মানসিক স্বাস্থ্য ও যৌন অপরাধ

মো. জে আর খান রবিন
  প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১৩:৫৫| আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১৫:২৯
অ- অ+

ব্যক্তিজীবন,পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্যের ভূমিকা অপরিসীম। অন্যদিকে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আবেগের ভুমিকা ব্যাপক।

আবেগ সাধারণত তিন প্রকার: 1. Positive & Negative Emotion (Joy, Love, happiness, Fear, Anger, Sadness) 2. Primary & Mixed Emotion (Happiness, Surprise, Sadness, Anger, Fear) 3. Opposite Emotion (Happiness-Sadness) অন্যদিকে Psychology অর্থাৎ মনস্তত্তের ক্ষেত্রেও আবেগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মনস্তত্তের অনেক প্রকারভেদ রয়েছে, যথা; 1. Clinical Psychology 2. Cognitive Psychology 3. Developmental Psychology 4. Evolutionary Psychology 5. Forensic Lab Psychology 6. Ideal the Psychology 7. Nervous Psychology 8. Occupational Psychology 9. Social Psychology

তাছাড়া মনস্তত্তের সঙ্গে অপরাধের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে এবং এর সাথে Personality Disorder (ব্যক্তিত্ব বিকার) সম্পৃক্ত। Personality Disorder এর কারণ- 1. Genetic 2. Neuropsychology 3. Childhood Development 4. Hormonal Disturbance 5. Psychology Manic Theories 6. Cognitive Behavioral Theories

অন্যদিকে Mental Disorder (মানসিক ব্যাধি) এর প্রকারভেদ রয়েছে- 1. Paranoid 2. Schizoid 3. Anti-Social 4. Borderline 5. Histrionic 6. Narcissistic 9. Dependable 10. Obsessive-compulsive

তাছাড়া মানসিক বিষণ্ণতা অর্থাৎ Mental Retardation (মানসিক প্রতিবন্ধকতা বা বিষন্নতা) এর সাথেও অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে।

মানসিক বিষণ্ণতার প্রকারভেদ- 1. Mild (50-55)-70, বছর। 2. Modarate (35-40)-55 বছর 3. Severe (20-29) -(35-40) বছর 4. Profound Below (20-25) বছর

বিষণ্ণতার কারণ সমূহ- * Genetic Causes * Non-Genetic Causes * Congenital Hypothyroidism (Thyroid Hormone Problem) * Fetal Alcohol Syndrome * Other Toxins * Infective Agents * Hypoxic Damage * Central Nervous System and Skull * Development Abnormalities

এছাড়া Impulse Control Disorder বা আবেগ নিয়ন্ত্রিত ব্যাধির সাথেও অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে।আবেগ নিয়ন্ত্রিত ব্যাধি নিম্নলিখিত প্রকারভেদে রয়েছে- 1. Intermittent Explosive Disorder 2. Kleptomania 3. Pyromania 4. Pathological Gambling 5. Trichotillomania 6. Impulse Control Disorder not Otherwise Specified

অন্যদিকে Heredity and Environment (বংশগত ও পরিবেশগত) কারণও অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত যেমন: 1. Individual Factors 2. Family Factors a. Child Rearing b. Teen-age mothers & child abuse c. Parental conflict & separations d. Criminal Partners e. Large Family size 3. Social Factor a. Socio-economic deprivation b. Peer influences c. School Influences d. Community Influences

আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট বুঝা যায় যে মানুষ আবেগতাড়িত হয়ে যৌন অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত হয়। প্রথমত: যৌন অপরাধ নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব। যৌন অপরাধ হল এমন এক যৌন কর্ম যা ধর্মীয় ও প্রচলিত আইন বিরোধী।

যৌন অপরাধ বিভিন্ন ভাবে সংঘটিত হয় যেমন- 1. Natural Sexual offence (স্বাভাবিক যৌন অপরাধ) 2. Unnatural sexual offence (অস্বাভাবিক যৌন অপরাধ) 3. Sexual perversions (যৌন বিকৃতি) Natura Sexual offence: স্বাভাবিক যৌন অপরাধ একজন পুরুষ ও একজন মহিলা স্বাভাবিক পন্থায় সংঘটিত করে।

স্বাভাবিক যৌন অপরাধগুলো; 1. Rape (ধর্ষণ) 2. Incest (অজাচার) 3. Adultery (ব্যভিচার) Rape (ধর্ষণ) কোনো পুরুষ কোনো মহিলার/ স্ত্রীলোকের সাথে নিম্নলিখিতভাবে যৌন মিলন করলে ধর্ষণ সংঘটিত হয়; প্রথমতঃ স্ত্রীলোকের অনুমতি ছাড়া। দ্বিতীয়তঃ স্ত্রীলোকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। তৃতীয়তঃ ভয়ভীতির মাধ্যমে সম্মতি আদায় করলে। চতুর্থঃ সম্মতি থাকলেও স্বাভাবিক মস্তিষ্কের অধিকারিনীর না হলে। পঞ্চমতঃ সম্মতি ও সম্মতি ছাড়া কোনো নাবালিক হলে। Incest (অজাচার)- নিষিদ্ধ সম্পর্কীয় কোনো নিকটতম রক্ত সম্পর্কীয় নারী ও পুরুষের মধ্যে যৌন মিলন।

Adultery (ব্যভিচার)-: স্বামী, স্ত্রী ব্যতীত অন্য কোনো নারী পুরুষদের মধ্যে যৌন মিলন। Unnatural sexual offence (অস্বাভাবিক যৌন অপরাধ): প্রাকৃতিক নিয়ম বিরোধী যৌন মিলন,যা নিম্নে উল্লেখ করা হল; 1. Sodomy : পুরুষ ও পুরুষের মধ্যে যৌন মিলন 2. Tribadism/ Lesbianism : স্ত্রীলোক ও স্ত্রীলোকের মধ্যে যৌন মিলন। 3. Bestiality : পশু পাখির সাথে যৌন মিলন। 4. Oral/ Buccal coitus : মুখ দিয়ে যৌনাঙ্গ স্পর্শ।

Sexual perversion : বিকৃতভাবে যৌন মিলনের উদ্দেশ্যে মিলিত হওয়া ন যেমন- 1. Sadism: সেক্স পাটনারকে আঘাত, কামড়, বেত্রাঘাতের মাধ্যমে নির্যাতন করে যৌনসুখ লাভের মানসিক বিকার। 2. Masochism : বিকৃত যৌন মিলনে অভ্যস্ত। 3. Necrophilia : মৃত ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন।। 4. Necrophagia : সেক্সপাটনারের শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে নির্যাতনের মাধ্যমে যৌন মিলন এবং মৃত্যুর পর সেক্সপাটনারের শরীরের বিভিন্ন অংঙ্গ কেটে খাওয়া। 5. Transvestism : বিপরীত লিঙ্গের জামা পরে যৌন তৃপ্তি লাভ করা। 6. Exhibitionism : স্ব-ইচ্ছায় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ তার নিজের গোপনীয় অঙ্গ জনসমক্ষে প্রদর্শন করে যৌন তৃপ্তি লাভ করা। 7. Masturbation : নিজের যৌনাঙ্গ নিজেই উত্তেজিত করে যৌন তৃপ্তি লাভ করা। 8. Voyeurism : এক্ষেত্রে কেউ কাউকে উলঙ্গ বা কারো যৌনাঙ্গ গোপনে দেখে যৌন তৃপ্তি লাভ করে। 9. Lust murder : সেক্স পার্টনারকে নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটিয়ে যৌন তৃপ্তি লাভ করা।

Necrophiliac অপরাধ সংঘটনের জন্য অনেক সময় অপহরণ বা খুনের মত অপরাধও সংঘটিত হয়। উদহরন হিসেবে বলা যায় মার্কিন কুখ্যাত খুনি Robert Ted Bundy ও Jeffrey Dahmer সহ আরো অনেক খুনি তাদের বিকৃত যৌনাচার চরিতার্থ করার জন্য ভিক্টিম মহিলাদের অপহরণ করে হত্যা করতঃ মৃতার সাথে বিকৃত যৌনাচার করত। ১৮৪১ সালে Francois Bertrand নামক ফ্রান্সের এক সেনা বাহিনীর সাবেক সার্জেন্টকে ১ বছরে কারাদন্ডে দণ্ডিত করা হয়। প্রকাশিত খরবের মাধ্যমে জানা যায় বাংলাদেশেও ইতিমধ্যে এধরনের ঘটনা ঘটেছে। যদিও মৃত ব্যক্তির শবের সাথে সম্মানজনক আচরণ সহ শেষ বিদায় জানানো সকল ধর্মই স্বীকৃত।

Necrophilia একটি ঘৃণিত অপরাধ হলেও বাংলাদেশে এ নিয়ে কোন আইন নেই।শুধু মাত্র ১৮৬০ সালের দন্ড বিধির ২৯৭ ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোন ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির শবের সাথে অসম্রমজনক কোন আচরন করে, তাহলে উক্ত ব্যক্ত ১ বছরের কারাদণ্ডে দন্ডিত হবেন এবং অর্থ দন্ডে দন্ডিত হবে।

যদিও "দন্ডবিধি" এবং "নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে" অপরাধ ও সাজার বিষয়ে বর্নিত রয়েছে।

"দন্ড বিধি,১৮৬০"

ধারা ৩৭৬- নারী ধর্ষনের শাস্তি-যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা যেকোনো বর্ননার কারদন্ড, যার মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। ধারা- ৩৭৭- অস্বাভাবিক যৌন অপরাধ-দশ বছর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড।

"নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০"- ধারা ৭ - নারী ও শিশু অপহরণের শাস্তিঃ যাবজ্জীবন বা অন্যূন ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদন্ড।

ধারা ৯ (১)(২)(৩)(৪)(৫)-ধর্ষনও ধর্ষন জনিত মৃত্যুর শাস্তিঃ মৃত্যু দন্ড ও অর্থদন্ড সহ অন্যান্য শাস্তি।। ধারা ১০- যৌন নিপীড়নের শাস্তিঃ দশ বছর বা অন্যূন তিন বছর সশ্রম কারদন্ড।

Necrophilia একটি মানসিক বিকারগ্রস্থ মানুষের কাজ হলেও যথাযথ আইন প্রনয়ন করে দায়ী ব্যক্তির শাস্তির ব্যবস্থা করা একান্ত আবশ্যক বলে আমি মনে করি। সাথে সাথে মৃত ব্যক্তির শবের নিরাপত্তার লক্ষ্যে যথাযথ কতৃপক্ষ আরো দায়িত্বশীল থাকবেন বলও আশাবাদ ব্যক্ত করি।

লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

ঢাকাটাইমস/১৬এপ্রিল/এসকেএস

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
দেশের অর্থনীতি গভীর চাপে: নাহিদ ইসলাম
শ্রেষ্ঠ কৃষক পুরস্কার' চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্বাধীনতা পরিষদের নতুন কমিটি গঠন
নতুন বাজেট বাস্তবায়ন করে মানুষের ভাগ্য বদলাতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা