবে না। কথায় আছে সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের ১০ ফোঁড়। আশা করি ভুল করবেন না কেউ। এ সোনার মাটি লুট করিতে কত না দেশ এসেছে। সেই ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। লকডাউন তাই পুনরায় চালু করে করোনা সংকট মোকাবেলা করা হোক। বিদেশ থেকে যারা এখন আসছেন তাদেরকে কঠোর কোয়ারেন্টাইন রাখা হোক। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এগুলো আমাদের মেনে নিতে হবে।
প্রবাসীরা আরেকবার দেশ প্রেমের উদহারণ দিন। জাতি আপনাদের প্রতি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকবে। আপনারা দায়িত্ব পালন করুন। সমাজকে ও নিজেকে নিরাপদ রাখুন।
লেখক: শিক্ষক, দর্শন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































