সব খরচের কথা বলতে চান না শিল্পকলার মহাপরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি ২০২২, ১৭:৫৯

‘আমাদের এখানে অনেকগুলো আন্তার্জাতিক প্রোগ্রাম হয়েছে। সেখানে অনেক ধরনের খরচ আছে। সব কথা এখানে বলতে চাই না। একটা বিব্রতকর অবস্থা।’ দুর্নীতি দমন কমিশনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকেদর কাছে একথা বলেন জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (ডিজি) লিয়াকত আলী লাকী।

রবিবার সকালে শিল্পকলা একাডেমিতে আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবেদর জন্য হাজির হলে দুদক মহাপরিচালককে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবদ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

গোপন সেই খরচের কথা না বললে শিল্পকলার এই ডিজি নিজের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেই অভিযোগগুলো এসেছে সেইগুলো অপপ্র্রচারে অংশ।’

ডিজি বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী শিল্পকলার মহাপরিচালক শিল্পকলা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হইবে। আপনারা যেটাকে ২৬ কোটি টাকা বলছেন সেটা ২৬ কোটি না, সেটা ২১ কোটি টাকা।’

দুদেক আয়-ব্যয়ের হিসাবের কথা জানিয়ে ডিজি বলেন, সেই ২১ কোটি টাকার হিসাবও আমি জমা দিয়েছি। তার মধ্যে আট কোটি টাকা ফেরত দিয়েছি। ১৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এই ১৩ কোটি টাকার মধ্যে দেড় কোটি টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স ইত্যাদি। আর ১২ কোটি টাকা বেতন, বোনাস, পৌর কর বাবদ খরচ হয়েছে।

শিল্পকলার ডিজি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের যে শিল্পকলার সচিব মহোদয় ছিলেন তিনি ২০০ নথি পেন্ডিং রেখে চলে গেছেন। আপনারা একটু বিবেচনা করেন, আমার গরীব যে মানুষগুলো তাদের যদি আমি বেতন না দেই, বোনাস না দেই, তাহলেতো তারা ধাপায়া মরবে। প্রত্যেক সংস্থায় ৩০ জুনে বিল-টিল যা থাকে তা পে করত হয়।

ব্যক্তিগতভাবে চেক ইস্যু করেছেন- এমন প্রশ্নে শিল্পকলা মহাপরিচালক বলেন, ব্যক্তিগতভাবে চেক ইস্যু একেবারেই নয়। নিত্য ও সঙ্গীত নির্মাণ করবে সেজন্যই এসব খরচ। আগামী ২০, ২১ ও ২২ জানুয়ারি উৎসব হবে, সেই উৎসবে আপনারা আপনাদের উত্তরটা পেয়ে যাবেন।

অর্থ খরচের বিষয়ে কিছু হিডেন খরছের কথাও বেরিয়ে আসে তার মুখ থেকে। সেই বিষয়ে খোলাখুলি না বলে ডিজি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের বিল পরিশোধ করেছি এক-দেড় কোটি টাকা। আপনারা যদি সত্য ঘটনা উদঘাটনের জন্য দাঁড়ান সেটা হবে আসল জানা। শিল্পকলা একাডেমি গত ৪৭ বছরে ১৫ জনকে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন উপ সচিবকেও সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রবিবার সকাল ১০টায় দুদকের ডাকে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে হাজির হলে দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়ার সমন্বয়ে একটি টিম তাকে টানা চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এর আগে চলতি মাসের ২ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানে দুই সদস্যের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে দুদক। তদারক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিশনের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে।

বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ২৬ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শিল্পকলার এই মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটিও তার বিষয়ে অনুসন্ধানের সুপারিশ করে।

দুদকে আসা অভিযোগ থেকে জানা যায়, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চুক্তিভিত্তিক একজন কর্মকর্তাকে সচিবের দায়িত্ব দিয়ে ২৬ কোটি টাকা উত্তোলন করেনে লিয়াকত আলী লাকী।

তার বিরুদ্ধে একাডেমির পরিষদের সদস্যদের সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না করা, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও এসেছে। তবে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন লিয়াকত আলী লাকী।

শিল্পকলার আর্থিক অনিয়ম অনুসন্ধানে গত ৬ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম স্বাক্ষরিত এক তলবী নোটিশের মাধ্যমে তাকে রবিবার (১৬ জানুয়ারি) হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়। এছাড়া অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ১১ জানুয়ারির মধ্যে দুদককে পাঠানোর নির্দেশ দেয় সংস্থাটি।

দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানান, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যথা সময়েই পাঠিয়েছেন শিল্পকলা মহাপরিচালক লাকী।

(ঢাকাটাইমস/১৬জানুয়ারি/এসআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :