হত্যাসহ নানা অপকর্মে তারা বাবু, আছে অস্ত্র ভাণ্ডার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ২০:৩৯ | প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ২০:৩৭

চরমপন্থী সংগঠন ‘গণমুক্তি ফৌজের’ কুষ্টিয়া অঞ্চলের শীর্ষনেতা ছিলেন নুরে আলম ওরফে তারা বাবু। সন্ত্রাস, হত্যা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ভূমিদস্যুতাসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন তিনি। তার রয়েছে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী ও অস্ত্র ভাণ্ডার। বিশেষ করে সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে দরপত্র আহ্বান করা হলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী ওইসব অফিস এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দেয়।

খুলনা অঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসী মুকুলের নির্দেশে শিক্ষা, এলজিআরডি, বিএডিসি, সড়ক ও জনপথ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, গণপূর্ত বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি করত এই বাবু। ঠিকাদারির আড়ালে এই বাবু শীর্ষ সন্ত্রাসী মুকুলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।

ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে কুষ্টিয়ায় অভিযান চালায় এলিট ফোর্স র‌্যাব। শহরের থানাপাড়ার বাড়িতে অভিযানে বেশ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বাবু জানিয়েছেন- শীর্ষ সন্ত্রাসী মুকুলের হয়ে কুষ্টিয়া অঞ্চলের সবধরনের টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। এছাড়া তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী মুকুলের অস্ত্র ভাণ্ডার তদারকি করতেন বলে র‌্যাবকে তথ্য দিয়েছেন।

এছাড়া সম্প্রতি কুষ্টিয়া শহরের একটি মসজিদের নির্মাণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শীর্ষ সন্ত্রাসী মুকুলের ভয় দেখিয়ে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন তারা বাবু।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তারা বাবুকে রাজধানী আদাবর রিং রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব বলছে, অভিযানের সময় নূরে আলম ওরফে তারা বাবুর সঙ্গে থাকা কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে যায়। পরে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব জানতে পারে, সন্ত্রাসী মুকুল তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য তারা বাবুর মাধ্যমে বিভিন্ন উঠতি বয়সী যুবক ও সন্ত্রাসীকে অস্ত্র সরবরাহ করে থাকেন। র‌্যাব বাবুর থানাপাড়ার বাড়িতে তল্লাশি করে একটি এসএমসি, একটি একনলা বন্দুক, একটি পিস্তল, একটি রিভলভার ও ১৮টি গুলি উদ্ধার করে।

জানা গেছে, গণমুক্তি ফৌজের প্রধান ও বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিনুল ইসলাম মুকুলের প্রধান সহযোগী ছিলেন নুরে আলম ওরফে তারা বাবু। তাকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এই তারা বাবু শীর্ষ সন্ত্রাসী মুকুলের হয়ে কুষ্টিয়ায় সবধরনের টেন্ডারবাজি এবং চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতেন। কোন সরকারি অফিস বা কর্মকর্তা নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাজ (টেন্ডার) না দিলে দেওয়া হতো হুমকি। অনেক সময় সন্ত্রাসী মুকুলের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়া হতো। বলত ‘ম্যান কথা বলবে’।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, তারা বাবুর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে পারত না। তার বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা এবং অসংখ্য জিডি রয়েছে। তার মাধ্যমে হত্যার শিকার পরিবারগুলোকে প্রাণনাশের হুমকি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মুকুলের ভয় দেখিয়ে মামলা থেকে বিরত রাখত।

যত হত্যায় জড়িত তারা বাবু

কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা ঠিকাদার হাবিব হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী নুরে আলম বা তারা বাবু। এই বাবু কুষ্টিয়া মডেল থানার সামনে বসে ঠিকাদার হাবিবকে রেকি করেন এবং টাক আলম হাবিবকে গুলি করে হত্যা করেন। আলোচিত ভিপি শহীদ হত্যার পরিকল্পনাকারীও ছিলেন বাবু। অভিযোগ আছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিনুল ইসলাম মুকুলের নির্দেশে টাক আলম ও তারা বাবু ভিপি শহীদের বাড়ির সামনে থেকে তাকে গুলি করে হত্যা করে। এই হত্যার রেকিতেও ছিল বাবু।

এছাড়া কুষ্টিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিনুল ইসলাম মুকুলের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু চেয়ারম্যানকে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও বাবু জড়িত ছিলেন।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, জনপ্রিয় যুবলীগ নেতা জামুকে শহরের হাউজিং এলাকা থেকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এই হত্যার নির্দেশদাতা ছিলেন সন্ত্রাসী মুকুল। আর হত্যার প্রধান পরিকল্পনায় ছিলেন র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার তারা বাবু। তাছাড়া কুষ্টিয়ার যুবলীগ নেতা হেলাল উদ্দিন মদন হত্যায় তারা বাবুর যোগসাজশ ছিল। এছাড়া কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের হাউজিং মোড়ে তৎকালীন বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম দুলালকে টাক আলমসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী গুলি করে হত্যা করে। মুকুলের বন্ধু কাস্টমস মোড়ের আলিম ও তারা বাবুর পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড সফল হয়।

সূত্র বলছে, পিটিআই রোডে আরেকটি হত্যার ঘটনা ঘটে। ঠিকাদার নাসিরকে মুকুলের নির্দেশে আলিম ও তারা বাবুর নেতৃত্বে হত্যা করা হয়। কালিশংকরপুরের ব্যবসায়ী ফয়েজকে হত্যার ঘটনায় প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন তারা বাবু। তার রেকিতেই সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ী ফয়েজকে হত্যা করে। তাছাড়া ঠিকাদার নান্নু হত্যার মূল পরিকল্পনায়ও ছিলেন এই নুরে আলম তারা বাবু। শহরের মজমপুর ঝাউতলা মোড়ে সন্ত্রাসীরা ঠিকাদার নান্নুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে।

ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর মোড়ে আওয়ামী লীগ নেতা সুবোধ কুন্ডুকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়। টেন্ডার নিয়ে বিরোধে তারা বাবুর নির্দেশে সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্সদের হত্যা

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার আলোচিত এই ঠিকাদার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সোর্স হত্যার সঙ্গে জড়িত। সে সময় র‌্যাবের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন আলী ও বাদশা। সন্ত্রাসী মুকুল বাহিনী বাড়ি থেকে তাদের ধরে ভাদালিয়া বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। এই হত্যার ঘটনায় তারা বাবু প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এছাড়া কুষ্টিয়ার লক্ষীপুরে র‌্যাব ও পুলিশের সোর্স রানাকে হত্যা করে মরদেহ বিশ টুকরো করে বস্তায় ভরে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছিল।

(ঢাকাটাইমস/২৫অক্টোবর/এসএস/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :