দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আইবিডি রোগে ভুগছেন: ডা. শারফুদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ মে ২০২২, ১৩:০২ | প্রকাশিত : ১৯ মে ২০২২, ১২:৫২

দেশের শিশু-বৃদ্ধ থেকে শুরু করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিসিস-আইবিডি রোগে ভুগছেন বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। তাই রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার বিশ্ব আইবিডি দিবস উপলক্ষে জনসচেতনতা বাড়াতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের উদ্যোগে একটি র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালি শেষে শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পেটের প্রদাহজনিত রোগ আইবিডি নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। দেশের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এই রোগে ভুগছেন। পরিপাকতন্ত্রের এই রোগের মাধ্যমে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। আইবিডি বা পেটের প্রদাহজনিত এই রোগ নিরাময়যোগ্য না হলেও চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং আগেভাগে রোগটি চিহ্নিত হলে ক্যান্সার থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।’

সেমিনারে ‘আইবিডি এক্সপ্রিয়েন্স ইন বিএসএমএমইউ' শীর্ষক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও আইবিডি ফ্রি ট্রিটমেন্ট ক্লিনিকের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. চঞ্চল কুমার ঘোষ। তিনি বলেন, ‘আইবিডি বা ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ হচ্ছে পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহজনিত দীর্ঘমেয়াদী রোগ। এটা প্রধানত দুই ধরণের তা হলো আলসারেটিভ কোলাইটিস ও ক্রোনস ডিজ়িজ। আলসারেটিভ কোলাইটিস শুধুমাত্র বৃহদন্ত্রে হয়ে থাকে আর ক্রোনস ডিজিজ মুখ থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত পরিপাকতন্ত্রের যেকোনো স্থানে হতে পারে। পেটে ব্যাথা, দীর্ঘদিন ধরে পাতলা পায়খানা, ওজন কমে যাওয়া ক্রোনস ডিজিজের প্রধান উপসর্গ।’

অধ্যাপক ডা. চঞ্চল আরও বলেন, ‘রক্তযুক্ত পাতলা পায়খানা হলো আলসারেটিভ কোলাইটিসের প্রধান উপসর্গ। দৈনন্দিন খাবারে শাকসবজি ও ফলমূলের স্বল্পতা, ফাস্টফুড গ্রহণ, অপরিস্কার পরিবেশে খাবার গ্রহণ, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, শারীরিক পরিশ্রম কম করা, স্থূলতা, অল্প বয়সে অতিমাত্রায় এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার, ধূমপান আইবিডি রোগের প্রধান কারণ। এই রোগ প্রধানত পাশ্চাত্যের হলেও বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে এর প্রাদুর্ভাব পূর্বের তুলনায় বেশি। এটা তরুণ ও মধ্য বয়সের রোগ হলেও শিশু ও বৃদ্ধ বয়সেও দেখা দিতে পারে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগে ১৯৯০ সাল থেকে নিয়মিত আইবিডি রোগী দেখা হয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি বৃহস্পতিবার আইবিডি ক্লিনিকে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে এ ধরনের রোগীদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে।’

ডা. চঞ্চল জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত ২৯০ জন ক্রোনস ডিজিজ ও ৩২৭ জন আলসারেটিভ কোলাইটিসসহ মোট ৬১৭ জন আইবিডি রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসা নিয়ে তারা সবাই ভালো আছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে জনসচেতনতার অভাবে আইবিডি রোগ বিলম্বে শনাক্ত হয়। যেমন ক্রোনস ডিজিজের ক্ষেত্রে চার বছর এবং আলসারেটিভ কোলাইটিসের ক্ষেত্রে দেড় বছর পর রোগী জানতে পেরেছেন যে তিনি আইবিডি রোগে আক্রান্ত। কিন্তু যথাসময়ে চিকিৎসা শুরু করার জন্য এই রোগটি আগেভাগেই চিহ্নিত হওয়া উচিত। ডা. চঞ্চল আরও জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইবিডি রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ছাড়াও দরিদ্র তহবিলের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

এবারের বিশ্ব আইবিডি দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘আইবিডি হ্যাজ নো এজ’ অর্থাৎ আইবিডি যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে।

রেডিয়্যান্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের সহায়তায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন), অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. স্বপন কুমার তপাদার, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আনওয়ারুল কবীর, আইবিডি ক্লিনিকের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. চঞ্চল কুমার ঘোষ প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

(ঢাকাটাইমস/১৯মে/কেআর/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :