বিএসএমএমইউতে করোনা পরবর্তী জটিলতা ও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০২১, ২০:৩০

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ‘কোভিড-১৯ কমপ্লিকেশনস ইনক্লুডিং ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার বেলা ১১টার সময় বিএসএমএমইউর এ ব্লক অডিটোরিয়ামে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ।

সেমিনারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের বিভিন্ন জটিলতাসমূহ নির্ণয় ও রোগীদের জীবন বাঁচাতে উত্তরণের উপায়সমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সেমিনারে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী মহামারি সৃষ্টিকারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নানা জটিলতা দেখা যাচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে নিউমোনিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের নানা জটিলতা, পালমোনারি এম্বলিজম, শরীর বা স্বাস্থ্য ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে মানসিক অবসাদ, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, ডায়রিয়া, তীব্র মাত্রার মানসিক সমস্যা, ডায়াবেটিস জনিত সমস্যা, হার্ট অ্যাটাকসহ হৃদরোগ জনিত সমস্যা, কিডনি ফেইলিউর, ব্রেন স্ট্রোকজনিত নানা জটিলতা, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসসহ বিভিন্ন ধরনের ফাঙ্গাসের সংক্রমণজনিত জটিলতা ইত্যাদি। এছাড়া বিশ্বব্যাপী অনেক অজানা জটিলতাসমূহও ধরা পড়ছে। এ অবস্থায় রোগীদের জীবন বাঁচাতে দ্রুততার সাথে যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। সেমিনারে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ফলোআপ চিকিৎসার আওতায় থাকা উচিত। বিএসএমএমইউয়ে পোস্ট কোভিড ফলোআপ ক্লিনিক চালু রয়েছে। সেখানে তারা কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত পরবর্তী জটিলতাসমূহের চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন। বিএসএমএমইউয়ে করোনা ভাইরাস নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় অচিরেই ভ্যাকসিনের স্বল্পতার সমস্যার সমাধান হবে। বাংলাদেশের করোনা ভাইরাস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এ নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ নাই। ভ্যাকসিন গ্রহণ, পরিস্কার মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নাই। ভারতের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধে লকডাউনের পাশাপাশি যারা ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে তাদের অবশ্যই কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নানা ধরনের জটিলতা দেখা যায়। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এমন রোগীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের জটিলতাও বেশি দেখা যাচ্ছে। কারো স্মৃতি শক্তি লোপ পায়, দৃষ্টি শক্তি হ্রাস পায়, কখনও নাক দিয়ে রক্ত পড়ে, দুই একজনের হলেও বর্তমানে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এসকল বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি যেমন জরুরি তেমন নানা জটিলতায় ভোগা রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের পারস্পরিক জ্ঞানের আদান-প্রদান, অভিজ্ঞতা বিনিময়, নিরন্তর গবেষণা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নাই। তাই এই ধরনের সেমিনার-সিম্পোজিয়াম যত বেশি হবে সেটাই দেশ ও বিশ্ববাসীর জন্য মঙ্গলজনক।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) একেএম মোশাররফ হোসেন। প্যানেল এক্সপার্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান আবু নাসের রিজভী, ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান তছলিম উদ্দিন, যুক্তরাজ্যের ইস্ট কেন্ট হসপিটালস ইউনিভার্সিটির নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ সাকেল। কি নোট স্পিকার হিসেবে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুল আহসান, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফজলে রাব্বি চৌধুরী, কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রায়হান মাসুম মন্ডল।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অটোল্যারিংগোলজি হেড এন্ড নেক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন সিদ্দিকী। মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শহীদুল্লাহ। সেমিনারে বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) জাহিদ হোসেন, ডেন্টাল অনুষদের ডিন মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, সার্জারি অনুষদের ডিন ছয়েফ উদ্দিন আহমেদ, নার্সিং অনুষদের ডিন মোহাম্মদ হোসেন, রেজিস্ট্রার এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর হাবিবুর রহমান দুলালসহ শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন নিলেন ১৬৫ জন

এদিকে বিএসএমএমইউর কনভেনশন সেন্টারে আজ রবিবার মোট ১৬৫ জন কোভিড ১৯ এর দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন। গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৬৪ জন এবং আজ রবিবার ১৩ জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ৪৫ হাজার ৮২৯ জন। এদিকে বেতার ভবনের পিসিআর ল্যাবে আজ রবিবার ১৩ জুন পর্যন্ত এক লাখ ৫০ হাজার ২২৮ জনের কোভিড-১৯ টেস্ট করা হয়েছে। বেতার ভবনের ফিভার ক্লিনিকে আজ রবিবার ১৩ জুন পর্যন্ত এক লাখ ১০৬ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। অন্যদিকে করোনা ইউনিটে আজ রবিবার ১৩ জুন সকাল আটটা পর্যন্ত ৯ হাজার ২০৩ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজার ৯৪ জন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১২ জন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ৮৪ জন রোগী এবং আইসিইউতে ভর্তি আছেন ১২ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১১ জন।

(ঢাকাটাইমস/১৩ জুন/এএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :