সুধী সমাবেশে বিশিষ্টজনেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ জুন ২০২২, ১৭:০২ | প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০২২, ১৬:৫৭

দেশের সবচেয়ে বড় যোগাযোগ অবকাঠামোর স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ চ্যালেঞ্জ আর প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রমত্তা পদ্মার বুকে বাংলাদেশের গৌরবের প্রতীক হয়ে দাঁড়ানো পদ্মা সেতুর দ্বার খুলল। আর এই গৌরবের সাক্ষি হতেই সুধী-সমাবেশে যোগ দিয়েছেন মন্ত্রী, সচিব, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষেরা।

শনিবার পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে মাওয়া প্রান্তের মূল অনুষ্ঠানে এবং মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ীতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বিশিষ্টজনেরা যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।

স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, মাহবুব-উল হক হানিফ, বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন, ভারতের হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কাদের সিদ্দিকীসহ অনেক সংসদ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।

আরও ছিলেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সরকারের আমন্ত্রিত অতিথি, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা, কুটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে মাওয়ায় পৌঁছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী মাওয়ার সুধী সমাবেশে অংশ নেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সূচনা সেতুর মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে বক্তব্য রাখেন। এরপর বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতুই নয়, এটা আমাদের মর্যাদা ও সক্ষমতার প্রতীক। এটা আমাদের আবেগ, বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। পদ্মা সেতুর জন্য আমি গর্ববোধ করি। শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতুই নয়, এটা আমাদের মর্যাদা ও সক্ষমতার প্রতীক। এটা আমাদের আবেগ, বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।’

বক্তব্য শেষে সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর ছবি সম্বলিত ১০০ টাকার নোট ও স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। পরে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সেতুর প্রথম টোল দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ম্যুরাল ও ফলক উন্মোচনের স্থানে যান তিনি।

সেখানে মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। পরে বেলা ১২টার দিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচন করেন সরকারপ্রধান।

পরে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর ওপর দিয়ে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের উদ্দেশে রওনা হয়। সেতু পাড়ি দেয়ার সময় মাঝপথে বিরতি দেয় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর। সেতুর ১৬ নম্বর স্প্যান এলাকায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার সঙ্গীরা ছবি তুলেন এবং বিমান বাহিনীর ফ্লাইং ডিসপ্লে উপভোগ করেন।

পরে সেতু পাড়ি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সাড়ে ১২টার দিকে গাড়িবহর জাজিরা প্রান্তে পৌঁছায়। সেখানে মোনাজাতের পর ১২টা ৪০ মিনিটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-২ উন্মোচন করেন সরকারপ্রধান।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরে আলম চৌধুরীসহ অতিথিরা।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। সেখানে মুহুর্মুহু স্লোগান ও কড়তালিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান লাখো জনতা। পরে কাঁঠালবাড়িতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এই সমাবেশে ১০ লাখ লোক জমায়েতের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে ভোর থেকেই দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা ছাড়াও মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা ও অন্যান্য জেলা থেকেও বাস, আর লঞ্চে করে মানুষ আসতে শুরু করে। উৎসবস্থলে ভোর থেকেই জমায়েত হতে শুরু করে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মোট ৪১টি স্প্যানের মধ্যে প্রথমটি বসে সেতুর পিয়ারে। তখনই দৃশ্যমান হয় সেতুর কিছু অংশ। আর ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর শেষ স্প্যান বসানোর মাধ্যমে সংযুক্ত হয় মাওয়া-জাজিরা প্রান্ত।

২০২১ সালে পদ্মা সেতুতে পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়। আর গত ৪ জুন সেতুর ল্যাম্পপোস্টে প্রথমবারের মতো জ্বলে বাতি। ৯ জুন পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

এখন দেশের ইতিহাসে অসামান্য অর্জন এই সেতুটি খুলে দেওয়ার পর খুলেছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। আর পথরেখা ধরে উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন পূরণের অভিযাত্রায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

(ঢাকাটাইমস/২৫জুন/কেআর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :