রক্তে ইউরিক এসিড থেকে বাঁচতে যা খাবেন

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১১:০০

ইউরিক অ্যাসিড এক ধরনের রাসায়নিক যা খাবার হজম করবার সময় শরীরে উৎপন্ন হয়। ইউরিক অ্যাসিডে 'পিউরিনস' নামে এক ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে যা কিছু কিছু খাবারের মধ্যে পাওয়া যায়। ইউরিক অ্যাসিড রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়ে কিডনিতে পরিশ্রুত হয়ে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। কিন্তু মাঝে মধ্যে শরীর এতটা বেশি পরিমাণের ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদন করে ফেলে যে তা ঠিক মতো পরিশ্রুত হতে পারে না। পারিবারিক রোগভোগের ইতিহাস, কর্মঠ না হওয়া এবং প্রচুর পরিমাণ আমিষ খাওয়ার ফলে শরীরে অত্যধিক ইউরিক অ্যাসিড উৎপন্ন হতে পারে।

গবেষকদের মতে, রক্তে উচ্চ মাত্রার ইউরিক অ্যাসিড একজন ব্যক্তির আয়ু ১১ বছর কমিয়ে দিতে পারে। মানুষের রক্তের মধ্যে ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে শরীরের বিপদজনক অবস্থা তৈরি হতে পারে। এর পরিমাণ বেড়ে গেলে গাঁটে বাত, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি অকেজো হওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। এ ছাড়া কিছুক্ষেত্রে জিনগত সমস্যাও থাকে।

স্বাভাবিকভাবে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের নির্দিষ্ট মাত্রা হলো, পুরুষের ক্ষেত্রে: ৩.৪–৭.0এমজি/ডিএল এবং নারীর ক্ষেত্রে: ২.৪–৬.0 এমজি/ডিএল। টমেটো, রেড মিট আর পালং শাক ইউরিক অ্যাসিডের ক্ষেত্রে একেবারে বারণ। তবে বীজ বাদ দিয়ে টমেটো খেলে তাতে কিন্তু ক্ষতি নেই। পালং শাকের বদলে নটে শাক, কলমি শাক বা অন্য যেকোনো তরকারি খেতে পারেন। ফুলকপি-বাঁধাকপিও পরিমাণমতো (৫০ গ্রাম) খেতে পারেন। শুধু ব্রকোলি চলবে না। সপ্তাহে এক দিন ডিম খাওয়া যেতে পারে। মাঝেসাঝে মাছের ডিমও খেতে পারেন।

কফির চেয়ে ব্ল্যাক টি খাওয়া শ্রেয়। ডাবল টোনড দুধ খেতে পারেন। চিকেনের স্টকের পরিবর্তে রান্না করা চিকেন খাওয়া সমীচীন। সয়াবিনের বদলে ছোলাভাজা খাওয়া যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে ছাতু খাবেন না।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে ইউরিক অ্যাসিডের বিপদ এড়াতে নয় ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। পালং শাক, মাশরুম, রেড মিট, চিংড়ি, টমেটো, মুগ ডাল, মসুর, সয়াবিন এবং কফি না খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার। এক চা চামচ ভিনেগার নিন, এক গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে দিনে অন্তত ২-৩ বার এই মিশ্রণ পান করুন নিয়মিত। উপকার পাবেন।

গবেষকরা বলেছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের দ্বারা রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা স্বাভাবিক করা যায়। স্বাস্থ্যকর খাবার ও ফিটনেস এক্ষেত্রে সহায়ক হিসাবে প্রমাণিত হতে পারে। রান্নায় তেল মশলা কম দিন। এছাড়া বড় মাছ, রেড মিট, দুধ, বেকন, কলিজা, চিনি এড়িয়ে চলুন।

ইউরিক এসিডের সমস্যা হলে সামুদ্রিক মাছও এড়িয়ে চলুন। ফ্যাট ফ্রি দুধ খাওয়া শুরু করুন। এছাড়া পিনাট বাটার, ফল, শাকসবজি বেশি পরিমাণে খান। শস্যদানা, রুটি, আলু খেতে পারেন। এছাড়া দুধ ও চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি খাওয়ার অভ্যাস করুন। অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ থেকে দূরে থাকুন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এজন্য হাঁটা বা সাঁতার বেছে নিতে পারেন। ওজন কোনোভাবেই বাড়তে দেবেন না।

রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, হৃদরোগ থাকলে ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে সবসময় নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হোন। চিনি থেকে সাবধান থাকতে হবে। বিভিন্ন ধরনের পানীয় ও মিষ্টি খাবারে ফ্রুক্টোস নামের একটি জিনিস ব্যবহৃত হয়। এই ফ্রুক্টোস কিন্তু ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, যারা বেশি পরিমাণে মিষ্টি পানীয় খান তারা বেশি বাতের সমস্যায় ভোগেন। বাজারে পাওয়া জুস, কোমল পানীয়, লসসি খাওয়া একদমই ঠিক নয়। এতে বিপাকে সমস্যা হয়। চায়ের বদলে কফি খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন তিন থেকে চার কাপ কালো কফি খেলে শরীর ভালো থাকে। তবে এতে যাতে কিডনির সমস্যা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি রাখুন। নিয়মিত লেবু বা ভিটামিন সি-যুক্ত ফল খান। ভিটামিন সি ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে দারুণ কাজ করে। প্রোটিন হজমের পর শরীর কিন্তু অ্যামোনিয়া উৎপাদন করে। এর থেকেও ইউরিক অ্যাসিড সৃষ্টি হয়। তাই অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ বন্ধ করুন। এ

কজন মানুষের ওজনের উপর নির্ভর করে তিনি কতটা প্রোটিন খাবেন - প্রতিদিন প্রতি এক কেজি ওজনের জন্য ১ গ্রাম প্রোটিন খাওয়া উচিত (ওজন ৭২ কেজি হলে দিনে ৭২ গ্রাম)। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা পরিশ্রমসাধ্য কাজ করেন তারা সামান্য বেশি প্রোটিন খেতে পারেন।

যেসব খাবারে বাধা নেই

চর্বিহীন মাংস খেতে হবে। যেমন: ছোট মুরগির মাংস। মাছ, কুসুম ছাড়া ডিম পরিমাণ মতো খাওয়া যাবে। বেশি আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে। যেমন: সবজি, শাক ইত্যাদি। এই আঁশ স্ফটিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শরীর থেকে মল আকারে বের হয়ে যায়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার খেতে হবে। যেমন: লেবু-চা, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল (পেয়ারা, আমলকী, কমলা, মাল্টা), গ্রিন-টি ইত্যাদি খেতে হবে।

এই সময় চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণ পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার পানি খেতে হবে। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

(ঢাকাটাইমস/২৪ নভেম্বর/আরজেড/জেবি )

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :