এ বছরই দলীয় বিপ্লব ঘটানোর ঘোষণা নাসিমের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ১৯:০৪ | প্রকাশিত : ০১ আগস্ট ২০২১, ১৮:১৪

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতীকী আদালত বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন কামরুল হাসান নাসিম। নিজেকে বিএনপির পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা দাবি করা নাসিম বলেছেন, ‘বিএনপিকে পুনর্গঠনের জন্য বিগত ২০ বছরের মধ্যে বেঁচে থাকা কাউন্সিলরদের ভোটে কাউন্সিলের মাধ্যমে শীর্ষ নেতা নির্বাচন করা হবে। এই বছরের মধ্যেই দলীয় বিপ্লব করা হবে।’

রবিবার ভার্চুয়ালি এক সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করে একথা বলেন কামরুল হাসান নাসিম। তার দাবি, বিএনপি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে দূরে সরে গেছে।

নাসিম বলেন, ‘এই বছরের মধ্যেই দলীয় বিপ্লব করা হবে। আগস্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে প্রতীকী উচ্চ আদালত বসানো হবে।’

কথিত এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আর কোনো মহড়া নয়। রাতের আঁধারে নয়, কোনো একটি সকালে আমি তা করে দেখাব। পরে গ্রহণযোগ্য সময়ে কাউন্সিল করা হবে। বিগত ২০ বছরের মধ্যে বেঁচে থাকা কাউন্সিলরদের ভোটে শীর্ষ নেতাকে বাছাই করা হবে।’

বিভিন্ন সময় প্রতীকী আদালত স্থাপন, হরতাল, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নাসিমের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

নাসিম বলেন, ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি বিএনপি পুনর্গঠনের কথা বলেছিলাম। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান মশিউর রহমান যাদু মিয়াদের নিয়ে যে বিএনপি গঠন করেছিলেন তা আজ দুর্বল, মানহীন ও উত্তরসূরিদের কাছে নিরাপদ নয়। ফলে দলটি জাতীয়তাবাদী হিসেবে মেলে ধরতে পারছে না। তাই দলকে পুনর্গঠন করতে হবে।

বিগত দিনে বিএনপি পুনর্গঠনের দাবিতে কামরুল হাসান নাসিমের পক্ষ থেকে পালন করা কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। নিজের কর্মী-সমর্থকদের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার বিষয়েও তুলে ধরেন তিনি। কামরুল হাসান বলেন, ‘বিএনপির পাঁচটি অসুখ হয়েছে বলে নিজেকে একজন ওষুধওয়ালা হিসেবে দলকে ঢেকে সাজানোর উদ্যোগে যাই। অসুখগুলো হলো, দলটি জাতীয়তাবাদী থেকে জামায়াতেবাদী হয়ে পড়েছে, নাশকতাকে রাজনীতির হাতিয়ার করা হচ্ছে, বিদেশি শক্তির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, জনস্বার্থ সংরক্ষণে রাজনীতি করা হচ্ছে না এবং দল পরিচালনায় বেগম জিয়া ও তারেক রহমান ব্যর্থ। দলের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে দলে একজন জিয়াউর রহমানের মতো নেতৃত্বের তাগিদ রাখি। যিনি গণতান্ত্রিক উপায়ে দলের হাল ধরবেন।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই করার জন্য বিএনপি এখন সুসংহত অবস্থায় নেই। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি মানুষের জন্য কী করতে পারবে, সে হোমওয়ার্ক নেই। আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার মতো শক্তিশালী নেতৃত্ব পেয়েছে। কিন্তু বিএনপির শেখ হাসিনা কোথায়? এ ছাড়া বিএনপি জনস্বার্থ ইস্যুতে রাজনীতিটা করতে পারছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন কামরুল হাসান।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোর করে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি ও গৃহিণী খালেদা জিয়া ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। সবকিছু পুত্রের কথায় চলবে না।

কামরুল হাসান বলেন, বিএনপিতে জিয়াউর রহমানকে সামনে রেখে রাজনীতি করতে হবে। খালেদা জিয়াকে রেখেই দল পুনর্গঠন করতে হবে। তবে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই নতুন নেতৃত্বের কথা বলেন কিন্তু বিএনপিতে সেটা নেই কেন? এ ছাড়া তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে সজ্জন ব্যক্তি উল্লেখ করে তাঁকে সামনে রেখে বিএনপি পুনর্গঠন করার কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে কামরুল হাসান বলেন, ‘বিএনপির বর্তমান অকার্যকর রাজনীতির কারণে সারা দেশের নেতা-কর্মীরা বলি হচ্ছেন। কিন্তু আজকের বেগম জিয়া সরকারের সঙ্গে আপস করে নিজ গৃহে থাকার সুবিধা নিয়ে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দলের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে একজন তারেক রহমান সুদীর্ঘ সময় নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করে এখনো মানি মেকিংয়ে আছেন এবং আরামে আছেন। তাঁর মনোনয়ন-বাণিজ্য চলছে।’

সরকারের উদ্দেশে কামরুল হাসান বলেন, ‘আপনারা খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তির জন্য চিন্তা করুন। সেটা বৃহৎ রাজনৈতিক কারণে। আর যদি আইনের গতিতে সবকিছু চলতে থাকে, তবে তাঁর আজকের পরিণতির জন্য বলব, এটিই প্রকৃতির বিচার। কারণ, তিনি অপরাধীও।’

(ঢাকাটাইমস/০১আগস্ট/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :