আর্থিক খাতের লভ্যাংশ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রত্যাহার দাবি বিনিয়োগকারীদের

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০২ মার্চ ২০২১, ২০:৩৫ | প্রকাশিত : ০২ মার্চ ২০২১, ২০:৩১

আর্থিক খাতের লভ্যাংশ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার ঐক্য পরিষদ।

মঙ্গলবার সংগঠনের সভাপতি এ.কে.এম মিজানুর রশীদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জমা দিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়, ‘পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন যাবত অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি দিয়েছেন। বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর চেয়ারম্যানও বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। যা পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে প্রশংসনীয়। পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে আপনার তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা বিনিয়োগকারীরা কৃতজ্ঞতাচিত্তে স্মরণ করে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সাথে আলোচনা করার অনুরোধ করছি। আপনার জারিকৃত ডিএফআইএস সার্কুলার নং-০১, তারিখ-২৪-০২-২০২১ইং এর বিষয়ে আপনার সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করছি।

আমরা লক্ষ্য করেছি যে, উপরোক্ত সার্কুলার জারির পর থেকে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামের উপর নেতিকবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমান বিএসইসি’র চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেয়ার পর সকলের সহযোগিতায় বাজার স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু আপনার দেয়া সার্কুলার আসার পর থেকে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে এবং বাজার উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এর ফলে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ বঞ্চিত হয়ে ক্ষতির মধ্যে পড়বে। এ রকম সাধারণ একটি ঘোষণা দিয়ে লভ্যাংশ টেনে ধরার ফলে বিনিয়োগকারীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোভিড-১৯ পরবর্তী বিনিয়োগকারীদের বেঁচে থাকার স্বার্থে উক্ত সার্কুলারটি প্রত্যাহার করে নেয়া অত্যন্ত জরুরি বলে আমরা মনে করি।

অতএব, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে আপনার জারিকৃত ডিএফআইএম সার্কুলার নং-০১ প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য লভ্যাংশের হার বা সীমা বেঁধে দেয়। এতে বলা হয়, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক কোম্পানিগুলো এ বছর শেয়ারধারীদের ১৫ শতাংশের বেশি নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগদ লভ্যাংশের হার ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এ ছাড়া যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থান রাখতে ব্যর্থ হয়ে ঘাটতি সমন্বয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাড়তি সময় নিয়েছে, তারা সম্পূর্ণ অর্থসংস্থানের আগে কোনো ধরনের নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বোনাস বা স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে।

এ ছাড়া যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারবে না। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানের মূলধন পর্যাপ্ততার হার ১০ শতাংশের কম ও খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানও শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

(ঢাকাটাইমস/০২মার্চ/এসআই/আরএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :