ধর্ষণে সহযোগীর সঙ্গে কিশোরীর বিয়ে!

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
| আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২১, ২১:২৪ | প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১৭:৪৭

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী। সোমবার নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের চেচুয়াজানী গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। হেলাল মাস্টারের নেতৃত্বে শালিস বৈঠকে জরিমানার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করে ধর্ষণে সহযোগী এক যুবকের সাথে জোর করে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা পাঁচজনকে আসামি করে নাগরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এলাকা বলছে, ইরতা গ্রামের ডিভোর্সী মেয়ের সাথে চেচুয়াজানী গ্রামের নুর আলমের মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্পর্কের টানে গত শুক্রবার সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় অটোযোগে নুর আলম ও তার সহযোগীসহ ঘুরাফেরা করে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে চেচুয়াজানী গ্রামের রাব্বেলের সেলো মেশিন ঘরে নুর আলম তার চার বন্ধুর সহযোগিতায় মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। রাত গভীর হলে নুর আলম মেয়েটিকে রাস্তায় রেখে পালিয়ে যায়। পরের দিন সকালে মেয়েটি কোন উপায় না পেয়ে বিয়ের দাবিতে নুর আলমের বাড়িতে অবস্থান করে। তিন দিন ওই বাড়িতে অবস্থান করার পর মেয়ের বাবা নাগরপুর থানায় একটি অভিযোগ করে। ইতোমধ্যে নুর আলমের সাথে মেয়েটির আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

চেচুয়াজানী গ্রামের অতি উৎসাহী হেলাল মাস্টার, হাকিম মিয়া ও সাবেক মেম্বার বাদশাসহ মাতাব্বররা মেয়ের বাবাকে চাপ প্রয়োগ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করে। গত সোমবার রাত ১১টার দিকে চেচুয়াজানীর শুক্কুন মিয়ার বাড়িতে মাতাব্বর হেলালের নেতৃত্বে শালিস বৈঠক হয়। অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত দোষীকে আড়াল করে শালিস হয়। বৈঠকে চেচুয়াজনী গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে নুর আলমকে এক লাখ টাকা এবং ধর্ষণে সহযোগিতা করায় বাদল মিয়ার ছেলে মনির, রহিম মিয়ার ছেলে রাব্বেল, সেলিম মিয়ার ছেলে নাছির ও বাবুল মিয়ার ছেলে রমেজকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এদের মধ্যে বাবুল মিয়ার ছেলে রমেজ অতিশয় দরিদ্র ও নীরিহ হওয়ায় জরিমানার টাকা দিতে অপারকতা প্রকাশ করে। রমেজের পরিবার জরিমানার টাকা দিতে না পারায় মাতাব্বররা জোর করে মেয়েটিকে রমেজের সাথে বিয়ে দেন। জরিমানার সম্পূর্ণ টাকা মেয়েকে দেবার কথা থাকলেও মাত্র এক লাখ টাকা রমেজের বড় ভাই মিজানের হাতে তুলে দেন কথিত মাতাব্বররা।

রমেজের বড় ভাই মিজানুর বলেন, আমার ভাই এই ধর্ষণের সাথে জড়িত না। শুধু নুর আলমের সাথে থাকার কারণে এবং আমাদের দরিদ্রতার সুযোগে মেয়েটিকে আমার ছোট ভাইয়ের সাথে জোর করে বিয়ে দেন। জরিমানার সব টাকা দেবার কথা থাকলেও আমার হাতে মাত্র এক লাখ টাকা ধরিয়ে দেন। বাকি টাকার জন্য যোগাযোগ করা হলে বিভিন্ন তালবাহানা দেখায়।

ভুক্তভোগীর পিতা বলেন, বিষয়টি জানাজানি হলে আমি নাগরপুর থানায় একটি অভিযোগ করি। পরে চেচুয়াজানী গ্রামের মাতাব্বররা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শালিস বৈঠক করে। আমার মেয়েকে রমেজের সাথে বিয়ে দেন। তবে কার কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে, তা আমাকে জানায়নি।

বৈঠকে নেতৃত্ব প্রদানকারী হেলাল মাসার বলেন, ওই শালিসে আমি উপস্থিত ছিলাম না। এলাকার মানুষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে কথা বলছে।

অভিযোগের তদন্তকারী এসআই মো. আরফান খান বলেন, অভিযোগ পেয়ে তদন্তের জন্য আমি ঘটনা স্থলে যাই। বিষয়টি সমাধানের জন্য এলাকবাসী সময় নেন। পরে রমেজের সাথে মেয়েটিকে বিয়ে দিয়েছে বলে আমাকে জানানো হয়।

(ঢাকাটাইমস/২৩এপ্রিল/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত