গুলির ভয় উপেক্ষা করে মিয়ানমারে বিক্ষোভ অব্যাহত

আন্তর্জাতিজ ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২১, ১৯:১৬ | প্রকাশিত : ০৪ মার্চ ২০২১, ১৮:৪৭

গুলির ভয় উপেক্ষা করে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ। এর আগে বুধবার সামরিক শাসন বিরোধী বিক্ষোভে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে ৩৮ জন নিহত হয়।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, রক্তাক্ত দিনের পর বৃহস্পতিবার ফের রাস্তায় নেমেছে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা। ইয়াঙ্গুন, মান্দালাই, মাইঙ্গানসহ হাজারো বিক্ষোভকারী বুধবার নিহত ১৯ বছর বয়সী তরুণীর শেষ কৃত্যে অংশ নেয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মিছিলে বেশ কয়েক জায়গায় টিয়ার গ্যাস এবং গুলি চালিয়েছে। তবে এই ঘটনায় হতাহতের কোনে খবর পাওয়া যায়নি। দেশটির জান্তা কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের দমন-পীড়ন বিশ্ব থেকে আড়াল করার প্রচেষ্টায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ ও ফেসবুক নিষিদ্ধ করেছে।

বিক্ষোভকারীরা বলছে, তারা ১ ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থান মানবেন না। নির্বাচিত প্রতিনিধি অং সান সু চিসহ গ্রেপ্তার সকল নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখবেন। মাঙ্গ সাঙ্ঘা নামে এক বিক্ষোভকারী রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে বলেন, আমরা জানি আমাদের গুলি করা হতে পারে এবং প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হতে পারে। কিন্তু সামরিক শাসনের অধীনে বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বুধবারের সহিংস হামলার একটি ভিডিও সংযুক্ত করা হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুলি চালাতে দেখা গেছে।

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের ওপর নৃশংস সহিসংতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নিড প্রাইস বলেছেন, আমরা সব দেশের প্রতি একসুরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বর্বরতার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচলেট শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর জঘন্য আক্রমণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর কমপক্ষে ৫৪ জন নিহত হয়েছে, প্রকৃত সংখ্যা এর থেকে অধিক হতে পারে। জান্তা সরকার ২৯ জন সাংবাদিকসহ ১৭শ মানুষকে আটক করেছে উল্লেখ তিনি বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে প্রতিবাদকারীদের হত্যা এবং জেলে নেয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চিসহ মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারের প্রেসিডেন্ট ও অধিকাংশ মন্ত্রীকে আটক করে। এর কয়েক দিন পর থেকেই দেশটির সর্বস্তরের জনতা রাজপথে বিক্ষোভ শুরু করে।

(ঢাকাটাইমস/০৪মার্চ/কেআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :