সৎ মা-ছেলের দ্বন্দ্বে ঘরে আগুন, মায়ের মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২০, ১৯:৩২ | প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০২০, ১৭:৫৭

নোয়াখালীতে সৎ মায়ের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ঘরে অকটেন ঢেলে আগুন দিয়েছে ছেলে। এতে মা-ছেলেসহ পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে মা মারা গেছেন। বাকিদের নোয়াখালী ও ঢাকায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে জেলার সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে রামহরিতালুক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শামীম হোসেন নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।

দগ্ধরা হলেন- ওই গ্রামের ইসমাইল হোসেন বাবুলের স্ত্রী আসমা বেগম (৩২), ছেলে কামাল উদ্দিন (৩৫), রহুল আমিনের ছেলে মান্না (২২), আব্দুস শহিদের ছেলে সুমন (৩০) ও সালেহপুর শীবপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে তারেক হোসেন (২২) ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাবুলের ঘরে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা ছুঁটে গিয়ে আগুন নিভানোর চেষ্টা করে। এসময় ঘরে ভেতর আটকে পড়া আসমা বেগম, কামাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে তারা। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে মান্না, সুমন ও তারেক আহত হন। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছে, অগ্নিদগ্ধ কামাল উদ্দিনের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে সৎ মা আসমা বেগমের বিরোধ ছিল।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কামাল উদ্দিন জানান, তার মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা আসমা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে কামালের বাবা, কামালকে ও তার দুই ভাইকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন আসমা। ঠিকমত তাদের ঘরে ঢুকতে দিতেন না, খাবার দিতেন না আসমা। এতে অতিষ্ঠ হয়ে সকালে নিজ কক্ষটি অকটেন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে গিয়ে নিজে অগ্নিদগ্ধ হন কামাল। তিনি সকালে স্থানীয় খলিপারহাট বাজার থেকে একটি বোতলে অকটেন কিনে আনেন।

অগ্নিদগ্ধ আসমার বাবা আবুল কাশেমের অভিযোগ, তার মেয়ের সুখ সহ্য করতে না পেরে আসমাকে হত্যার উদ্দেশে অকটেন দিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন সৎ ছেলে কামাল। তিনি আসমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাচ্ছেন।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিদগ্ধ পাঁচজনের মধ্যে আসমার শরীরের প্রায় ৯০ ভাগ, কামালের ৩০ ভাগ ও তারেকের ১৫ ভাগ পুড়ে গেছে। এর মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্য দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া জানান, কামালের সঙ্গে তার সৎ মা আসমার জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। সকালে ওই জায়গা জমির দলিলগুলো পুড়িয়ে দেয়ার জন্য অকটেন কিনে আনেন কামাল। পরে ঘরে এসে সেগুলোতে আগুন দিতে গিয়ে পুরো ঘরে আগুন লেগে কামালসহ বাকীরা দগ্ধ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনায় কামালের শ্যালক শামীমকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঢাকায় নেয়ার পথে আসমা বেগম মারা গেছেন। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

(ঢাকাটাইমস/১৯অক্টোবর/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :